ঢাকা, সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কেমন আছে ভারতের সুশীল সমাজ?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৫:০১ পিএম
কেমন আছে ভারতের সুশীল সমাজ?

অনেকেই বলেন, বাংলাদেশের সুশীল সমাজ ভালো নেই। আওয়ামী লীগ সরকার পরপর ক্ষমতায় আসায় তাদের বাকরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে পারছেন না তারা। আসলেই কি তাই? সশীল সমাজ যদি কথা বলতে না-ই পারেন, তাহলে এত এত টকশো, সভা সেমিনার হচ্ছে কীভাবে? এ প্রসঙ্গে অনেকেই ফটোগ্রাফার শহীদুল আলমের উদাহরণ টেনে আনেন। কিন্তু এক্ষেত্রে একটু ভাবা প্রয়োজন যে, শহীদুল আলম কী করেছিলেন। নিজের দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ফেলে দিতে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীর সড়ক দুর্ঘটনা রোধের আন্দোলনকে তিনি আন্তর্জাতিক মাত্রা দিতে চেয়েছিলেন। মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে তিনি দেশকে অস্থিতিশীল প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। যেকোনো প্রসঙ্গে আমরা পাশের ভারতের সঙ্গে নিজেদের তুলনা টেনে আনি। কিন্তু ভারতের সুশীল সমাজ কী অবস্থায় আছে তার খোঁজ কি আমরা রাখি?  

এই যে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করলো ভারত, তা নিয়ে দেশটির কজন সুশীল গলা ফাটিয়েছেন? হাতে গোনা দু’একজন বাদে আর কাউকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। অমর্ত্য সেন, অরুন্ধতি রায়দের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত বুদ্ধিজীবীরা টুকটাক আওয়াজ তুলছেন, কিন্তু সেটা খুবই ক্ষীণ। আর স্বল্প পরিচিত সুশীলরা মুখে কুলুপ এঁটেই বসে আছেন। অবশ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার সুযোগও নেই তাদের। কারণ নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার ফল শুধু জেল-জরিমানা নয় তাঁর থেকেও ভয়াবহ কিছু।

এইতো সপ্তাহখানেক আগেই ভারতের শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিষ্ঠাতা প্রণয় রায় ও তাঁর স্ত্রী রাধিকাকে মুম্বাই বিমান বন্দর থেকে আটক করা হয়। তারা সে সময় বিদেশে যাচ্ছিলেন। দু’বছর আগে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে তাদের বাড়ি এবং অফিসে সিবিআই তল্লাশি অভিজানও চালায়। এই দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুইয়া মামলা করা হয়। ওই মামলায় কোনও প্রমাণও পাওয়া যায়নি। কিন্তু তবুও সিবিআই দু’বছর ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এনডিটিভি সরকারঘেঁষা খবর পরিবেশন করে না, এই অপরাধেই হয়তো সাংবাদিক দম্পতিকে এতো হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।

গত বছর আগস্টের শেষেও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ওপর ব্যাপক ধর পাকড় চালায় ভারত। সেমসয় কবি ভারভারা রাও, প্রাবন্ধিক গৌতম নওলাখা, মানবাধিকার কর্মী সুধা ভরদ্বাজ, অরুণ ফেরেরা ও ভেনন গঞ্জালভেজসহ অর্ধ শতাধিক সুশীল সমাজের প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এদের প্রায় সবার বিরুদ্ধেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

আমাদের দেশের সুশীলদের প্রায়ই দেখা যায়, দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে যোগ দিচ্ছেন, সরকারের সমালোচনা করছেন। কিন্তু ভারতের সুশীলরা সেই সুযোগটাও খুব কমই পান। বিদেশে ভারতীয় অ্যাম্বাসিগুলো সুশীলদের সভা পণ্ড করতে নানা তৎপরতা চালায়।

ভারতে গণমাধ্যমগুলো পর্যন্ত সরকারের সমালোচকদের এড়িয়ে চলে। বলা ভালো, তাদের এমনটা করতে বাধ্য করা হয়। মজার বিষয় হলো, আমাদের দেশের সুশীল সমাজকে নিয়ে অ্যামনেস্টির মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো যেরকম চিন্তিত, ভারতের সুশীলদের ক্ষেত্রে তারা যেন ততটাই নির্লিপ্ত। এর নেপথ্য কারণ হয়তো ভারত সরকারের প্রভাব এবং লবিং। ভারতবাসী এখন সেটাই দেখে, যেটা মোদি সরকার তাদের দেখাতে চায়। তারা এখন ঠিক ততটাই শোনে, যতটুকু মোদি প্রশাসন তাদের শোনাতে চায়।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি