ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

খুনিকে মুক্ত করতে কেন এগিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা? 

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২১ সোমবার, ১০:২৮ এএম
খুনিকে মুক্ত করতে কেন এগিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা? 

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের হান্টার ভ্যালি এলাকার একজন মা ক্যাথলিন ফলবিগকে ২০০৩ সালে খুনের মামলায় `অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে দুধর্ষ নারী সিরিয়াল খুনি` বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তার চার সন্তানকেই তিনি হত্যা করেছিলেন বলে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ৩০ বছরের কারাদণ্ডের ১৮ বছর সাজা তিনি ইতিমধ্যেই খেটেছেন। কিন্তু গত সপ্তাহে ৯০ জন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ একটি পিটিশনে সই করে ক্যাথলিন ফলবিগকে ক্ষমা প্রদর্শনের এবং তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

স্বাক্ষরদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন দুজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, বর্ষসেরা অস্ট্রেলীয় খেতাব পাওয়া দুই ব্যক্তি, একজন প্রধান বিজ্ঞানী এবং অস্ট্রেলীয় একাডেমী অফ সায়েন্সের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জন শিন। কারণ কি? কেন এমন খুনীকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা?

শিশু ও জন স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষক অধ্যাপক ফিয়োনা স্ট্যানলি বলেন, `চিকিৎসাগত ও বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণকে এই মামলায় অগ্রাহ্য করা হয়েছে এবং বিজ্ঞানকে ছাপিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবেশ ও পরিস্থিতিগত তথ্যের ওপর। ফলবিগ সন্তানদের মৃত্যুর ব্যাপারে আমাদের হাতে বিকল্প ব্যাখ্যা রয়েছে।`

ব্যাখ্যা হচ্ছে- ক্যাথলিন ফলবিগের শরীরে জিনগত একটি পরিবর্তন হয়েছিল, যে পরিবর্তন বংশগতভাবে তার দুই মেয়ে সারা ও লরার শরীরে যায়, আর সে কারণেই মেয়ে দুটির মৃত্যু ঘটে। ক্যাথলিনের শরীরে জিনের আরেক ধরনের পরিবর্তন হয়, যা ধরা পড়েছে তার দুই ছেলে ক্যালেব এবং প্যাট্রিকের ক্ষেত্রে, যা তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে তারা মনে করছেন, যদিও এই পরিবর্তনটি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফলবিগের দুই কন্যা সন্তানেরই মারা যাওয়ার আগে প্রদাহ হয়েছিল এবং তারা মনে করছেন ওই প্রদাহের কারণে দুই শিশুর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। ফলবিগের দুই পুত্রসন্তানের শরীরেও বিরল একধরনের জিন পাওয়া গেছে। তার প্রভাবেই তাদেরও মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তাদের। ফলবিগের সন্তানদের তিনি নিজে খুন করেন নি। 

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভাসির্টির ইমিউনোলজি এবং জিনোমিক মেডিসিনের অধ্যাপক ক্যারোলা ভিনুয়েসা। তিনিই আবিষ্কার করেন ক্যালএমটু (CALM2)নামে এই জিন থেকে আকস্মিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই জিন সম্পর্কে আরও গবেষণা চালান অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা এবং আমেরিকার বিজ্ঞানীরা। গত নভেম্বরে তাদের গবেষণার তথ্য চিকিৎসা বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশ পায়।

এখন ক্যাথলিন ফলবিগের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে, এই পিটিশনের ফল কী হয় তার ওপরে। নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি আপিল আদালতে সম্প্রতি তার আরেকটি আবেদনের শুনানি হয়েছে। প্রসঙ্গত, ফলবিগ প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন তিনি নির্দোষ।