ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

চন্দ্রজয় নিয়ে যত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৯ রবিবার, ০৫:২৩ পিএম
চন্দ্রজয় নিয়ে যত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

প্রথম মানুষ হিসেবে নিল আর্মস্ট্রং চাঁদে পা রাখার পর অর্ধশতাব্দি পেরিয়ে গেছে। কিন্তু চন্দ্রযান অ্যাপোলো-১১ এ করে নিল আর্মস্ট্রংদের সেই অভিযান নিয়ে সন্দেহ কাড়েনি আজও। নিল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিনরা সত্যিই চাঁদের মাটিতে নেমেছিলেন কি না, তা গত ৫০ বছর ধরেই চলছে নানা তর্ক-বিতর্ক। চন্দ্রজয়ের যেসব ছবি ও ভিডিও নাসা প্রকাশ করেছিল সেগুলো সত্য নাকি ধাপ্পা সেই চর্চা অব্যাহত আছে আজও। মজার বিষয় হলো, খোদ যুক্তরাষ্ট্রও চন্দ্রাভিযানের সত্যতা নাকচ করে দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি উপদেষ্টা বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডেভিড গেলার্নটার এক সময়ে ঘোষণা করেছিলেন চাঁদের মাটিতে নাকি পা-ই রাখেননি নিল আর্মস্ট্রং। বিশ্বের নানা দেশের বিজ্ঞানীমহলও দাবি করেছিলেন নাসার চন্দ্রাভিযান একটা ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে টপকে যেতেই চান্দ্রজয়ের নাটক মঞ্চস্থ করেছিল যাক্তরাষ্ট্র। এসব দাবির পক্ষে পণ্ডিতরা বিভিন্ন তত্ত্বকথাও তুলে ধরেছিল। চন্দ্রজয় নিয়ে কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্বই আজ তুলে ধরা হলো-

বাতাসহীন চাঁদে পতাকা উড়লো কীভাবে


নাসার প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গিয়েছিল নিল আর্মস্ট্রং আর বাজ অলড্রিন চাঁদে যে পতাকাটি পুঁতেছিলেন সেটা উড়ছে। সন্দেহবাদীরা বলেন, চাঁদে তো বাতাস নেই, তাহলে সেখানে মার্কিন পতাকা উড়লো কেমন করে। তাদের আরও প্রশ্ন, কেন এই ছবিতে চাঁদের আকাশে কোন তারামন্ডল দেখা যাচ্ছে না।

এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে নাকচ করে দেয়ার মতো অনেক বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মাইকেল রিক বলেন, নিল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন যখন পতাকাটি খুঁটি দিয়ে চাঁদের মাটিতে লাগাচ্ছিলেন, তখন সেটি কুঁচকে গিয়েছিল। আর যেহেতু পৃথিবীর তুলনায় চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ছয় গুণ কম, তাই কুঁচকানো পতাকাটি সেরকমই থেকে গিয়েছিল। কোঁচকানো পতাকাটিকেই দেখে মনে হচ্ছিলো সেটা উড়ছে।

চাঁদের আকাশে কেন তারা নেই

চাঁদে যাওয়ার কথা যারা অবিশ্বাস করেন তাদের প্রশ্ন, চাঁদে নিল আর্মস্ট্রংদের ছবিতে আকাশে কোনো নক্ষত্র কেন দেখা যাচ্ছে না?

রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সের অধ্যাপক ব্রায়ান কোবারলিন বলেন, এর কারণ, চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়। সে কারণে ছবিতে এত উজ্জ্বলতা চোখে পড়ছে। আর এই উজ্জল আলোর কারণেই পেছনের আকাশের তারকার আলো ম্লান হয়ে গেছে। এ কারণেই অ্যাপোলো ১১ মিশনের ছবিতে চাঁদের আকাশে কোন তারা দেখা যায় না। কারণ এসব তারার আলো খুবই দুর্বল। আর ক্যামেরার এক্সপোজার টাইমও হয়তো ছিল অনেক বেশি।

নকল পায়ের ছাপ


নিল আর্মস্ট্রং এর বুটের ছাপ নিয়েও আছে সন্দেহ। সন্দেহবাদীদের যুক্তি, চাঁদে কোন আর্দ্রতা নেই। কাজেই বাজ অলড্রিনরা সেখানে যে পায়ের ছাপ রেখে এসেছেন, সেগুলো হওয়ারই কথা নয়।

এর জবাবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো, চাঁদের মাটি এক ধরণের পাথর আর ধূলায় ঢাকা, যার নাম `রেগোলিথ।` এই স্তরটি খুবই ফাঁপা, এবং পা রাখলেই তা ডেবে যায়। আর মাটির কণাগুলো যেহেতু একটার সঙ্গে একটা লেগে থাকে, তাই জুতোর ছাপ পড়ার পর সেটি সেভাবেই থেকে যায়।

চাঁদের বুকে নভোচারীদের এই পায়ের ছাপ থেকে যাবে লক্ষ লক্ষ বছর, কারণ সেখানে যেহেতু কোন বায়ুমন্ডল নেই, তাই কোন বাতাসও নেই।

তেজস্ক্রিয়তায় নভোচারীরা বেঁচে রইলেন কীভাবে?

আরেকটি জনপ্রিয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হচ্ছে, পৃথিবীকে ঘিরে যে তেজস্ক্রিয়তার পরিমন্ডল, সেটিতে নভোচারীদের মারা যাওয়ার কথা। তারা কীভাবে চাঁদে যেতে পারলেন? পৃথিবীকে ঘিরে এই তেজস্ক্রিয় অঞ্চলটিকে বলে `ভ্যান অ্যালেন বেল্ট` এবং সৌর ঝড় আর পৃথিবীর চুম্বকীয় ক্ষেত্রের নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় এই তেজস্ক্রিয়তার সৃষ্টি হয়।

নাসার বিজ্ঞানীরা এর উত্তরে বলেন, অ্যাপোলো-১১ এর ক্রু যারা ছিলেন, চাঁদে যাওয়ার সময় তারা ভ্যান অ্যালেন বেল্টে ছিলেন মাত্র দুই ঘন্টা। আর এই বেল্টের যে অঞ্চলটিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা সবচেয়ে বেশি, সেখানে তারা অবস্থান করেন পাঁচ মিনিটেরও কম। ফলে তাদের ওপর তেজস্ক্রিয়তার সেরকম প্রভাব একেবারেই পড়েনি।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি