ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বাইডেন-পুতিন করমর্দন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:০৬ পিএম, ১৬ জুন, ২০২১


Thumbnail

হাত বাড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সে হাত ধরলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার জেনেভা ভিলার বাইরে করমর্দনের মাধ্যমেই আলোচিত সম্মেলন শুরু করলেন দুই প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার দীর্ঘ উত্তেজনার মধ্যেই দুই প্রেসিডেন্ট পারস্পরিক বোঝাপড়ার লক্ষ্যে আলোচনা করছেন।

সম্মেলন আয়োজক সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন সম্মেলনের সূচনা করার পর বাইডেন-পুতিন হাত মেলান।

সম্মেলনে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের নিয়ে দুই প্রেসিডেন্ট যখন আলোচনায় বসছেন, তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে বাইডেন বললেন, ‘সরাসরি দেখা হওয়াটা সব সময়ই ভালো।’

মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বোচ্চ উদ্বেগের মধ্যেই দুই প্রেসিডেন্টের এ সাক্ষাতে ইতিবাচক অনেক দিক দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর মধ্যে রয়েছে সাইবার হামলা, মানবাধিকার, ইউক্রেন, বেলারুশ প্রভৃতি প্রসঙ্গ।

আলোচনার শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইতিবাচক দিকটিই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ফলপ্রসূ আলোচনাই হতে যাচ্ছে।

রয়টার্স জানায়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে বাইডেনের পাশে বসে পুতিন তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আমি আপনাকে আজকের আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই।’

বাইডেন বলেছেন, দুই নেতা সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নির্ধারণ করার চেষ্টা করবেন।

জেনেভা লেকমুখী দৃষ্টিনন্দন ভিলায় বুধবার জেনেভার স্থানীয় সময় বেলা একটায় বাইডেন ও পুতিনের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়। দুই নেতার মধ্যকার বৈঠকটি চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা টানা চলার কথা। এতে খাবারের কোনো বিরতি রাখা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা টানা চলবে। খাবারের কোনো বিরতি নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন এই প্রথম পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন। তাঁদের এই বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জোর আলোচনা চলছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া আলোচনা করে জেনেভাকে সম্মেলনস্থল হিসেবে ঠিক করে।

বিষয়টি স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার আরেক সম্মেলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৮৫ সালে মিখাইল গর্বাচেভ ও রোনাল্ড রিগ্যান জেনেভায় ওই একই ভিলায় বৈঠকে অংশ নেন। তবে এবারের সম্মেলনে ওই সময়কার মতো কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র এবং প্রতিযোগিতামূলক মতাদর্শ নিয়ে উত্তেজনা কম।

বাইডেন ও পুতিনের বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে বলে উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব ইস্যুর মধ্যে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, সাইবার হামলা, মানবাধিকার, ইউক্রেন, বেলারুশ, কৌশলগত স্থিতিশীলতা, আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, করোনা মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি।

বৈঠকের প্রাক্কালে গত সোমবার বাইডেন বলেছেন, ‘আমি রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে যাচ্ছি না। তবে রাশিয়া যদি তাদের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে আমরা তার জবাব দেব।’

গত সোমবার ন্যাটোর বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৈঠক নিয়ে বলেছিলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সীমা নির্ধারণ করে দেবেন তিনি। তিনি ওই সময়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তাঁর যোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি পুতিনকে ‘কঠোর’ নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা মিত্রদের দূরত্ব কমানোর বার্তা নিয়ে ইউরোপ সফর করছেন জো বাইডেন। তিনি জি-৭ সম্মেলন ও ন্যাটোর বৈঠকে অংশগ্রহণের পর মঙ্গলবার জেনেভার পৌঁছান।

সম্মেলন শুরুর আগে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন রয়টার্সকে বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কিছু কড়া বার্তা দিতে পারেন।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট আলোচনা করবেন। তাঁরা আলোচনা করবেন কৌশলগত স্থিতিশীলতার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। বিভিন্ন আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনের উপায় নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন। করোনা মহামারি মোকাবিলাসহ আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে তাঁরা বৈঠকে আলাপ করবেন।

খুব কম বিশেষজ্ঞই বাইডেন-পুতিন বৈঠক থেকে নাটকীয় কোনো ফল আশা করছেন। কেননা, বাইডেন কেবল ক্রেমলিনের সঙ্গে একটি কার্যনির্বাহী সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। অন্যদিকে রাশিয়া ঠিক কী চায়, তা অস্পষ্ট।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ফ্লোরিডায় হারিকেন ইয়ানের আঘাতে ৬৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১২:১৪ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ফ্লোরিডায় হারিকেন ইয়ানের আঘাতে ৬৬ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হারিকেন ইয়ানের আঘাতে অন্তত ৬৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলিনায় ঝড়ের সময় দুর্ঘটনাজনিত কারণে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে এসব তথ্য।

এদিকে, ফ্লোরিডার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার পুয়ের্তো রিকো ও বুধবার ফ্লোরিডায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে দেখবেন তিনি। 

ইয়ানের কারণে শনিবার পর্যন্ত বহু এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঘূর্ণিঝড় ইয়ান ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে শুক্রবার ফ্লোরিডার মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে সরে যায়।

এর আগে ইয়ান ফ্লোরিডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হতে পারে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ফ্লোরিডা   হারিকেন ইয়ান  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মাহসা আমিনির মৃত্যু: প্রতিবাদের ঢেউ সামলাতে পারবে ইরান?

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail মাহসা আমিনির মৃত্যু: প্রতিবাদের ঢেউ সামলাতে পারবে ইরান?

বিক্ষোভ চলাকালে আগুনের সামনে স্কার্ফ খুলে হাতে নিয়ে প্রতিবাদ করছেন এক তরুণী। একাকী এক বৃদ্ধা, তার সাদা চুল খুলে, ‘খামেনির মৃত্যু!’ শব্দধ্বনি শুনতে শুনতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং তার শাসনের বিরুদ্ধে এই তীব্র প্রতিবাদ।

ইরানে জনসম্মুখে নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরাসহ কঠোর পর্দা পালনের নিয়ম রয়েছে। এই বিধিগুলো তদারক করার জন্য রয়েছে দেশটির ‘নৈতিকতা বিষয়ক’ পুলিশ। এই পুলিশের একটি দল গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনিকে তেহরান থেকে আটক করে। আমিনি তার পরিবারের সঙ্গে তেহরানে ঘুরতে গিয়েছিলেন। আটকের পর মাহসা আমিনি থানায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মাহসা আমিনির। এ ঘটনার প্রতিবাদে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের ডজন খানেকের বেশি শহরে। নিন্দার ঝড় বইছে বিশ্বব্যাপী। বহু বছর ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির ‘স্বৈরাচারী’ শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদী আন্দোলন হচ্ছে এবার। বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত ৮৩ জনের।

ব্যক্তিগত সাহস সম্মিলিতভাবে বিপ্লবের সূচনা করে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২, আলোচিত আরব বসন্তের কয়েক বছর কেটে গেছে। পুলিশের দুর্নীতির প্রতিবাদে ২০১০ সালে তিউনিসিয়ার সিদি বাওজিদ এলাকার ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ বাওয়াজিজি নিজের গায়ে আগুন জ্বালিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। সেই ঘটনা থেকে হয় জন্ম আরব বসন্তের। ২৬ বছর বয়সী ওই যুবকের আত্মাহুতির খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশটিতে। আন্দোলনে ফেটে পড়ে পুরো দেশ। তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন দেশটির প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন বেন আলী। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বেন আলীর শাসনের সমাপ্তি ঘটে।

তিউনিসিয়ার বিপ্লবে উদ্বুদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন থাকা শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে ওঠে বাহরাইন, মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে। বেশ কিছু বছর ধরে কয়েকবার ইরানিরা তাদের দেশের শাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরিত হয়েছে। এবারও দমন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জন্ম হলো। তবে এখনকার আন্দোলনের সময়টা কি ভিন্ন হতে পারে?

এটা ভবিষ্যৎ বাণী করা প্রায় অসম্ভব। অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার বিক্ষোভ বেশি ছড়িয়ে পড়েছে ইরানে। তরুণদের সঙ্গে বয়স্করাও অংশ নিয়েছেন আন্দোলনে। কুর্দিসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও অংশ নিচ্ছেন এতে। তবে এখন পর্যন্ত নারীরাই সবচেয়ে সাহসিকতা দেখিয়েছেন এবারের আন্দোলনে। তবে ইরানের পুরুষরা যদি সমান মাঠে নামে তাহলে একটি ‘জঘন্য’ ব্যবস্থাকে অপসারণ করা, যদিও স্বল্পমেয়াদে এখনো অসম্ভব তবে অকল্পনীয় নয়।

চলমান বিক্ষোভে নারীদের ভূমিকা নতুন। আরেকটি পার্থক্য হলো দাবির বিষয়গুলোও বাস্তবে কঠিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সমসাময়িক তরুণরাও সামিল হচ্ছে আন্দোলনে। ২০১২ সাল থেকে মাথাপিছু আয় স্থবির হয়ে পড়েছে ইরানের। ফলে ৮৫ মিলিয়নের বেশি লোক কঠিন জীবনযাপন করছে দেশটিতে। ইরানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রাকৃতিক কারণে। নদীগুলোর পানি শুকিয়ে গেছে। চাষের জমি শুকিয়ে গেছে। অনেক ইরানির কাছে এখন একটি বিকল্প হতে পারে দেশ ছাড়া যাওয়া।

ইরানের শাসনব্যবস্থা আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। অভিযোগ আছে, ইরানের সমস্যা বিদেশিদের ওপর দোষ চাপানো। নিশ্চিতভাবেই, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞাগুলো অর্থনৈতিক দুরাবস্থাকে আরও গভীর করেছে, কিন্তু জনগণের দারিদ্র্যের জন্য প্রধান দায়ী দেশটির শাসন ব্যবস্থাই। অর্থনীতির কিছু অংশে সামরিক লোক এবং আয়াতুল্লাহদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নীতিগুলো একরোখা। ইরানের পার্লামেন্টে কট্টরপন্থিরা আধিপত্য বিস্তার করে, এবং তুলনামূলকভাবে সংস্কারমনা রাজনীতিবিদদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেওয়া হয়।

তা ছাড়া, কয়েক দশকের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির কারণে ইরান আইসোলেটেড হয়ে পড়েছে। দেশটি ইরাক ও লেবাননে মিলিশিয়া ও সিরিয়া, ইয়েমেনে নৃশংস নেতাদের সমর্থন করে। ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য হুমকি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি পারমাণবিক পরিকল্পনার সঙ্গে টিকে থাকে যা ইসরায়েলকে আতঙ্কিত করে এবং এই অঞ্চলকে বিচলিত করে এমনটাও বলা হচ্ছে। বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলেও, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের এতে মাথা ঘামানোর ঝুঁকি নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলে মনে করছেন অনেকে।

স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, বিদ্রোহকে উত্সাহিত করার জন্য পশ্চিমারা খুব কমই আগ্রহী হতে পারে কারণ বিশ্বের অন্যত্র যুদ্ধ চলছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের শাসনকে দুর্বল করেছে, তবে পরিবর্তন আনতে স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছে। বলা হচ্ছে, তেল সমৃদ্ধ ইরান মানবাধিকার নিয়ে পরোয়া করে না, বিশেষ করে চীনের মতো। ইরানের সঙ্গে চীনের ভালো অর্থনৈতিক সখ্যতা রয়েছে।

ইরানের সাহসীদের জন্য পশ্চিমা সরকারগুলো যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে পারে তা হলো তাদের সেন্সরশিপ এবং নজরদারি এড়াতে সহায়তা করা। দেশটির ইন্টারনেট সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের কঠোর শাসন থেকে মুক্তি পেতে তাদেরকেই লড়াই করতে হবে। এখন পর্যন্ত বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হচ্ছে। কোনো সম্ভাব্য নেতার আবির্ভাব হয়নি। তবে সবশেষ বিদ্রোহও শেষ পর্যন্ত ম্লান হতে পারে, যেমনটি আগেরগুলো হয়েছিল।

মাহসা আমিনি   ইরান   হিজাব ইস্যু  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১০:০১ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জন্মদিন আজ

অহিংস আন্দোলনের প্রতীক, শান্তিকামী নেতা মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর (মহাত্মা গান্ধী) জন্মদিন আজ। ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতের গুজরাট রাজ্যের পরবনদার শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জাতিসংঘ মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনটিকে অহিংসা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। মহাত্মা গান্ধী ভারতের জাতির পিতা।

গান্ধী ভারতে এবং বিশ্ব জুড়ে মহাত্মা (মহান আত্মা) এবং বাপু (বাবা) নামে পরিচিত। ভারত সরকার সম্মানার্থে তাকে ভারতের জাতির জনক হিসেবে ঘোষণা করেছে। 

মহাত্মা গান্ধী সমস্ত পরিস্থিতিতেই অহিংস মতবাদ এবং সত্যের ব্যাপারে অটল থেকেছেন। তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং একটি স্বায়ত্তশাসিত আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। তার নিজের পরিধেয় কাপড় ছিল ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ধুতি এবং শাল, যা তিনি নিজেই চরকায় বুনতেন। তিনি সাধারণ নিরামিষ খাবার খেতেন। শেষ জীবনে ফলমূলই বেশি খেতেন। আত্মশুদ্ধি এবং প্রতিবাদের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় উপবাস থাকতেন।

গান্ধী তার জীবনকে সত্য অনুসন্ধানের বৃহৎ উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, এবং নিজের উপর নিরীক্ষা চালিয়ে তা অর্জন করেছিলেন। তিনি তার আত্মজীবনীর নাম দিয়েছিলেন দি স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেণ্টস উইথ ট্রুথ যার অর্থ সত্যকে নিয়ে আমার নিরীক্ষার গল্প। গান্ধী বলেন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ছিল নিজের অন্ধকার, ভয় ও নিরাপত্তাহীনতাকে কাটিয়ে ওঠা। গান্ধী তার বিশ্বাসকে প্রথম সংক্ষিপ্ত করে বলেন, ঈশ্বর হল সত্য। পরবর্তীতে তিনি তার মত বদলে বলেন, সত্য হল ঈশ্বর। এর অর্থ সত্যই হল ঈশ্বরের ক্ষেত্রে গান্ধীর দর্শন

জন্মদিন   জন্মবার্ষিকি   করমচাঁদ গান্ধী   মহাত্মা গান্ধী  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সুইডেন-ফিনল্যান্ডের ন্যাটো সদস্য হওয়ার চেষ্টায় ফের হুমকি এরদোয়ানের

প্রকাশ: ০৮:৫৫ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail সুইডেন-ফিনল্যান্ডের ন্যাটো সদস্য হওয়ার চেষ্টায় ফের হুমকি এরদোয়ানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটো সদস্যপদ প্রাপ্তির প্রচেষ্টাকে আবারও রুখে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

শনিবার (১ অক্টোবর) তিনি বলেন, এই দুটি নর্ডিক দেশ আঙ্কারার কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তিনি তার অনুমোদন দেবেন না।

আঙ্কারায় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি বহাল না হওয়া পর্যন্ত, আমরা আমাদের নীতিগত অবস্থান বজায় রাখব।’

বিশদ বিবরণ ছাড়াই তিনি বলেন, “সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে কি না, তা আমরা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছি এবং অবশ্যই, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমাদের মহান সংসদের ওপর নির্ভর করবে।’

আঙ্কারা প্রথমে বলেছিল, ‘তারা পশ্চিমা জোটে দেশ দুটির সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ভেটো দেবে। এরদোয়ান তুরস্কে কর্মরত কুর্দি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার এবং তার কথায়, ‘সন্ত্রাসবাদ’ প্রচার করার জন্য তাদের অভিযুক্ত করেছিলেন।

আলোচনার পর এরদোয়ান বলেন, ‘তিনি তার আপত্তিগুলো প্রত্যাহার করবেন।’ তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে, তিনি এখনো তাদের সদস্যপদ লাভে বাধা দিতে পারেন। সব প্রতিশ্রুতির কথা প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ন্যাটো সদস্যপদ লাভের জন্য সবগুলো, অর্থাৎ ৩০টি ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন। শুধু হাঙ্গেরি এবং তুরস্ক এখনো তাদের সংসদে এই দুটি দেশের সদস্যপদের প্রচেষ্টা অনুমোদনের জন্য পাঠাতে পারেনি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এবং এই অঞ্চলে ক্রেমলিনের অন্যান্য পদক্ষেপের মুখে সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডে ঐতিহাসিক কিছু পরিবর্তন এসেছে।
হামলার পর নর্ডিক দেশগুলোর জনমত দ্রুত ন্যাটো সদস্যপদ লাভের পক্ষে চলে যায়।

সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

সুইডেন-ফিনল্যান্ডের   ন্যাটো সদস্য   হওয়ার চেষ্টায়   ফের হুমকি   এরদোয়ানের  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

গণতন্ত্রের দুর্গ এখন অতি-ডানপন্থীদের ?

