ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঔষধ খেতে দোকানে আহত হনুমান

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০৪:১৪ পিএম
ঔষধ খেতে দোকানে আহত হনুমান

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভুমে ঘটেছে এক অদভূত ঘটনা। মারামারি করে আহত হওয়ার পর ঔষদের দোকানে চিকিৎসা নিয়েছে একটি হনুমান। গেলো শনিবার সকালে মল্লারপুর স্টেশনে ঘটেছে এই ঘটনাটি।

প্রতক্ষদর্শীরা বলছেন, গতকাল শনিবার মল্লারপুর রেলস্টেশনের আশপাশে থাকা দুটা হনুমান ঝগড়া বাঁধে। এসময় আশপাশে অনেক লোকজনও জড়ো হয়েছিল। একপর্যায়ে হনুমান দুটি আহতও হয়। এসময় একটি হনুমান পালিয়ে যায়। অপেক্ষাকৃত বেশি আহত হনুমানটি বেশকিছুক্ষণ ঘটনাস্থলেই বসে থাকে। এসময় ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরছিল।

স্টেশন থেকে কিছুটা দূরেই মল্লারপুর পঞ্চায়েতভবন। সেখানে বেশি কিছু দোকানপাট রয়েছে; যার মধ্যে ওষুধের দোকানও রয়েছে। কিছুক্ষণ পর দর্শনার্থীদের ভিড় ঠেলে হনুমানটি পঞ্চায়েতভবনের দিকে যাওয়া একটি চার্জার অটোরিকশায় (স্থানীয়রা বলেন টোটো) উঠে বসে।

অটোর যাত্রী ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুটা ভরকে গেলে হনুমানটি করুণ দৃষ্টিতে যাত্রীদের গায়ে হাত রেখে বোঝানোর চেষ্টা করে সে আক্রমণ করবে না। এরপর পঞ্চায়েত ভবন সংলগ্ন একটি ওষুধের দোকানের সামনে নেমে পড়ে হনুমানটি।

ওষুধ দোকানের মালিক আনাজুল আজিম বলেন, ‘দোকানের সামনে বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করছিল হনুমানটি। দোকানের ভিড় একটু কমতেই লাফ দিয়ে কাউন্টারে উঠে বসে কোমরের নীচে ও শরীরের অন্য অংশে ক্ষতস্থানগুলো দেখাতে থাকে। আমার হাত ধরে এমন ভাব করে যেন চিকিৎসা চাইছে।’

দোকানে ওষুধ নিতে এসেছিলেন শক্তিপদ মিস্ত্রি নামে স্থানীয় এক যুবক। তিনিও এগিয়ে আসেন জখম হনুমানের ক্ষতে মলম ও ব্যান্ডেজ করায়। ওষুধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেওয়ার পরও ক্ষতস্থানগুলো বারবার দেখাতে থাকায় ওই ওষুধ দোকানদারের মনে হয় ব্যথার জন্য হনুমানটি এমন করছে। পরে একটি কাপে পানি এনে একটি ব্যথানাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয় হনুমানটি। দর্শনার্থীদের কেউ একজন এনে দেয় কলা। কিছুক্ষণ বসে থেকে দোকানমালিকের সহায়তা নিয়ে রাস্তায় নেমে আবারো একটি স্টেশনগামী অটোতে চড়ে বসে হনুমানটি।

উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশে যশোরের কেশবপুরে হনুমানের বাচ্চাকে অন্যায়ভাবে মারায় থানায় এসে হানা দিয়েছিল হনুমানদের একটি দল। সে সময় থানায় থাকা পুলিশ অফিসারদের কাছে এর বিচার দাবি করেছিল। পরবর্তীতে হনুমানদের দলকে কিছু খাবার ও বিচারের আশ্বাস দেওয়ার কিছু সময় পর চলে গিয়েছিল হনুমানগুলো।

বাংলা ইনসাইডার/এসএস