ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দশ মাসেও ছলনাময়ী করোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পিএম
দশ মাসেও ছলনাময়ী করোনা

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর চীনের উহান প্রদেশে প্রথম করোনা সংক্রমন ধরা পড়েছিলো। সেই করোনা সংক্রমনের আজ দশ মাস অতিক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু এই দশ মাসে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েও সজীব সতেজ রয়েছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি। এমনকি এই ভাইরাসটি প্রতিরোধের উপায় যেমন আবিস্কার হয়নি এখন পর্যন্ত তেমনি ভাইরাসটির কোন ভ্যাকসিনও সুনির্দিষ্ট হয়নি।

করোনা মহামারী কবে যাবে সে সম্পর্কে কোন আশার বানী শোনাতে পারেনি কেউ। করোনা একাই যেন সারা বিশ্বকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছে।

দশ মাসে করোনার প্রকোপ তো কমেইনি বরং এখন আবার নতুন করে করোনার সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। করোনা মানুষের অর্থনেতিক জীবন যেমন বির্পযস্ত করে দিয়েছে তেমনি করোনায় মানসিক বির্পযয়, শিক্ষার বির্পযয় কম নয়। সামগ্রিকভাবে বিশ্বকে একটা অজানা সংকটের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছে।

আমরা যদি বিশ্বে এরকম আরও প্রাণঘাতী ভাইরাসের দিকে চোখ রাখি তাহলে দেখা যাবে যে,যেকোন এ ধরনের ভাইরাসগুলো আসার অল্প কিছুদিনে মধ্যেই আমরা তার রুপ প্রকৃতি এবং প্রকরণ বুঝতে পেরেছি। সেই বোঝার ভিত্তিতে তাকে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সার্স ভাইরাসের কথা যদি বলি সেটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিরোধ করা গেছে। কিন্তু করোনা যেন এক ছলনাময়ী ভাইরাস এবং এক রহস্যময়ী ভাইরাস। এই ভাইরাসটি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রুপ গ্রহণ করছে। এই ভাইরাসটি কোথাও ভয়ংকর কোথাও মৃদু। এই ভাইরাসটির উপসর্গ একেক দেশে একেক রকম। আর এই রহস্যময়তার কারণে এখন পর্যন্ত মানুষ প্রতিনিয়ত করোনায় নাস্তানাবুদ হচ্ছে।

দশ মাসে করোনায় কত মানুষ মৃত্যুবরন করেছে বা কত মানুষ আক্রান্ত হয়েছে সেই তথ্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সারা বিশ্বকে অচল ও থমকে দিয়েছে করোনা।

করোনাই এখন ঠিক করে দিচ্ছে বিশ্ব কিভাবে চলবে কোন পথে চলবে। করোনার এই রুদ্র রুপের কাছে সারা পৃথিবী আত্নসমর্পন করেছে।


দশ মাস পরেও আমরা এর প্রকৃত রুপ-প্রকৃতি বুঝতে পারিনি। আর না বোঝার কারণেই এখনও করোনা আমাদের সবচেয়ে বড় আতংকের নাম।


বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ভ্যাকসিনের কথা বলছেন। ভ্যাকসিন এলে করোনার প্রকোপ কমবে বিশেষজ্ঞরা এমন কথা বলছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বলে দিয়েছে ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত করোনার প্রকোপ থেকে মুক্তি নেই।
কিন্তু ভ্যাকসিন আদৌ আসবে কিনা বা যে ভ্যাকসিনটি আসবে সেটি সব দেশে সব ধরনের করোনা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে কিনা সেই নিয়েও এখন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন আছে।


আর করোনার সঙ্গে বসবাসের যে তত্ত্ব সে তত্ত্ব তেমন কার্যকর হচ্ছে না। কারণ করোনার সঙ্গে সমঝোতা করে বসবাস করতে গেলে মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে, মানুষের জীবিকা চলে যাচ্ছে। মানুষকে অনিশ্চতার এক দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

আর এই পরিস্থিতিতে দশমাসেও করোনা বলেনি সে কবে বিদায় নিবে।