ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিলো করোনা?

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২০ বুধবার, ০১:০০ পিএম
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিলো করোনা?

সারাবিশ্ব জুড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। আর বৈশ্বিক এই মহামারী থেকে বাদ পড়েনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও। প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনা সংক্রমণের হার এখন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশেও ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব চলছে। সেইসাথে বাদ পড়েনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও। কিন্তু এর মধ্যেই হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি। বিশেষ করে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা যেন ক্রমেই শঙ্কার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এক রোহিঙ্গা আর কাশ্মীর ইস্যু ছাড়া এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ তেমন কোন ইস্যু ছিল না।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের সমস্যাগুলো আর দ্বিপক্ষীয় বিষয় থাকছে না। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশ্মীর সীমান্তে চীন ও ভারতের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কথা শোনা যায়। গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় কাশ্মীরের লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় চীন ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন ভারতীয় সেনা সদস্য নিহতের গুঞ্জন শোনা যায়। শুরুতে ভারত এমনটা অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে যে, তাদের ২০ জন সেনা সদস্য সেখানে প্রাণ হারায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদনে এই রকমটা প্রকাশ করা হয়। জুনের এই সীমান্ত বিরোধ ছিল শুধু ভারত আর চীনের মধ্যে। প্রত্যক্ষভাবে সেখানে শুধু এই দুই দেশই জড়িত ছিল। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন বিষয়টি সমঝোতা করতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে আর সেটা হয়ে উঠেনি।

কিন্তু আগস্ট মাস আসতেই এই সীমান্ত বিরোধ যেন আরও দুটি দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সমগ্র কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে। এর ঠিক আগের দিন এই রকম কাজ করে ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপালও। অবশ্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, এটা চলতি সপ্তাহে চীনের সাথে দেশগুলোর বৈঠকের একটা প্রতিফলন মাত্র। দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ- নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। অবশ্য বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ ঘিরে দিল্লিতে রীতিমতো অস্বস্তি শুরু হয় তখনই। গত সোমবার ওই বৈঠকের পর চীন জানায়, করোনা মহামারি রুখতে এবং অর্থনীতি ও বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভকে পুনরু জ্জীবিত করতে দেশগুলোর সঙ্গে চার দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে বেইজিং।

ফলে সবকিছু মিলিয়ে সময়টা এখন ভালো যাচ্ছে না ভারতের। তবে এরমধ্যেই সাংবিধানিকভাবে কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদার ৩৭০ ধারা বাতিলের দিনেই রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছে নরেন্দ্র মোদী। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ভূমিপূজা শুরু করেছে। সেইসাথে বাংলাদেশের সাথেও প্রতিবেশী এই দেশটির কূটনীতিক টানাপোড়েন চলছে বলে উল্লেখ করছে ভারতীয় গণমাধ্যম। ফলে সবকিছু মিলিয়ে ভারতের জন্য যেমন বিষয়গুলো খারাপ হচ্ছে। তেমনি খারাপ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির জন্যও। সেইসাথে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে কূটনীতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থরক্ষার বিষয়গুলো তো রয়েছেই। তবে এই বিষয়ে কেউ কেউ ভারতকেই দোষারোপ করে থাকেন। তাদের মতে, ভারত যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও নীতিমালা তৈরি করতে পারত তাইলে হয়তো এই রকমটা হতো না। তাছাড়া, সার্ক কার্যকর না হওয়া বা অকার্যকর করার ক্ষেত্রেও ভারতের কিছুটা দায় রয়েছে। ফলে সবকিছু মিলিয়ে এটা বলাই যায় যে, এই করোনার মধ্যেই উত্তপ্ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি।