ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে চীনা প্রেসিডেন্ট; মুখ পুড়লো ভারতের!

অর্চি হক
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার, ০৯:১৮ এএম
মিয়ানমারে চীনা প্রেসিডেন্ট; মুখ পুড়লো ভারতের!

দুই দিনের সফরে গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ক্ষমতায় আসার পর শি জিনপিংয়ের এটা প্রথম মিয়ানমার সফর। আর গত ১৯ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের মিয়ানমার সফর এটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শি জিনপিংয়ের এই সফর ভারতকে বেকায়দায় ফেলে দিল। একই সঙ্গে এটা দিল্লির জন্য লজ্জাজনকও বটে। কারণ রোহিঙ্গা ইস্যুতে গোটা বিশ্ব যখন মিয়ানমারের প্রতি নিন্দা জানাচ্ছে, ভারত তখন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মিয়ানমারকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধু বাংলাদেশের পাশেও দাঁড়াচ্ছে না তারা। মিয়ানমারকে ক্রমাগত সমর্থন দিয়ে যাওয়ার পিছনে ভারতের সবচেয়ে বড় যে উদ্দেশ্যটা ছিল তা হলো, দেশটিকে নিজেদের মুঠোয় নিয়ে আসা এবং সেখানে বানিজ্য বাড়ানো। আর রাখাইন রাজ্যেকেও বানীজ্যের জন্য টার্গেট করেছিল দিল্লি। শি জিনপিংয়ের মিয়ানমার সফর দিল্লির সেই উদ্দেশ্য একেবারে গুড়িয়ে দিল। জানা গেছে, জিনপিং আজই রাখাইন রাজ্যে ১৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। চামসু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর হবে আজ। এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে প্রায় হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে আজ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শি জিনপিংয়ের সফরে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তিগুলো হবে সেগুলো মিয়ানমারকে চীনের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত করবে। আর ভারত বহু বছর ধরে মিয়ানমারে প্রভাব বিস্তারের যে দিবাস্বপ্ন দেখে আসছিল সেটা এক তুড়িতে উড়িয়ে দিলেন জিনপিং। তিনি আজ মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিনত ও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসেন শি জিনপিং। এরপর গত ৭ বছরে তিনি আসিয়ানভুক্ত সব দেশ সফর করেছেন। শুধু বাকি ছিল মিয়ানমার। চীনের গ্লোবাল বেল্ট ও রোড উদ্যোগেরই অংশ হিসেবে এই সফর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মামলার চাপে থাকা মিয়ানমার শি জিনপিংয়ের সফরে কিছুটা হলেও হাফ ছেড়ে বাঁচলো বলে জানাচ্ছেন তারা।

গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার মামলার পর মিয়ানমার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে থাকে। তবে জিনপিংয়ের এই সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো আলোচনা হবে কিনা তা জানা যায়নি।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি