ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

ভারতের চন্দ্রাভিযান এবং গরীবের ঘোড়া রোগ

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯ সোমবার, ০৫:১৫ পিএম
ভারতের চন্দ্রাভিযান এবং গরীবের ঘোড়া রোগ

ভাবুন তো একটু, একলোক যার আয় সীমিত, সন্তানদের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। অথচ তিনিই কিনা সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়লেন। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের নেশায় তিনি এতটাই মত্ত হয়ে পড়লেন যে, বাড়িতে অভুক্ত সন্তানগুলোর দিকে ফিরেও তাকালেন না। ভারতকে এই কাণ্ডজ্ঞানহীন পিতার সঙ্গেই তুলনা করছেন অনেকে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই মহাকাশ অভিযানে আটঘাট বেঁধে নেমেছে ভারত। এর পেছনে বিপুল পরিমান অর্থও ব্যয় করছে তারা। আজই যেমন চাঁদের উদ্দেশ্যে একটি রকেট উৎক্ষেপণ করার কথা ছিল তাদের। কিন্তু শেষ মূহুর্তে গিয়ে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি আটকে যায়। বলা হচ্ছে, এবারের চন্দ্রাভিযানে যেই রকেটটি পাঠানোর কথা ছিল সেটির জন্য খরচ হয়েছে মাত্র ১৪ কোটি ডলার। এটা এতই কম টাকা যে হলিউডের সাম্প্রতিক ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স এন্ড গেম’-এর বাজেটও ছিল এর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে দেশে শতকরা ৭৮ জন মানুষ গড়ে প্রতিদিন ২০ রুপিও খরচ করতে পারে না, সেখানে ১৪ কোটি ডলার কি একেবারেই ফেলনা? তাছাড়া ১৪ কোটি ডলার মানে যে শুধুই ১৪ কোটি ডলার তা কিন্তু নয়। ভারত সরকার যে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে তা হলো, চন্দ্রাভিযানে যে রকেটটি পাঠানো হচ্ছে তার খরচ ১৪ কোটি ডলার। এর সঙ্গে যদি অন্য খরচগুলোও যোগ করা হয় তাহলে চন্দ্রাভিজানের মোট খরচটা নিঃসন্দেহেই কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। যে দেশে লক্ষ লক্ষ শিশু ক্ষুধা নিয়েই দিন শুরু করে এবং ক্ষুধা নিয়েই ঘুমাতে যায় সে দেশে এ ধরণের অভিযানের নামে সামান্যতম খরচও কি অপব্যয় নয়? তাছাড়া এই চন্দ্রাভিযান থেকে ভারতের প্রাপ্তিটা কি সেটাও এক বড় প্রশ্ন।

২০০৮ সালে চাঁদে চন্দ্রযান-১ নামে যে মহাকাশ যান পাঠিয়েছিল ভারত সেটি চাঁদের মাটি স্পর্শই করেনি। তবে রাডার ব্যবহার করে চাঁদে পানির অস্তিত্ব পাওয়ার দাবি করেছে তারা। আর এবারের চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণ করার আগেই সেটা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটকে গেল। ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মিশন যে শুধু চাঁদেই আটকে থাকছে তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বিপুল অর্থ ব্যয়ে এমন আরও বহু অভিযান চালাচ্ছে তারা। কিন্তু এই অভিযানগুলো থেকে লক্ষ লক্ষ অভুক্ত ভারতীয়র কতটুকু লাভবান হচ্ছে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি