ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তরুণীকে গণধর্ষণের পর পেট্রোল ঢেলে আগুন দিলো ঘাতকরা

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার, ০২:১৮ পিএম
তরুণীকে গণধর্ষণের পর পেট্রোল ঢেলে আগুন দিলো ঘাতকরা

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে সংগঠিত হয়েছে এক নির্মম হত্যাকাণ্ড। তরুণী এক পশু চিকিৎসককে ধর্ষণের পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে অঙ্গার করার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার দুই দিন পর গত কাল ২৬ বছরের ওই তরুণীর আধপোড়া দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দেহ উদ্ধারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই ঘটনায় সঙ্গে জড়িত মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০) নামে চার ব্যক্তিকে আটক করেছে। তারা চার জনই ট্রাকের কর্মী।

কল্লুরু গ্রামের একটি পশু-হাসপাতালে কাজ করতেন তরুণী। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ঘটনার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে প্রথমে গোচিবাওলিতে এক চর্মচিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। নিজের স্কুটারটি শামশাবাদ টোল প্লাজার কাছে রেখে ট্যাক্সি নিয়ে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে তিনি দেখা করতে যান। ফিরে এসে দেখেন, স্কুটারের পিছনের চাকাটি পাংচার হয়ে গিয়েছে।

তরুণী তার বোনকে ফোনে জানিয়েছিলেন, দুই ট্রাকচালক তার আপত্তি সত্বেও স্কুটারটি সারানোর কথা বলে সেটি নিয়ে চলে যায়। তখনই তার বোন তরুণীকে ট্যাক্সি ধরে বাড়ি ফিরে আসার কথা বলেন। সে-ই শেষ কথা। পৌনে ১০টায় বোন আবার ফোন করে দেখেন, মোবাইল বন্ধ। পরের দিন সকালে শামশাবাদের আউটার রিং রোডের আন্ডারপাসের নিচে ওই চিকিৎসকের পোড়া দেহাংশ মেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ টোল প্লাজায় তরুণী চিকিৎসককে স্কুটার রাখতে দেখেই তাকে ধর্ষণের ছক কষেছিল চার অভিযুক্ত। সেখানে বসে মদ খাচ্ছিল তারা। তরুণী ট্যাক্সিতে চলে যেতেই স্কুটারের চাকা ফাঁসিয়ে দেয় নবীন। তরুণী ফিরে আসার পরে আরিফ বলে, চাকা তারা সারিয়ে দেবে। স্কুটার নিয়ে শিবা চলে যায়। তখন আরিফ, নবীন এবং চিন্তকুন্ত টোল প্লাজার কাছেই একটি ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে তরুণীকে। চাকা সারিয়ে ফিরে এসে ধর্ষণ করে শিবাও। তরুণীর মুখ চেপে ধরে আরিফ। তরুণী নিথর না-হয়ে যাওয়া পর্যন্ত মুখ থেকে হাত সরায়নি সে। এর পরে স্কুটারটি নিয়ে কয়েক বোতল পেট্রল কেনে দু’জন। অন্য দু’জন আরিফের লরিতে দেহ নিয়ে যায় আন্ডারপাসে। কিছুটা ডিজেল বার করা হয় তরুণীর স্কুটার থেকেও। এর পরে আন্ডারপাসের এক কোণে দেহ নামিয়ে তেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে পালায় তারা। পরের দিন ভোরে এক দুধ-বিক্রেতা সেখানে দেহটি জ্বলতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ কমিশনার ভি সজ্জনার বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ কাজে এসেছে। এদিকে ওই খুনের ঘটনায় যখন ভারতে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই একই এলাকা থেকে আরও এক নারীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধারে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএস