ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

টিকটকে অসম্ভবকে সম্ভব করাই খাবি লামের কাজ

নিজস্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২১ শুক্রবার, ০৯:৩৬ পিএম
টিকটকে অসম্ভবকে সম্ভব করাই খাবি লামের কাজ

উত্তর ইতালির শহর কিবাসোর এক কারখানায় কাজ করা তরুণ হয়ে উঠেছেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিকটক তারকা। গত বছর করোনাকালের শুরুতে চাকরি হারিয়ে বাসায় বসে ভিডিও বানিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন খাবি লাম নামের এই তরুণ।

চাকরি হারানোর পর খাবি লাম ফিরে যান মা–বাবার ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে। বাবা বারবার নতুন কাজ খুঁজতে বললেও খাবানে পড়ে রইলেন টিকটক নিয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করে ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করা শুরু করেন ‘খাবি লামে’ নামে। তার সাবলীল উপস্থাপনা এবং মুখের হাস্য-উজ্জ্বল অভিব্যক্তি তাকে খুব অল্পসময়ে তুলে এনেছে সবার উপরে।

টিকটকে ডুয়েট এবং স্টিচ নামে দুটি অপশন খুদে ভিডিও নির্মাতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ডুয়েটে মূল নির্মাতার ভিডিওর সঙ্গে নতুন ভিডিও যুক্ত করা যায়। দুটি একই সঙ্গে পাশাপাশি চলে। আর স্টিচে মূল ভিডিও দেখানোর পর নির্মাতা তাঁর ভিডিও যুক্ত করেন।

খাবি লামে এই দুই অপশন ব্যবহার করে ভিডিও বানাতে শুরু করেন। ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে, এমন ভিডিওগুলো বেছে নিলেন তিনি। এরপর মূল ভিডিওতে দেখানো একই কাজ নিজের মতো করে কত সহজভাবে করা যায়, তা দেখাতে শুরু করেন ফলোয়ারদের। অনেকটা রিঅ্যাকশন ভিডিওর তরিকায়। টিকটক ব্যবহারকারীরাও সাদরে গ্রহণ করলেন খাবি লামের মজার ভিডিওগুলো।

কখনো কলার খোসা ছাড়িয়ে দেখান। কখনো মোজা পায়ে দেন। কখনো টিউব থেকে টুথপেস্ট বের করেন। নির্বাক সে ভিডিওগুলোতে ২১ বছর বয়সী খাবি লামে কিছু বলেন না ঠিকই, তবে অভিব্যক্তি দিয়েই যা বোঝানোর বুঝিয়ে দেন—‘এমন সহজ কাজটিও পারো না?’

শুরুর দিকের ভিডিও গুলো ইতালিয়ান ভাষায় থাকলেও নির্বাক ভিডিও দিয়েই পৌঁছান মানুষের কাছে। এখন টিকটকে লামের অনুসারী ৭ কোটি ৩৬ লাখ।

 

যে হারে সংখ্যাটি বাড়ছে, আর তা যদি বজায় থাকে, তবে অচিরেই সবচেয়ে বেশি অনুসারী তাঁরই হবে। বর্তমানে শীর্ষে আছে চার্লি ডামেলিও—টিকটকে ১৭ বছরের এই তরুণীর অনুসারীর সংখ্যা ১১ কোটি ৭৯ লাখ।

খাবি লামের ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সফল হওয়ার মূলমন্ত্র হলও ধৈর্য। প্রায় প্রতিদিন নতুন ভিডিও নিয়ে হাজির হন টিকটকে ও ইনস্টাগ্রামে।

অন্যান্য টিকটক তারকার ভিডিও যেমন সুসম্পাদিত, খাবি লামের তেমন নয়। অন্যান্য তারকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভিডিও বানিয়েছেন, তবে খুব কম। আবার নকল অনুসারী কিনতে অর্থ খরচ করেননি। তাঁর শীর্ষপানে এগিয়ে যাওয়ার পুরোটাই অরগানিক।

 

টিকটকের ক্রিয়েটর ফান্ডের মাধ্যমে আয় করা শুরু করেছেন লামে। আবার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছেন। অনেক জনপ্রিয় তারকার সঙ্গে যৌথ ভিডিও বানানোর প্রস্তাব পাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।

খাবি লামে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ইতালীয় টিকটকার’ হিসেবে সমাদৃত হলেও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, তিনি ইতালিতেই ইতালীয় হিসেবে স্বীকৃত নন। খাবি লামে ইতালির নাগরিক নন। বয়স এক বছর থেকেই তাঁর ইতালিতে বসবাসের শুরু, পড়েছেন ইতালীয় স্কুলে। ‘সত্যি বলতে নিজেকে ইতালীয় হিসেবে প্রমাণ করতে আমার এক টুকরা কাগজের প্রয়োজন নেই’ বলেন তিনি।

খাবি লামের আদি নিবাস সেনেগাল হলেও বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিতি পেতে সেই পরিচয় কোন সমস্যার সৃষ্টি করে নি তার জন্য।

দিন কয়েক আগে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গকে খাবি লামের ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে কমেন্ট করতে দেখা গেছে। প্রাণের ফুটবল ক্লাব জুভেন্টাসের সাবেক ১০ নম্বর জার্সি-ধারী খেলোয়াড় আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোকে সঙ্গে নিয়ে ভিডিও পোস্ট করেছেন গত মাসে।

তারকা খ্যাতি থাকলেও খাবি লামে এখনো তাঁর ছোট্ট কক্ষে বড় ভাইয়ের সঙ্গেই থাকেন। আর ভিডিও করেন পুরনো এক মোবাইল ফোনে। ঘরের আলোকসজ্জাও তেমন জুতসই নয়। তবু মানুষ তাঁকে ভালোবাসে।

সবচেয়ে বড় কথা, টিকটকের প্রতিযোগিতার মনোভাব তাঁকে স্পর্শ করেনি। মাকে নিজেদের একটি বাড়ি উপহার দিতে চান। দুহাত ভরে অর্থ আয় করলেও সেটা স্বপ্ন পূরণের মতো যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন।

বিষয়: টিকটক , ইতালি