ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগত নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনে তৎপর ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০ শনিবার, ০১:৫৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগত নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনে তৎপর ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়া প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন জো বাইডেন। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ সময়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছেন আর এসবের একটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগত নাগরিকত্বের অধিকার আইনে পরিবর্তন আনা। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষ সময়ে এসে এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এতে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের মা-বাবা নথিপত্রহীন অভিবাসী হলে, তাঁদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার নির্বাহী আদেশ জারি করতে পারেন ট্রাম্প। পর্যটন বা অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্র আসার পর সন্তান জন্ম হলে, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। 

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে `দ্য হিল` এ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে গেল ২০ নভেম্বর। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই এমন একটা নির্দেশনা জারি করার কথা বলেছিলেন। এ নিয়ে নির্বাহী আদেশের খসড়া করা হলেও পরে তা চূড়ান্ত করা হয়নি। 

`দ্য হিল`  রিপোর্টে জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে নির্দেশনা জারি করতে পারেন। এমন নির্দেশনা জারি হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাবে অভিবাসী গ্রুপগুলো।

মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে আছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় জন্ম নেওয়া যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে। যদিও কোথাও বলা নেই, এমন জন্মের সময় মা-বাবা বা তাঁদের অন্তত একজনকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসী হতে হবে। 

সংবিধানের এ বিষয়টি অস্পষ্ট মনে করেন ট্রাম্প সমর্থকরা। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পক্ষগুলোর সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নির্বাহী আদেশ জারির প্রয়াস নিচ্ছেন। এ নির্বাহী আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতের রক্ষণশীল পক্ষ থেকে নিজেদের পক্ষে রায় পাওয়ার আশা করছে অভিবাসনবিরোধী পক্ষগুলো।

যদিও উদারনৈতিকরা বলছেন, সংবিধান এ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থানে আছে। তাঁরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তান কোনো প্রশ্ন ছাড়াই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য।

প্রতি বছর নানা দেশ থেকে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মানুষ সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যান। সন্তান জন্মের পর তার নাগরিকত্ব নিয়ে অনেকেই আবার ফিরে যান। সন্তানের বয়স ২১ বছর হলে তাঁরা আবার মা-বাবার অভিবাসনের জন্য আবেদন করতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এমন ‘বার্থ টুরিজম’ বন্ধের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। 

আমেরিকান ইমিগ্রেশন ল` ইয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক শেভ দালাল ডেইনি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ মুহূর্তের এমন আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে। 

বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণ করার পরও এমন নির্দেশনা বাতিল যদি করেও থাকে তবুও শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।