ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

`বোরকা পরে বাংলাদেশ থেকে এসেছি`

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার, ০৪:১৮ পিএম
`বোরকা পরে বাংলাদেশ থেকে এসেছি`

নতুন নাগরিক আইন (সিএবি) বিল বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য। এই বিল বাতিলের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ‘গণআন্দোলনে’ সাড়া দিয়েছেন পাঞ্জাব, দিল্লি, কেরালা, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা।

সেই ধারাবাহিকতায় নতুন নাগরিক বিল পাসের প্রতিবাদে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী রুপা গাঙুলি। শুক্রবার তার টুইটার একাউন্সে এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন বোরকা পরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছি। এখন কি আমার নাগরিকত্ব থাকবে? পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ এমন টুইটে ভারতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, তা হলে তাকে কি এখন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় শরণার্থী থেকে নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে? যদি করতে হয়, তা হলে এখন তার অবস্থান কী? তিনি কি জনপ্রতিনিধি হয়ে সংসদ বা বিধানসভায় থাকতে পারেন?

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) রাজ্যসভায় পাশ হওয়ার পর শুক্রবার রূপা টুইট করেছেন, ‘আমি তো খান টাইগারের বেগম হয়ে যাচ্ছিলাম। আমাকে অপহরণ করতে এসেছিল। সে রাতে যদি আমি এবং আমার মা বোরকা পরে বাংলাদেশের দিনাজপুর থেকে পালাতে না পারতাম, তবে আজ বিজেপির সাংসদ হতে পারতাম না।’

এ নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘রূপা গাঙুলি তো নিজেই বলছেন, উনি বোরকা পরে এসেছেন। উনি তো নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি! সে ক্ষেত্রে তো উনি নাগরিক নন, একজন অনুপ্রবেশকারী! তা হলে বিজেপি তাকে সাংসদ করল কী করে? এখনই তার পদত্যাগ করা উচিত।’

এর উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রূপা শরণার্থী হয়ে থাকলে কালই নাগরিকত্বের আবেদন করবেন এবং পেয়েও যাবেন। আর শরণার্থী অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম অনেক রাজ্য থেকেই অনেকে সাংসদ হয়েছেন।’

স্থানীয় আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দিলীপের এই বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে এক ঝাঁক প্রশ্ন। এক, ‘অ-নাগরিক’ সাংসদদের নিয়ে গঠিত সরকার কি বৈধ? দুই, রূপার মতো যত মানুষ ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে’ বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছেন, তাদের প্রায় সকলেই ইতিমধ্যে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স, পাসপোর্টসহ নাগরিকত্বের নানা বৈধ নথি পেয়েছেন।

অনেকের নিজস্ব সম্পত্তিও আছে। তাদের অনেকেই এ দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি বা ব্যবসা করছেন। সে ক্ষেত্রে আইনি পথে ‘নাগরিকত্ব’ পাওয়ার আগেকার ওই সব নথি কি গ্রাহ্য?

যদি গ্রাহ্য না হয়, তা হলে তারা কি শরণার্থী হিসাবেই নাগরিকত্বের অধিকার ভোগ করছেন? এটা কি স্ববিরোধিতা নয়? এখানেই নাকি বিজেপি নেতারা নয়া তত্ত্ব নিয়ে মাঠে নামছেন ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স, পাসপোর্টসহ যে ১৪টি নথি এখন ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহ্য হয়, তার একটাও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। স্বাধীনতার পর একের পর এক ভোট দিয়ে যারা সরকার গড়েছেন, তারাও নাগরিক নন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএস