ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রোহিঙ্গাদের না ফেরানোর পাঁয়তারা মিয়ানমারের

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০১৭ শনিবার, ০২:০১ পিএম
রোহিঙ্গাদের না ফেরানোর পাঁয়তারা মিয়ানমারের

‘মিয়ানমারে কোনো জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনের ঘটনা ঘটেনি। তবে যে সব শরণার্থী বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে গিয়েছে তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার।’ সম্প্রতি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর নির্মম নির্যাতনের ফলে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলতে আশ্রয় নেয়। পরবর্তিতে এই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বের উদ্দেশ্যে এ কথাই বলেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। তবে এটি যে সত্য নয় লোক ভুলানো, তা মিয়ানমারের কর্মকান্ডই বলে দেয়।

সত্যি যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত হয়ে থাকে, তাহলে কেন এখনও সে কার্যক্রমের নাম গন্ধও মিলছে না?

জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে, যার কারণ মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বিতাড়ন। মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই বলে আসছিল যে গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির যে হামলা হয়, তার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই তারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। কিন্তু এই রিপোর্টে পুরোপুরি তার উল্টো কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের নিধনের লক্ষেই অনেক আগে থেকেই তাদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের বিতারিত করতে, গ্রামগুলিতে আক্রমণ চালিয়ে নির্বিচারে লোকজনের ওপর গুলি চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বাড়িঘরে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, মেয়েদের নিপীড়ন করেছে। বেশির ভাগ মানুষেরর দেওয়া সাক্ষ্যে থেকে জানা গেছে, যাদের গুলি করে মারা হয়, তাদের একেবারে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। অনেককে পালানোর সময় পেছন দিক থেকে গুলি করা হয়। শুধু তাই নয়, সেখানে তাদের গবাদি পশু, ফসলের ক্ষেত, এমনকি বসত ভিটায় যেসব গাছপালা ছিল সেগুলো পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে যাতে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীরা আর কোনও দিন সেখানে ফিরতে না পারে।

দেশটির স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তর জানিয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বিস্তৃত আলোচনায় ১৯৯২ সালের এপ্রিলে যে যৌথ ঘোষণা সই হয়েছিল তাকে ভিত্তি ধরেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত নেপি’ড। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সহায়তায় ঢাকা একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব করেছে এবং মিয়ানমারের মন্ত্রীর কাছে চুক্তির খসড়া হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এখনও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং বিভিন্ন পাঁয়তারা করে এড়িয়ে যাছে মিয়ানমার।

১৯৯২ সালের প্রেক্ষাপট আর আজকের পরিস্থিতি মোটেও এক নয়। সেই সময়ে রোহিঙ্গাদের হাতে কিছু ডকুমেন্ট ছিল। বাংলাদেশ তাদের শরণার্থী হিসাবে নিবন্ধন করিয়েছিল। ফলে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার হাতে কোনো ডকুমেন্টই নেই। এ অবস্থায় ১৯৯২ সালের ভিত্তি ধরে তাদের ফেরানোর ঘোষণা কেবল সময়ক্ষেপণ বলেই মনে করছেন ঢাকার কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা।

এদিকে, মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে যারা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারবে তাদেরই কেবল ফেরত নেয়া হবে। মিয়ানমারের এমন ঘোষণার ফলে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন শুরু করে। কিন্তু মিয়ানমারের এসব শর্ত ৩৩ হাজার রেজিস্ট্রার শরণার্থী পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে, সে ক্ষেত্রে বাকিদের কি হবে? এসব শর্তকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নেওয়ার কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একদিকে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া কথা বলে বিভিন্ন শর্ত দিচ্ছে, অন্যদিকে দেশটির সেনা বাহিনী এখনও রোহিঙ্গাদের গ্রাম, ফসলি জমি ধ্বংস করে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ল্যান্ড মাইন পুতে রেখে হামলা চালানো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের উপর। এসব সমস্যা মিয়ানমারেই সৃষ্টি, অতেব এর সুষ্ঠু সমাধানো মিয়ানমার সরকারই করতে পারবে। বিভিন্ন পাঁয়তারা করে এড়িয়ে গেলে, এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।

বাংলা ইনসাইডার/আরএ/জেডএ