ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সেই প্রমোদতরীতে শুধুই বিষাদের ছায়া 

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৩:১১ পিএম
সেই প্রমোদতরীতে শুধুই বিষাদের ছায়া 

গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ হাজার ৭০০  বেশি যাত্রী নিয়ে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ভেসে আছে প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেস। তীরে এসেও পাড়ে নামার সুযোগ মিলছে না জাহাজটির যাত্রীদের। বিলাসবহুল প্রমদতরীটি এখন হয়ে উঠেছে করোনা আতঙ্কে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে আটকে রয়েছে ক্রুজ শিপ ডায়মন্ড প্রিন্সেস। বুধবার পর্যন্ত জাহাজে থাকা ১৭৪ জনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে নামার সুযোগ পায়নি কোনও যাত্রীই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির আগে তারা সেখান থেকে মুক্তি পাবে না।

ডায়মন্ড প্রিন্সেসের যাত্রীরা জাহাজটিতে উঠেছিলেন প্রমোদ ভ্রমণ করতে। কিন্তু এখন সেখানে শুধুই বিষাদের ছায়া। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে টোকিও`র বন্দরে দাঁড়িয়ে রয়েছে জাহাজটি। প্রতিদিনই ভিডিও বার্তায় আটকে পড়ারা দেশে ফেরার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে কেবিনের দরজার সামনে ব্রেকফাস্ট রেখে যাচ্ছেন জাহাজকর্মীরা। সেটা নিয়ে সাথে সাথেই কেবিনের ভেতরে ঢুকে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। এরপর সারাদিনটাও চলছে এভাবেই। দরজার সামনে থেকে খাবারটা নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়া। ব্যাস, এভাবেই কেটে গেছে ১০ দিন। এর মধ্যে একদিন অবশ্য একটু আলো বাতাস গায়ে মাখার সুযোগ হয়েছিল তাদের। গত রোববার জাহাজের ডেকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় যাত্রীদের। তবে মুখে মাস্ক পড়ে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য। অনেকটা খাঁচাবন্দি অবস্থা তাদের।

জাহাজ কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা রুখতে এর বিকল্প নেই তাদের কাছে। জাহাজে যাত্রীদের সবরকম সুযোগ সুবিধা এবং করনা প্রতিরোধে সব ব্যাবস্থাই করা হয়েছে। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটিতে আক্রান্ত চারজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের তিনজনই জাপানি নাগরিক। আগামী বুধবার আক্রান্ত ৩৯ জনকেই ৯টি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। তাদের মধ্যে ২৯ জন যাত্রী, ১০ জন ক্রু এবং একজন কোয়ারান্টাইন কর্মকর্তা।

জাহাজে আটকে পড়াদের প্রতিদিনই ভাইরাসের পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইন্টারনেট ও টিভির মাধ্যমে বিনোদনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তবুও কাটছে না বিষাদের ছায়া।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হংকংয়ের ৮০ বছর বয়সী এক যাত্রীর মাধ্যমে জাহাজটিতে এ প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। গত ১০ জানুয়ারি চীন থেকে ভ্রমণ শেষে ফেরেন তিনি। ১৭ জানুয়ারি তিনি জাপানের টোকিও পৌঁছেন। ১৯ জানুয়ারি থেকে কাশিসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তার। ২০ জানুয়ারি ইয়োকোহামা বন্দর থেকে জাহাজটিতে ওঠেন তিনি। এর পর ২৫ জানুয়ারি জাহাজ থেকে হংকংয়ে নামেন। ৩০ জানুয়ারি জানা যায় যে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। কিন্তু এর আগেই তার মাধ্যমে জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি