ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

বিদেশ-বিভুঁইয়ে কোরবানি যেভাবে

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০১৯ সোমবার, ১২:৩২ পিএম
বিদেশ-বিভুঁইয়ে কোরবানি যেভাবে

দেশ কিংবা বিদেশ, ঈদ-উল-আজহার বড় অংশ জুড়েই থাকে পশু কোরবানির আচার। ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ঈদের নামাজের পর পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে পালন করেন এই ধর্মীয় উৎসবটি। বিশ্বের নানা প্রান্তের কোটি কোটি মুসলিম কোরবানির ঈদ উদযাপন করলেও দেশভেদে কোরবানির পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে। দেশে দেশে পশু কোরবানির রীতি ও পদ্ধতি নিয়েই এই প্রতিবেদন-

সৌদি আরব

সৌদি আরবে পবিত্র হজের পরদিন ঈদুল আজহা পালন করা হয়। ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে (আইডিবি) পশুর নির্ধারিত মূল্য জমা দিয়ে তাদের মাধ্যমেই কোরবানি দেওয়া হয়। হাজিদের একটি অংশ আবার নিজেরাই পশু কোরবানি করে থাকেন। তবে পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান ছাড়া যেখানে সেখানে কোরবানি দেওয়ার নিষিদ্ধ দেশটিতে।

সৌদি আরবে কোরবানির পশুর মধ্যে ছাগল, দুম্বা, উট অন্যতম। দেশটিতে ৭ জিলহজের পর থেকেই পশু কেনা শুরু হয়। আইডিবির তত্ত্বাবধানে সবচেয়ে বেশি কোরবানি হয় মক্কায়।

ইন্দোনেশিয়া

জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। ধর্ম ভীরু হলেও এদের মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামি কম। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উৎসাহ-উদ্দিপনার মধ্যে পালন করা হলেও কোরবানিতে তাদের উৎসবের আমেজ কিছুটা কমই দেখা যায়।

ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত যারা হজ পালন করেছেন শুধুমাত্র তারাই পশু কোরবানি করে থাকেন। দেশটির অধিকাংশ মুসলিম মনে করে থাকেন, যারা হজ করেছেন কেবল তাঁদের ওপরই কোরবানি ফরজ। গরু বা ছাগল কিনে হাজীরা এলাকার মসজিদে দিয়ে দেন। এভাবে একেকটি এলাকার মসজিদে দুই থেকে তিনটি গরু এবং আট দশটি ছাগল জমা হয়। কোরবানিদাতা বেশি মাংস চান কিনা তা কোরবানির আগে জানতে চাওয়া হয়। দেশটির অধিকাংশ হাজীরাই বেশি মাংস দাবি করাটাকে খারাপ চোখে দেখে। তাই কোরবানির মাংসকে সমানভাবে ভাগ করা এলাকার সব বাড়িতে পাঠানো হয়। অনেকে আবার বিনয়ের সঙ্গে এই মাংস ফিরিয়ে দিয়ে তা গরীবদের মাঝে বিতরন করার অনুরোধ করে থাকেন।

ইরাক

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছেও পবিত্র একটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। হযরত আলী, ইমাম হোসেন, ইউনুস নবীসহ আরও অনেক নবীকেই দাফন করা হয়েছে এই ভূখন্ডে। বিখ্যাত কারবালার প্রান্তরও ইরাকেই অবস্থিত। বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানির মাজারের অবস্থানও দেশটির রাজধানী বাগদাদ শহরে। মজার ব্যাপার হলো, মুসলিমপ্রধান এই দেশটিতে পশু কোরবানির চল খুব একটা নেই। যারা কোরবানি দিতে আগ্রহী তাঁরা বড়পীর সাহেবের মাজারে দুম্বা কিংবা ভেড়া দান করে আসেন।

সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর মুসলিমপ্রধান দেশ না হলেও এখানকার জনসংখ্যার ১৩ শতাংশই ইসলাম ধর্মের অনুসারী। দেশটির প্রায় প্রত্যেক এলাকেতেই মুসলিমদের বসবাস রয়েছে।

সিঙ্গাপুরে ঈদুল আজহার তিনমাস আগে কোরবানি পশুর উপর সরকারের ধার্য করা দামসহ নিকটতম কোনো মসজিদের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন করতে হয়। স্থানীয় কয়েকজন জানান, দেশটির সরকার নির্দিষ্ট দিনে মসজিদের কাছে পশু হস্তান্তর করে। যিনি কোরবানি দেন তিনি সামান্য কিছু মাংস নিয়ে বাকিটা মসজিদে দিয়ে দেন।

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অধিবাসীরা প্রতিবছরই দেশটিতে কোরবানি পালন করে থাকেন। তবে যেখানে সেখানে পশু জবাইয়ের প্রচলন নেই দেশটিতে। নিয়ম মেনে ব্যাঙ্কে পশুর মূল্য জমা দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে কোরবানিদাতার বাড়িতে মাংস পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি