ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভারতের করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার, ১০:০৪ এএম
ভারতের করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে?

 

করোনাভাইরাস মহামারীতে ভারত নবম মাস অতিক্রম করতে চলেছে। এরই মধ্যে দেশটিতে পাঁচ মিলিয়নের বেশি নিশ্চিত কোভিড-১৯ কেস নিশ্চিত হওয়া গেছে। শনাক্তের দিক থেকে আমেরিকার পর বিশ্বের দ্বিতীয় সব্বোর্চ অবস্থানে আছে ভারত। দেশটিতে কোভিড ১৯ আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৮০,০০০ এরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। ভারতের একজন সরকারী বিজ্ঞানী বিবিসিকে জানান ‘সংক্রমনের উচ্চ ধারা’ সারাদেশে ছড়িয়ে গেছে। তবে সান্ত্বনার ‍দিকটি হলো মৃত্যুর হার বর্তমানে ১.৬৩% যা উচ্চ আক্রান্ত অনেক দেশের থেকে কম।

করোনা রোগী বাড়া কমার বিষয়টি করোনা পরীক্ষার হারের ওপর নির্ভর করে। তবে ভাইরাসটি যে হারে ছড়াচ্ছে তাতে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ।

প্রথম মিলিয়ন করোনারোগী শনাক্তে ভারতের সময় লেগেছে ১৭০ দিন। সর্বশেষ মিলিয়ন করোনারোগী শনাক্তে সময় লেগেছে মাত্র ১১ দিন। এপ্রিলে যেখানে গড় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ৬২ সেখানে সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭,০০০ এরও বেশি।

গত সপ্তাহে ভারতে প্রতিদিন ৯০,০০০ এর বেশি করোনারোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন গড়ে এক হাজার জন। সাতটি রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংক্রমণ বাড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহনসহ অনান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

ভারতে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর লকডাউন মানুষকে বাড়িতে থাকতে, ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল। লক্ষ লক্ষ অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক যারা শহরগুলিতে চাকরি হারিয়েছিল তারা পায়ে হেঁটে. বাসে চড়ে এবং ট্রেনে বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেছিল ।

এখন পর্যন্ত পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি ভারতীয়কে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রতিদিন এক মিলিয়নেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখনও বিশ্বের সবচেয়ে কম পরীক্ষার হারের তালিকায় রয়েছে দেশটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারতের আসল সংক্রমনের হার অনেক বেশি। এই পরিস্খিতিতে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।  

মহামারীটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োস্টাটিক্স এবং মহামারীবিদ্যার অধ্যাপক ভামার মুখোপাধ্যায় বিবিসিকে বলেন,"আমি মনে করি ভারত ‘হার্ড ইউমিনিটির’ পথে যাত্রা শুরু করেছে। আমি নিশ্চিত নই যে প্রত্যেকে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্বসহ অনান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ করছে কিনা," যদি সকলে মাস্ক পড়া, সামাজিক দুরত্ব মেনেচলাসহ অনান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তবে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তবে, বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ একমত যে কয়েকটি শহর যেখানে সংক্রমণ অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে তার একটি অংশ আংশিক বা পুরোপুরি  লকডাউনের আওতায় আনলে আরও ভাল হত।  

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্তন প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, "লকডাউন ব্যর্থ হয়েছিল কারণ গোটা দেশ জুড়ে প্রচুর লোক ঘরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল, কারণ এছাড়া তাদের কোন বিকল্পও ছিল না। ফলস্বরূপ, ভারতের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

শীত যত ঘনিয়ে আসছে ভারতে করোনা নিয়ে ততই উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটিতে এখন ১৫,০০০ এরও বেশি কোভিড-১৯ চিকিত্সার সুবিধা সম্বলিত এক মিলিয়নেরও বেশি বিছানা রয়েছে। মাস্ক,পিপিই এবং ভেন্টিলেটর এর কোন সংকট নেই বলে জানা গেছে। অক্সিজেন নিয়ে কিছুটা সমস্যা থাকলেও তা অচিরে কেটে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।