ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লাদাখে তিন বছরে তিনগুণ সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে চীন

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ এএম
লাদাখে তিন বছরে তিনগুণ সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে চীন

লাদাখে চীনা বাহিনীর আগ্রাসন দীর্ঘ পরিকল্পনার ফসল বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লী। ডোকলামে সংঘাতের পর ভারতের নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকাগুলো নিজেদের কব্জায় নিতে এই আগ্রাসন চালায় চীন। খবর আনন্দ বাজার পত্রিকার।
সম্প্রতি লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে চীন। ভূ-রাজনৈতিক সংক্রান্ত মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা স্ট্র্যাটফরের একটি রিপোর্টে বলছে গত তিন বছরে সেখানে নিজেদের শক্তি তিন গুণ বাড়িয়েছে চীন।
চলতি বছরের শুরু থেকেই চীনের সম্প্রসারণ নীতি ঠেকিয়ে আসার চেষ্টা করছে ভারত। এটা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক বার সংঘর্ষও বেধেছে। লাদাখে শান্তি বজায় রাখতে এই মুহূর্তে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে চাইছে দুই দেশ। শান্তি আলোচনার মধ্যেই এলএসি বরাবর চীনের শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন সংস্থার রিপোর্ট দিল্লির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৯৯ সালে কসোভের উপর ন্যাটো-র বিমান হাম নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রথম আন্তর্জাতিক মহলে খবরের শিরোনামে উঠে আসে স্ট্র্যাটফর। পরবর্তীকালে আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কৌশল নিয়েও রিপোর্ট প্রকাশ করে তারা। স্যাটেলাইট ফুটেজ দেখে এলএসি বরাবর চীনা বাহিনীর সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ ও অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিশ্লেষণ করে এবার নতুন রিপোর্ট প্রকাশ করলো সংস্থাটি। স্ট্র্যাটফর এর রিপোর্টে ভারতের সামরিক দুর্বলতা ধরা পড়েছে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তাজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্ট্র্যাটফরের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এলএসি বরাবর সংলগ্ন এলাকায় কমপক্ষে ১৩টি নতুন সামরিক অবস্থান গড়ে তুলতে শুরু করেছে চীন। তার মধ্যে তিনটি বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, পাঁচটি স্থায়ী আকাশসীমা প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং পাঁচটি হেলিপোর্ট রয়েছে। লাদাখ সংঘাতের পরই হেলিপোর্টগুলি তৈরির কাজ শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। এ ছাড়াও রেডিও সিগন্যাল, র‍্যাডার এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অবস্থান নির্ধারণ করার জন্য রয়েছে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন।

এ নিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকার স্ট্র্যাটফরে কর্মরত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ সিম ট্যাক বলেন, ‘‘লাদাখে সংঘাত দানা বাঁধার আগে থেকে যে ভাবে ওই সংলগ্ন এলাকায় সামরিক শক্তি বাড়াতে শুরু করে চীন, তাতে বোঝা যায় এর পেছনে বড় ধরনের কোন উদ্দেশ্য রয়েছে। আসলে এলএসি সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে নিজেদের কব্জায় আনতে চায় চীন।’’

তবে এলএসি-তে দুর্ভেদ্য সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ এখন পর্যন্ত চীন সম্পূর্ণ করে উঠতে পারেনি বলেও দাবি করেন সিম। তিনি বলেন, ‘‘অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সম্প্রসারণ এবং সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এখনও মাঝপথে রয়েছে । এই মুহূ্র্তে চীনা বাহিনীর যে গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা একটা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সূত্রপাত মাত্র।’’ লাদাখে দু’পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রস্তুতিপর্ব। সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে চীনা বাহিনী বাড়তি সুবিধা পাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে শুধু লাদাখ বা ভারতের পূর্ব দিকেই নয়, দক্ষিণ চীন সাগর এবং ভারত মহাসাগরেও চীন একই ভাবে আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে একটি প্রবাল দ্বীপ সংলগ্ন এলাকাকে নৌ-ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য তাদের। এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলি, যার মধ্যে অন্যতম হল ভারত। এ বছর মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একজোট হয়ে ভারত জানিয়ে দেয়, দক্ষিণ চীন সাগরে কারও একার আধিপত্য স্বীকার করা হবে না। ওই এলাকায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই ভারতের প্রধান লক্ষ্য।

ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৌহার্দ্য এমনিতেই চক্ষুশূল চীনের। তার উপর দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য কায়েম করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ানোয়, ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রদর্শনে তারা জোর দিচ্ছে এবং যেন তেন প্রকারে ভারতকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তার জন্য এলএসি সংলগ্ন এলাকায় আগে থেকে যে বিমানঘাঁটিগুলো ছিল, সেখানেও অতিরিক্ত রানওয়ে নির্মাণ থেকে শুরু করে, যুদ্ধবিমান রাখার বাড়তি জায়গা তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছে তারা।

এর আগে, গত মে মাসে প্যাংগং হ্রদ থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের নারি-গুনসাতেও চীনাবাহিনী বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করছে বলে তথ্য সামনে আসে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যায়, সেখানে বৃহদাকার সামরিক নির্মাণকার্য চলছে, যাতে জে-১১, জে-১৬ এবং সুখোই-৩০-র মতো যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে পারে । গত কয়েক মাসে সেই কাজ আরও এগিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।