ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মোদির নিরাপত্তা ব্যায়ের কথা জানলে চোখ কপালে উঠবে

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৮:৩১ পিএম
মোদির নিরাপত্তা ব্যায়ের কথা জানলে চোখ কপালে উঠবে

বর্তমানে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতে গতকাল বুধবার দেশটির পার্লামেন্ট প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তায় জন্য কত টাকা খরচ হচ্ছে। বিরোধী দলের এমন প্রশ্নে জানা গেছে মোদির নিরাপত্তায় বাৎসরিক খরচ ৫৯৩ কোটি টাকা।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগেই গান্ধী পরিবারের থেকে এসপিজি নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেক্ষেত্রে ওই পরিবারের জন্য নিযুক্ত এসপিজি বর্তমানে একজনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এসপিজি সুরক্ষা দেওয়া হয়। তবে কারা নিরাপত্তায় নিযুক্ত সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনও তথ্য দেননি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজ্যমন্ত্রী জি কিষণ রেড্ডি।

তিনি জানান, এসপিজি’তে ৩০০০ স্ট্রং ফোর্স এবং স্পেশ্যাল কমান্ডো রয়েছেন। এই বাহিনীকে আরও উন্নত করে তোলার কাজ চলছে। তাই সাধারণ বাজেটে নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তায় এসপিজি`র বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা ১০ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০২০ অর্থবর্ষে এসপিজির বরাদ্দ ছিল ৫৪০ কোটি টাকা। সেই সময় মোট চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল এসপিজি।

বর্তমানে শুধুমাত্র ৫৯৩ কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য খরচ হয়। হিসাব করে দেখা গিয়েছে প্রতিদিন মোদির নিরাপত্তায় খরচ হচ্ছে ১ দশমিক ৬২ কোটি টাকা। প্রতি ঘণ্টায় খরচের অঙ্ক ৬.৭৫ লক্ষ টাকা। এবং প্রতি মিনিটে খরচের অঙ্ক ১১ হাজার ২৬৩টাকা।

ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন করেন ডিএমকে সাংসদ দয়ানিধি মারান। ২০১৪ সাল থেকে  ভিআইপিদের নিরাপত্তায় কেনো বদল আনা হল, সে বিষয়েও জানতে চান তিনি। জবাবে জানানো হয়, দেশের মোট ৫৬ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেয় সিআরপিএফ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পরে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী নিয়ে গঠিত হয় এসপিজি। অভিজাত এই কমান্ডো বাহিনীর উপর দায়িত্ব বর্তায় প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার। ফলে রাজীব গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী এবং তাদের দুই সন্তান রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্বাভাবিক ভাবেই এসপিজি নিরাপত্তার আওতায় আসেন।

কিন্তু ১৯৮৯ সালে ভিপি সিংহ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গান্ধী পরিবারের সদস্যদের এসপিজি নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। এর ১৯৯১ সালে খুন হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। সেই বছরই কংগ্রেস ফের ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী হন পি ভি নরসিংহ রাও। সোনিয়া গান্ধীর সুপারিশে পুনরায় গান্ধী পরিবারের সদস্যদের জন্য চালু হয় এসপিজি নিরাপত্তা। তখন থেকে সেই রীতিই চলে আসছিল।

কিন্তু গত বছর সেই আইন সংশোধন করে মোদী সরকার। নতুন আইনে শুধু প্রধানমন্ত্রীই এসপিজি নিরাপত্তা পান। তুলে নেওয়া হয় গান্ধী পরিবারের এসপিজি নিরাপত্তা। এসপিজি নিরাপত্তার পরিবর্তে  সিআরপিএফ নিরাপত্তা গান্ধী পরিবারের জন্য চালু হয়।

বাংলা ইনসাইডার/এসএস