প্রকাশ: ০৮:৫৪ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail গণতন্ত্রের দুর্গ এখন অতি-ডানপন্থীদের ?

ইউরোপকে বলা হত  উদারপন্থী গণতন্ত্রের দুর্গ। কিন্তু বিগত কয়েক দিন ধরেই উত্থান ঘটছে অতি-ডানপন্থী দলগুলোর। অভিবাসনবিরোধী, জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামবিদ্বেষী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে ভালো করতে দেখা যাচ্ছে বিগত দিনগুলোতে।

ইতালির নির্বাচনে অতি-ডানপন্থী দলগুলোর জোটের বিপুল বিজয় সবাইকে চমকে দিয়েছে। 

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনেকদিন ধরেই ডানপন্থী দলগুলো মাথা তুলছিল। ফ্রান্স, জার্মানি বা সুইডেনের মতো বেশকিছু দেশে এসব দল প্রধান রাজনৈতিক দলের কাতারে উঠে আসছিল। অনেক দেশে তারা ক্ষমতার বেশ কাছাকাছি এসে গিয়েছিল।

আর ইতালিতে ব্রাদার্স অব ইতালি এবং তার মিত্ররা বিপুল জয় পাবার পর অনেকেই মনে করছেন যে ইউরোপে ডানপন্থীদের উত্থান স্পষ্টভাবে সবার চোখে ধরা পড়েছে। ইউরোপের রাজনীতিতে হয়তো এক বড় পরিবর্তন আসন্ন।

কেন অতিডানপন্থী জোট ইতালিতে জয় পেলো? রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিক অধ্যাপক ড. রবার্তো দা'লিমন্ত বলছেন ইতালিতে লোকে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে - তবে অভিবাসন-বিরোধিতাই একমাত্র কারণ নয়।

তিনি বলছেন, "মিজ মেলোনির পার্টি ব্রাদার্স অব ইতালি - দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চিরকালই বিরোধীদলে ছিল। তবে এবার ইতালির অনেক ভোটার একটা পরিবর্তন আনার জন্য ভোট দিয়েছে। মিজ মেলোনি অভিবাসন ঠেকানো, ট্যাক্স কমানো এবং ইতালির আত্মপরিচয় তুলে ধরা, ব্রাসেলসে ইতালির জাতীয় স্বার্থরক্ষা - ইত্যাদি যেসব নীতির কথা বলেছেন - সেটা লোকে পছন্দ করেছে। তাছাড়া মেলোনি নতুন এবং ভিন্ন ধরনের একজন রাজনীতিক, তিনি আগে কখনো সরকারে ছিলেন না এবং তিনি তার পূর্বসূরীদের চেয়ে ভালো করবেন - এটাই লোকে ধরে নিয়েছে। তার বিজয়ের কারণ এগুলোই - কিন্তু আসল কারণ হচ্ছে লোকে একটা পরিবর্তন চেয়েছে।"

অধ্যাপক রবার্তো দা'লিমন্তর কথায় - "ব্রাদার্স অব ইতালি একটা র‍্যাডিক্যাল বা উগ্র ডানপন্থী দল। কিন্তু শুথু একারণেই যে তারা ভোট পেয়েছে তা নয়। অনেকে শুধু অভিবাসন ঠেকানোর শ্লোগানের জন্যই তাদের ভোট দিয়েছে - এটা ঠিক । কিন্তু সবাই নয়। বহুলোকেই তাদের ভোট দিয়েছে এই কারণে যে - এরা এতদিন বিরোধীদলে ছিল, এবার এদেরকে একটা সুযোগ দিয়ে দেখা যাক, এরা কি করতে পারে।"

প্রকৃতপক্ষে গোটা ইউরোপজুড়েই ডানপন্থী দলগুলো অনেক দিন ধরেই শক্তিশালী হচ্ছিল।

ফ্রান্সে ন্যাশনাল ফ্রন্ট , জার্মানিতে এএফডি, হাঙ্গেরিতে ফিডেস, সুইডেনে এসডি, স্পেনে ভক্স পার্টি, অস্ট্রিয়ায় ফ্রিডম পার্টি, ইতালিতে লিগ এবং ব্রাদার্স অব ইতালি - এ তালিকা আদৌ ছোট নয়।

