ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে কারণে কাউকে জয়ী ঘোষণা করা হয়নি

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২১ শুক্রবার, ০৮:৪৮ পিএম
পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে কারণে কাউকে জয়ী ঘোষণা করা হয়নি

পেরুতে ৬ জুন দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিভাজন সৃষ্টিকারী এ নির্বাচনে ভোটারদের দুজন প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে বলা হয়। যদিও নির্বাচনে ভোট গণনার পর এখন পর্যন্ত দেশটির নির্বাচন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কাওকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে নি। 

দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রার্থীর একজন পেদ্রো কাস্তিলিও। অপরজন কেইকো ফুজিমোরি। তাঁরা পুরোপুরি দুই ভিন্ন মতাদর্শের রাজনীতিক। কাস্তিলিও বামপন্থী। কেইকো ডানপন্থী।

নির্বাচনের পর ভোট গণনা শেষ করতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যায়। কিন্তু ভোট গণনার পর এখন পর্যন্ত দুই প্রার্থীর মধ্যে কাউকেই জয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

কে কত ভোট পেলেন

পেরুর ন্যাশনাল অফিস অব ইলেকটোরাল প্রসেসেস (ওএনপিই) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা করে। পেরুতে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানের। ১৫ জুন ভোট গণনা শেষ হয় বলে জানায় ওএনপিই।

গণনাকৃত ভোটের হিসাবে দেখা যায়, কাস্তিলিও পেয়েছেন ৫০ দশমিক ১২৫ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিপক্ষে কেইকো পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৮৭৫ শতাংশ ভোট।

অর্থাৎ কেইকোর চেয়ে কাস্তিলিও মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছেন, যা ৪৪ হাজার ৫৮ ভোটের সমান।

জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা কেন নয়

ওএনপিই নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকলেও জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণার এখতিয়ার আছে ন্যাশনাল ইলেকশনস জুরির (জেএনই)। এটি একটি স্বাধীন সংস্থা।  

জেএনইর প্রেসিডেন্ট জর্জ লুইস সালাস এরিনার ভাষ্য, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তাঁর সংস্থা কাজ করছে। ভোট পর্যালোচনা শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত পেরুর জনগণকে শান্ত থেকে অপেক্ষা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভোট পর্যালোচনা কেন

কেইকো ও কাস্তিলিও উভয় প্রার্থীর দলই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নতুন করে কিছু ভোট পর্যালোচনার আবেদন জানিয়েছে। কেইকোর অভিযোগ, গ্রামীণ এলাকাগুলোতে নির্বাচনে বড় ধরনের জালিয়াতি হয়েছে এবং কাস্তিলিওর ফ্রি পেরু পার্টি ভোট চুরি করেছে। তিনি গত সপ্তাহে দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষকে প্রায় দুই লাখ ভোট বাতিল করতে বলেন। তবে কেইকো তাঁর অভিযোগের পক্ষে খুব কমই বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ দিতে পেরেছেন।

কাস্তিলিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কাস্তিলিওর সমর্থকদের ভাষ্য, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তার জনসমর্থন শক্ত তাই প্রতিপক্ষ কেইকোর ভোট না পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস (ওএএস) পেরুর এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল। ওএএসের পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, নির্বাচনে গুরুতর অনিয়মের কোনো প্রমাণ তাঁরা পাননি।

ভোট গণনা পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর কাস্তিলিও দেখতে পান যে তিনি এগিয়ে আছেন। তিনি তাঁর টুইটার প্রোফাইলে পরিচয়সংক্রান্ত বিবরণ পরিবর্তন করে লিখেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত’।

যদিও তাঁর প্রতিপক্ষ কেইকো পরাজয় স্বীকার করেননি।
ভোটের অভিযোগের বিষয়ে শুনানি শুরু করেছে জেএনইর। এ শুনানি শেষ হতে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।