ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মিয়ানমারের জান্তাকে দানব বানিয়েছে যারা

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার, ০৬:০০ পিএম
মিয়ানমারের জান্তাকে দানব বানিয়েছে যারা

মিয়ানমারে সেনাশাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত অস্ত্রের মজুদ বাড়ছে। চলমান রোহিঙ্গা সংকটে দেশটি তাদের পাশে পাচ্ছে অনেককে। রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালালেও চীন, রাশিয়া, ভারত এখনো দেশটির পাশে আছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এর পেছনে অস্ত্র ব্যবসাই হয়তো আসল উদ্দেশ্য হিসেবে কাজ করছে। যদি মিয়ানমারের সেনাশাসকদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানায় দেশগুলো তাহলে হয়তো অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। এমন আশঙ্কায় কয়েকটি দেশ মিয়ানমারে চলমান সহিংসতায় নীরব আছে।

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে শক্ত হাতে মিয়ানমারের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে সেনাবাহিনী। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র। ২০১২ সালে তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর হয় মিয়ানমার। তা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত দেশটির ওপর ইইউর অস্ত্র আমদানি-রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ইইউ ভুক্ত কয়েকটি দেশ সহয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল অস্ত্র আমদানি করেছে মিয়ানমার। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার কোন দেশের কাছ থেকে কোন অস্ত্র কিনেছে, তার একটি বিবরণ তুলে ধরা হয়।

মিয়ানমারের কাছে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বিক্রি করেছে চীন, রাশিয়া, ভারত, ইসরায়েল ও ইউক্রেন। মিয়ানমারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশ থেকেও অস্ত্র কেনার তথ্য উঠে এসেছে। ইউরোপের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায় বলা ছিল, যুদ্ধ কিংবা সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র দেওয়া হবে না। তবে মানবিক সংকট মোকাবেলায় সামরিক সরঞ্জাম প্রয়োজন হলে তা মেটানোর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর কোনো বাধা ছিল না। প্রশ্ন হলো রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে মিয়ানমার কোন মানবিক প্রয়োজন মেটাচ্ছে।

বিমান: আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের কাছে সবচেয়ে বেশি ১২০টি যুদ্ধবিমান বিক্রি করেছে চীন। এর পরই আছে রাশিয়ার অবস্থান। দেশটি ৬৪টি বিমান বিক্রি করেছে মিয়ানমারের কাছে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির কাছে পোল্যান্ড ৩৫, জার্মানি ২০, সাবেক যুগোস্লাভিয়া ১২, ভারত নয়, সুইজারল্যান্ড তিন ও ডেনমার্ক একটি বিমান বিক্রি করেছে ।

ক্ষেপণাস্ত্র: মিয়ানমারের কাছে সর্বাধিক দুই হাজার ৯৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে রাশিয়া। এর পরই আছে চীনের অবস্থান। দেশটি প্রতিবেশীর কাছে এক হাজার ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে। এ ছাড়া বেলারুশ ১০২, বুলগেরিয়া ১০০ ও ইউক্রেন ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে।

নৌযান: বার্মিজ নৌবাহিনীর জন্য ২১টি রণতরী কেনা হয়েছে চীনের কাছ থেকে। এ ছাড়া ভারত ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার কাছ থেকে কেনা হয়েছে তিনটি করে তরী।

কামান: সীমান্তবর্তী দেশ চীন সবচেয়ে বেশি ১২৫টি কামান বিক্রি করেছে মিয়ানমারের কাছে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় সার্বিয়া ১২০, রাশিয়া ১০০, ইসরায়েল ২১, উত্তর কোরিয়া ১৬ ও ভারত ১০টি কামান বিক্রি করেছে।

সাঁজোয়া যান: মিয়ানমারের কাছে সর্বাধিক ৬৯৬টি সাঁজোয়া যান বিক্রি করেছে চীন। এর পরই আছে ইসরায়েলের অবস্থান। দেশটি মিয়ানমারের কাছে সাঁজোয়া যান বিক্রি করেছে ১২০টি। এ ছাড়া ইউক্রেন ৫০ ও ভারত ২০টি সাঁজোয়া যান বিক্রি করেছে।

গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি সেনা ও কিছু পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা। এরপর থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের মুখে এরই মধ্যে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এই অভিযান শুরুর পর থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মিয়ানমারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করলেও কয়েকটি বৃহৎ শক্তি এক রকম নিষ্ক্রিয়তা দেখিয়েছে।

এর মধ্যে জার্মানি, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ শরণার্থী সংকট ও মানবাধিকার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ে সোচ্চার ছিল। কিন্তু তারাই মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে দানবে পরিণত হতে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। রোহিঙ্গা সংকট আজকের না। প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরেই। এরকম সংকটে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক জান্তা যে কোনো সময় হস্তক্ষেপ করছে-এ বিষয়টি তাদের অজানা নয়। তাই বর্তমান রোহিঙ্গা সংকটে তারাও দায় এড়াতে পারে না।  

বাংলা ইনসাইডার/আরএইচবি/জেডএ

Save

Save

Save

Save