একেক দেশে একেক নামের দল হলেও এদির অভিন্ন কিছু বৈশিষ্ট্য চোখে পড়বে। এরা সবাই কমবেশী জাতীয়তাবাদী, অভিবাসন বিরোধী, বিশেষ করে মুসলিম অভিবাসন বিরোধী এবং তাদের এ বিরোধিতা কোন কোন ক্ষেত্রে ইসলামবিদ্বেষী চেহারা নেয়।

প্রশ্ন হলো কেন ইউরোপজুড়ে এদের জনপ্রিয়তা এমনভাবে বাড়ছে? ফ্রান্সের এবং র‍্যালি ফর দ্য রিপাবলিক দলের সাবেক এমপি এবং রাজনীতিবিদ পিয়ের লেকিয়া বলছিলেন, এর একাধিক কারণ রয়েছে।

লেকিয়া বলেন, "নিশ্চিতভাবেই এর কোন একক কারণ নেই। আসলে অনেক মানুষই ইউরোপকে পুরোপুরি বোঝে না। এর কারণ ইউরোপের ভেতরেই রয়েছে। যেমন ফ্রান্সে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার - যা পূরণ হয়নি। সেসব সংস্কার করা হয়নি। মানুষ গরীব হচ্ছে, লোকের হাতে যথেষ্ট অর্থ নেই। জাতীয়তাবাদী দলগুলো এ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। তারা অভিবাসনকে এ জন্য দায়ী করছে। কিন্তু আসলে অনেক কাজের সুযোগ আছে - যা ফরাসীরা করতে চায় না, এবং সে চাকরিগুলো অভিবাসীরা নিয়ে নিচ্ছে। জাতীয়তাবাদীরা বলছে, অভিবাসন বেড়ে গেছে - তারাই ফ্রান্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে, কিন্তু এসব কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।"

"যদি ফ্রান্সের কথা বলি, ইইউ এবং অভিবাসন প্রশ্নে মারিন লা পেন আগে যে অবস্থান নিয়েছিলেন - তাতে অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। একসময় তিনি কড়া ইইউ বিরোধী ছিলেন, কিন্তু সবশেষ নির্বাচনের সময় দেখা গেল ইইউ এবং অভিবাসনের ক্ষেত্রে তার অবস্থান অনেক নরম হয়েছে আসলে তাদের প্রভাব কখনো বাড়ে, কখনো কমে। জার্মানিতে একটা সময় চরম ডানপন্থী দলগুলো ভালো করছিল, কিন্তু এখন তাদের জনপ্রিয়তা আবার কমে যাচ্ছে," বলেন পিয়ের লেকিয়া।

এক হিসাবে দেখা যায়, ইউরোপের অন্তত ১৯টি দেশে এখন ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল সক্রিয়। তার মধ্যে অন্ততঃ ১৪টি দেশের নির্বাচনে এসব দল ১০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে সুইডেনের নির্বাচনে অভিবাসনবরোধী অতিডানপন্থী দল এসডি দ্বিতীয় সর্বো্চ্চ ভোট পেয়ে কিংমেকারের ভুমিকায় আবির্ভূত হয়েছে।

সুইডেন এবং ইউরোপের সাম্প্রতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে দুটি বই লিখেছেন লেখক ফ্রেডরিক সেগারফেল্ড।

তিনি বলছিলেন, শুধু ইউরোপ নয়, সারা বিশ্বেই ডানপন্থী রাজনীতি জোরদার হচ্ছে।

তিনি বলছিলেন, "আমার মনে হয় এটি এক বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ। মানুষ একধরনের শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রণ এবং কর্তৃত্ব চাইছে। এটা শুধু ইউরোপে ঘটছে না, যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা, ব্রাজিল - এগুলো কয়েকটা উদাহরণ। এটা পৃথিবীতেই একটা প্রধান ধারা হয়ে উঠেছে। তবে দেশে দেশে এর চেহারা ভিন্ন। তবে সাধারণভাবে তারা প্রগতিশীলতার বিরোধী। এরা বলছে, শহুরে জনগোষ্ঠী আর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে, পরিবর্তনের গতি খুব বেশি দ্রুত হয়ে গেছে , দেশের সাথে একাত্মতাবোধ কমে যাচ্ছে। যেমন, সুইডেনে এখন জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরই জন্ম হয়েছে অন্য কোন দেশে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটা ঘটে গেছে।"

"আমি নিজে বহুসংস্কৃতিবাদের ভক্ত। কিন্তু এখানকার অন্য অনেক লোকই এতে অস্বস্তি বোধ করে। তারা তাদের চারপাশে তাদেরই মত মানুষদের দেখতে চায়। একদিকে তারা প্রগতিশীলতার বিরোধী - কিন্তু অন্যদিকে আবার তাদের চোখে 'কম প্রগতিশীল' এমন দেশ থেকে অভিবাসী আসাটাকেও তারা পছন্দ করছে না - কারণ তারা দেখছে যে এর ফলে পশ্চিমা সমাজের প্রগতিশীল আদর্শগুলোই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। একে একটা স্ববিরোধিতাই বলতে হবে," বলছিলেন ফ্রেডরিক সেগারফেল্ড।

তার কথায় - "আসলে সুইডেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ আগে থেকেই অ্যাসাইলামের মাধ্যমে অভিবাসনের বিরোধী ছিল। কিন্তু এটা রাজনৈতিক এজেন্ডার শীর্ষে ছিল না। এর মধ্যে অপরাধ-সহিংসতা বেড়ে গেছে, এবং লোকে এটাকে অভিবাসনের সাথে সম্পর্কিত করছে।"

বিশেষ করে ২০১৫ সালে সিরিয়া থেকে আসা প্রায় ১০ লক্ষ শরণার্থী জার্মানি এবং ইউরোপের অন্য দেশ আশ্রয় পাওয়াকে কেন্দ্র করে অভিবাসন নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হতে থাকে। ডানপন্থী দলগুলোর চোখে এই ঘটনা অভিবাসন-বিতর্ককে ভিন্ন এক মাত্রা দেয়।

ফ্রেডরিক সেগারফেল্ড বলছেন, "এর একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ । উত্তর-ঔপনিবেশিক যুগে মুসলিমদেরই দেখা হচ্ছে ইউরোপিয়ান খ্রিস্টানদের বিপরীত বা 'ভিন্ন' হিসেবে। এবং ইউরোপের বিভিন্ন অংশেই এখন মুসলিমবিরোধী সেন্টিমেন্ট কাজ করছে। অন্যদিকে এখানে ডেনিশ-সুইডিশ একজন রাজনীতিক কোরান পোড়ানোর মত ঘটনা ঘটিয়েছেন। ফলে এ বিতর্ক এখানে চলছে যে, কীভাবে আমরা অভিবাসন-বিরোধিতা বা ইসলামবিদ্বেষের মত উস্কানির মুখে এই সমাজকে রক্ষা করতে পারি।"

ফ্রেডরিক সেগারফেল্ড বলেন, সুইডেনে কখনোই ফ্যাসিস্ট বা নাৎসীরা ক্ষমতায় ছিল না। কিন্তু ইতালিতে নিও-ফ্যাসিজম কখনোই পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

"এখন ইউরোপের অনেক দেশেই ডানপন্থী দলগুলোর অস্তিত্ব একরকম স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে যাচ্ছে। এরা আগে চরমপন্থী ছিল কিন্তু এখন মধ্য-ডানপন্থী অবস্থান নিচ্ছে, রাজনীতিতে তারা মূলধারায় জায়গা করে নিতে চেষ্টা করছে, এবং তারা আরো বেশি করে গ্রহণযোগ্যতাও পেয়ে যাচ্ছে। তারা গণতন্ত্রের জন্য ততটা ঝুঁকি নয় - তার চেয়ে বরং তারা উদারপন্থার জন্য চ্যালেঞ্জ। বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের ইতিহাসে আমরা এখন সবচেয়ে অ্যান্টি-লিবারেল সময় পার করছি। "

ইউরোপ জুড়ে ডানপন্থীদের প্রভাব বাড়তে থাকায় তা অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে অধ্যাপক রবার্তো দা'লিমন্ত বলছিলেন, ডানপন্থী দলগুলো অভিবাসন ঠেকানোর কথা বললেও আসলে ক্ষমতায় গিয়ে এ ব্যাপারে অন্তত স্বল্প মেয়াদে তেমন কিছুই করতে পারবে না।

"জর্জা মেলোনি অভিবাসন নিয়ে কথা বলে যাবেন, কিন্তু খুব শিগগীরই তিনি আবিষ্কার করবেন যে নৌকায় করে অভিবাসীদের আসা ঠেকানোর ব্যাপারে তিনি খুব বেশি কিছু করতে পারবেন না। এজন্য আসলে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল দরকার, স্বল্পমেয়াদি কোন কিছুতে কাজ হবে না। তাকে মেনে নিতে হবে যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে তার দরকার, ইইউর সাথে তাকে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। কারণ অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য ইতালি ইইউর অর্থ পাচ্ছে।"

অধ্যাপক দা'লিমন্ত মনে করেন, জর্জা মেলোনিকে এক জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। কিন্তু তিনি হয়তো অভিবাসন ঠেকানোর কথা বলেই যাবেন - কারণ ভোটারদেরকে রাজনীতিবিদরা জটিল জিনিস শোনাতে চায় না, তারা সবসময় সহজ সমাধানের কথা বলে।

প্রশ্ন হচ্ছে, ইতালির পর ইউরোপের অন্য দেশেও কি একই ভাবে ডানপন্থী দলের উত্থান হতে পারে? এতদিন ইউরোপ যেমন পৃথিবীর সামনে গণতন্ত্র মানবাধিকার আর উদারপন্থার দৃষ্টান্ত হয়ে ছিল - তা কি এখন আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে?

সাবেক ফরাসী রাজনীতিবিদ পিয়ের লেকিয়া বলছিলেন, তিনি তা মনে করেন না।

তিনি বলছেন, "আমি ব্যক্তিগত ভাবে তা মনে করি না। তবে তারা বিপজ্জনক, এবং আমার মনে হয় তাদের ব্যাপারে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।"

ফ্রেডরিক সেগারফেল্ড অবশ্য মনে করেন ডানপন্থার উত্থান খুব শিগগীর থেমে যাবে এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

"আমার মনে হয় এটা বেশ কিছু দিন চলবে। আমাদের উদারপন্থা, সহিষ্ণুতা এবং খোলা-দুয়ার নীতিকে রক্ষা করতে হবে। ডানপন্থী দলগুলোর উত্থানের এই ধারার অবসান ঘটার জন্য চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু আমরা এটা পারবো কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই। কারণ পুরো ইউরোপ মহাদেশ জুড়েই এটি একটি শক্তিশালী ধারায় পরিণত হয়েছে। তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যে এর ফলে হুমকির মুখে পড়বে তা আমার মনে হয় না। "

তবে অধ্যাপক রবার্তো দা'লিমন্ত বিষয়টিকে দেখতে চান ভিন্নভাবে।

তার কথা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এমনটা হয়েই থাকে এবং অতিডানপন্থীদের এ উত্থান হয়তো একটা সাময়িক ব্যাপার।

তিনি বলেন,"আমরা এত অবাক হচ্ছি কেন? এটা গণতন্ত্র । মানুষজন মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, অভিবাসন এসব নিয়ে বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ। তারা সরকারের কাছ থেকে সুরক্ষা চায়। বামপন্থী দলগুলো এই সব মানুষদের সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছে। সেজন্যই তারা ডানপন্থীদের দিকে মুখ ফিরিয়েছে। এখানে হতাশ হলে তারা হয়তো আবার বামপন্থীদের দিকে তাকাবে। মানুষের সমর্থন পেন্ডুলামের মতো একবার এদিকে একবার ওদিকে যাবে - গণতন্ত্রে এটা খুবই স্বাভাবিক। আমার মনে হয় আসল প্রশ্ন হচ্ছে - যারা ক্ষমতায় আসছে তাদের দেশ পরিচালনার সক্ষমতা আছে কি না। "

আসলে ইউরোপের রাজনীতিতে অতিডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি সবে শুরু হয়েছে এবং বলা যায় যে এটা হয়তো আরো কিছুদিন চলবে। তবে এটা স্পষ্ট যে যে তারা ১০ বছর আগে যেমন ইউরোপের রাজনীতিতে একটি ক্ষীণ ধারা ছিল - এখন তা আর নেই।

ডানপন্থী   ইতালি   রাজনৈতিক উত্থান  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন