ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বের পর্যটন স্থানগুলো

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২০ বুধবার, ০৮:০০ এএম
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বের পর্যটন স্থানগুলো

প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, আমস্টারডাম শহরের খালপথে নৌকায় করে বেড়ানো, বার্লিনের ক্লাবে রাতের আনন্দ নেওয়া অথবা অসলো শহরের নতুন অপেরা ভবন দেখা। ইউরোপের শহরগুলির মধ্যে বৈচিত্রের অভাব নেই৷ কিন্তু প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সমস্ত ইউরোপের পর্যটন খাতে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিথিল হচ্ছে লকডাউন। তবে এখনো চিরচেনা রূপ ফিরে পায়নি পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পর্যটন খাতকে সচল করাতে চলছে ইউরোপের নেতাদের অনলাইন বৈঠক, আলোচনা ও পর্যালোচনা। ইউরোপের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান বছরে ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এই অঞ্চলে জিডিপির ১০ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে। ইউরোপীয় ট্রাভেল কমিশন জানায়, এ বছর করোনার কারণে পর্যটন খাতে ৪৪০ বিলিয়নের বেশি ক্ষতি আশঙ্কা করছে তারা। অর্থনীতিবিদ গুয়ান্ত্রাম ওলফ বলেন, আগামী ছয় মাস সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাবে। মোট ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করতে সময় লাগবে অন্তত দুই বছর।

 

ইউরোপের এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ এখন অনেকটাই বন্ধ। বিমানবন্দরগুলো বন্ধ হওয়ায় কাজ হারিয়েছেন, বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। পর্যটকদের চলাচল ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে চায় তুলনামূলক কম আক্রান্ত দেশগুলোর সরকার। তবে করোনা পরবর্তী সময়ের জন্য অভিন্ন পর্যটন নীতিমালা প্রণয়নে আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপীয় কমিশন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের যে স্থানে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ভিড় করে, তা হল লাসভেগাস। পৃথিবীর ক্যাসিনো বানিজ্যের স্বর্গ বলা চলে এটাকে। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনার কারণে আর্থিক ক্ষতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর বাইরে রয়েছে ইয়েলোস্টোন জাতীয় উদ্যান, হোয়াইট হাউস (ওয়াশিংটন ডি.সি), ওয়াল্ট ডিজনী ওয়ার্ল্ড ফ্লোরিডা, টাইমস স্কোয়্যার (নিউ ইয়র্ক), সীওয়ার্ল্ড (অরল্যান্ডো), স্ট্যাচু অফ লিবার্টি মনুমেন্ট (নিউ ইয়র্ক), সেন্ট্র্যাল পার্ক, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি অসংখ্য পর্যটন স্থান। প্রতি বৎসর লক্ষ পর্যটক ভিড় করত এসব স্থানে। কিন্তু এখন এ সমস্ত পর্যটন স্থান এখন ভূতুড়ে। আর আর্থিক ক্ষতি যে কি পরিমাণ তা সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলো দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিধ ও বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। এই ক্ষতি সামলানো দেশটির পক্ষে সম্ভব হবে। আর এতে করে তারা যে, পিছিয়ে পড়বে এই বিষয়টা এখন নাগরিকদের মুখে মুখে। পরিস্থিতি এমনই যে, ট্রাম্পের সামনের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ইঙ্গিত করছেন অনেকে। 

 

করোনা আতঙ্কে বন্ধ রয়েছে ডিজনি পার্ক ও ডিজনির প্রমোদতরী পরিষেবা। সংক্রমণ শুরুর পর থেকে নির্দেশিকা জারি করে একথা জানিয়ে দিয়েছেন ডিজনি কর্তৃপক্ষ। পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ ডিজনিপার্কগুলি বন্ধ করে দিল কর্তৃপক্ষ। টোকিওর ফ্লোরিডার ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড রিসোর্ট, প্যারিসের অন্যতম আকর্ষণ ডিজনির প্যারিস রিসর্ট, ডিজনিল্যান্ড পার্ক ও ক্যালিফোর্নিয়া ডিজনিল্যান্ড অ্যাডভেঞ্চারও বন্ধ রয়েছে। আর তা এই বৎসরে খোলার আর কোন পরিকল্পনা করতে পারছে না, বিশ্ব পর্যটন সেবার সবচেয়ে বড় এই প্রতিষ্ঠানটি। আর এতে করে কি পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তা খোলার আগে বলা যাচ্ছে না বলে জানা যায়।

 

করোনাভাইরাসের প্রভাবে তাজমহলও অনেক আগেই  বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। প্রতিদিন আগ্রায় অবস্থিত ভালোবাসার এই স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। করোনার বিস্তার ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ তাজমহল দেখতে আসেন। কিন্তু করোনার কারণে তারা তাজমহল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম পর্যটন স্থান তাজমহল দেখতে প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার পর্যটক ভিড় করত সেখানে। আর এতে করে ভারতের পর্যটন শিল্পের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার আর্থিক হিসেব সত্যিই দুঃসাধ্য।