ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

চীনের কাছে কোন দেশের কতো ঋণ?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০১৯ সোমবার, ০৬:৫৪ পিএম
চীনের কাছে কোন দেশের কতো ঋণ?

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীন ঋণের জালে জড়িয়ে বিভিন্ন দেশকে ফাঁদে ফেলছে বলে অভীযোগ শোনা যাচ্ছে বহুদিন ধরেই। চীনের এই ফাঁদকে ‘ডেট ট্র্যাপ ডিপ্লোমেসি’ বলেও অভিহিত করছে পশিমা বিশ্বই। কিন্তু চীনের কাছে বিভিন্ন দেশের ঋণের পরিমাণটা ঠিক কত তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছেই না। কারণ বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন রকম কথা বললেও চীন এটা নিয়ে বরাবরই নিশ্চুপ। কোন দেশে কত চীনা ঋণ রয়েছে তা নিয়েই বিভিন্ন গবেষণাও পরিচালিত হয়েছে। এখানে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে সম্ভাব্য চীনা পরিমান তুলে ধরা হলো-

পাকিস্তান

পাকিস্তান চলতি আর্থিক বছরেই চীনের কাছ থেকে ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। গত ১০ মাসে তাদের মোট বৈদেশিক ঋণের যা পরিমাণ, তার তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি এসেছে চীন থেকে।

ভারত

এশিয়ায় চীনের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ভারতও চীনা ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। চীনা স্পনসর্ড এশিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে ভারত। গত বছর ভারত ওই ব্যাংক থেকে দেড়শ’ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে বলে জানা যায়। আরও তিনশ’ কোটি ডলারের ঋণ পাইপলাইনে রয়েছে। ভারত অবশ্য দাবি করছে, এআইআইবি’র প্রধান স্পনসর চীন হলেও এটি চীনা ব্যাংক নয়। এ কারণে এআইআইবি থেকে নেওয়া ঋণকে  ‘চাইনিজ ডেট’ বলতে রাজি নয় দিল্লি।

মালদ্বীপ

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপও চীনা ঋণের ভারে জর্জরিত। চীনের কাছে তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলারের বেশি। মালদ্বীপের অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আমিরকে উদ্ধৃত করে গত বছরের ডিসেম্বরে এ তথ্য জানিয়েছে নিক্কে এশিয়ান রিভিউ।

শ্রীলঙ্কা

চীনা ঋণ শোধে ব্যার্থ হয়ে শ্রীলঙ্কা গত বছর তাদের হামবানটোটা বন্দরকে চীনের কাছে লিজ দিতে বাধ্য হয়। প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের আমলে ২০০৮ থেকে ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার মোট বিদেশি ঋণের ৬০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার মোট বিদেশি ঋণের ১০ শতাংশ চীনা ঋণ। হামবানটোটা বন্দর নির্মাণের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে শ্রীলঙ্কা যে ঋণ নিয়েছিল তার জন্য প্রতিবছর যে টাকা শোধ করতে হচ্ছে, সেটা শ্রীলঙ্কার মোট বার্ষিক ঋণ পরিশোধের প্রায় ৫ শতাংশ।

নেপাল

নেপালে গত বছর কে পি শর্মা ওলি’র নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুরনো বন্ধু দিল্লিকে পাশ কাটিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকছে কাঠমান্ডু। প্রধানমন্ত্রী ওলি গত বছরের জুনে বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের সঙ্গে ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের আর্থিক সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অনেক কিছুই আছে। ট্রান্স হিমালয়ান রেলওয়ের (যা বেল্ট রোডের অংশ) দিকেও তাকিয়ে আছে নেপাল। চীন এই প্রকল্পের পুরো টাকাটা অনুদান হিসেবে দিক, সেটাই চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে চীন বলছে, তারা খুব সহজ শর্তে ঋণ দিতে পারে, কিন্তু অনুদান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপাল যদি ট্রান্স হিমালয়ান রেলওয়ে প্রকল্পে চীনের থেকে ঋণ নিয়েই থাকে তাহলে তারা আদৌ সেটা শোধ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।  

বাংলাদেশ 

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৬ সালে যখন বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, তখন দ্বিপাক্ষিক স্তরে প্রায় ২৬ কোটি ডলারের আর্থিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল। অনেক দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেই তখন বলা হয়েছিল, ঢাকায় এসে ব্ল্যাংক চেক লিখে দিয়ে গেছেন তিনি। তবে চীনের আর্থিক সহায়তার বেশিরভাগটাই যে ছিল সহজ শর্তে ঋণ, তা ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে। বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই  ৫৭০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে বলে জানা যায়। এই ঋণের অর্থে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে পদ্মা ব্রিজ রেলওয়ে লিংক, দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ লাইন, কর্ণফুলীর নিচে টানেল, টেলিকম খাতের আধুনিকীকরণ উল্লেখযোগ্য।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি