ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নাটকীয় গ্রেপ্তার, অতঃপর চাঞ্চল্যকর মৃত্যু

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২০ শুক্রবার, ১২:৫২ পিএম
নাটকীয় গ্রেপ্তার, অতঃপর চাঞ্চল্যকর মৃত্যু

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ৮ পুলিশ সদস্য হত্যার মূল আসামী ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়ীনীতে মহাকাল মন্দির থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। আর আজ চাঞ্চল্যকর মৃত্যু হলো তার।

পুলিশ বলছে, মধ্যপ্রদেশ থেকে উত্তরপ্রদেশে নেওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করে বিকাশ দুবে। তখনই এনকাউন্টারে নিহত হয় এই কুখ্যাত গ্যাংস্টার। এই মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কগ্রেস নেতা প্রিয়াংকা গান্ধী। বকাশ দুবেকে জিজ্ঞাসাবাদে তার মদদদাতা ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের নাম যেন ফাঁস না হয়, সেজন্যেই এই হত্যা বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভারতের সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়ীনীতে মহাকাল মন্দিরে পূজা দেওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন কানপুরের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে। মধ্যপ্রদেশ পুলিশ গতকাল সন্ধ্যায় তাকে তুলে দেয় উত্তরপ্রদেশে পুলিশের এসটিএফের হাতে। বিকাশকে উজ্জয়ীনী থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল উত্তরপ্রদেশের শিবলিতে। শুক্রবার সকালে কানপুরের কাছে এসে উল্টে যায় বিকাশ দুবেকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে আসা কনভয়ের একটি গাড়ি। সেই গাড়িতেই ছিল বিকাশ। পুলিশের দাবি, এরপর পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে বিকাশ। সেই সময় পাল্টা এনকাউন্টারে মারা যায় সে। গাড়ি উল্টে যাওয়ার পেছনে  বিকাশেরই হাত ছিল বলে অনুমান পুলিশের।  

প্রসঙ্গত যে, গত ২ জুলাই গভীর রাতে কানপুরের বিকরু গ্রামে বিকাশ দুবের সাতমহলা প্রাসাদে হানা দেয় পুলিশবাহিনী। এই তল্লাশি অভিযানের খোঁজ আগেই পেয়েছিল বিকাশ। সঙ্গীসাথীদের নিয়ে তৈরিই ছিল সে। পুলিশ বাড়ির কাছাকাছি আসতেই ছাদ থেকে শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলি আর পাথরবৃষ্টি। নিহত হন আটজন পুলিশকর্মী। আহত হন আরও সাতজন। ওই ঘটনার পর ৭ দিন ধরে পলাতক ছিল বিকাশ। হন্যে হয়ে তাকে খুঁজেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফের ২৫টি টিম। অবশেষে গতকাল ৯ জুলাই সকালে উজ্জয়ীনীর মহাকাল মন্দির থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। তার স্ত্রী এবং ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে লখনউ থেকে।

২ জুলাইয়ের ঘটনার পর গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের মা সরলাদেবী বলেছিলেন, “আমার ছেলের উচিত আত্মসমর্পণ করা। নয়তো পুলিশ ওকে খুঁজে বের করে মেরে দিক। এত বছর ধরে অনেক পাপ করেছে। এ বার ওর শাস্তি পাওয়া দরকার।”