ঢাকা, রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দেশে দেশে কোরবানি ঈদের রকমারি 

আহনাফ তাহমিদ 
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২১ বুধবার, ০৬:২৬ এএম
দেশে দেশে কোরবানি ঈদের রকমারি 

দিন গড়ালেই ঈদ-উল-আজহা। করোনা মহামারীর কারণে এবারের ঈদ হয়ত অনেকের কাছেই কিছুটা ফিকে হয়ে যেতে পারে। তবে তা সত্ত্বেও আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় প্রস্তুতির কোনো কসুর করে না ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বের নানা মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন করা হয়। আসুন, সেগুলো সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক এক ঝলকে- 

সংযুক্ত আরব আমিরাত
কোরবানির ঈদ মূলত চাঁদ দেখার ওপর কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় না। আরব আমিরাত সরকার এই উৎসবকে কেন্দ্র করে অন্তত তিনদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ঈদের দিন সকাল বেলা নামাজ পড়ে আসবার পর ছোটদেরকে বড়রা “ঈদি” দিয়ে থাকে। এটি টাকাপয়সা হতে পারে, আবার হতে পারে কোনো উপহার। ঘরবাড়ি সুন্দর করে সাজানো হয়, পশু কুরবানীর জায়গাতে সুন্দর করে ধুয়েমুছে সাফসুতরো করে কুরবানীর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ঈদের দিনের স্পেশাল খাবার হিসেবে “দুধ খুর্মা” তৈরি করা হয়। 

তুরস্ক
তুরস্কের মানুষ কোরবানী ঈদের দিন নামাজ পড়ে পশু কোরবানি জন্য নির্ধারিত স্থানে যায়। এদিন তারা পশুকে মেহেদি কিংবা রঙিন কাগজ দিয়ে সাজিয়ে থাকে। তবে ইদানীং তুরস্কে পশু কুরবানী না দিয়ে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় দান করার চল শুরু হয়েছে। ঘরে মেহমান এলে তারা সাদরে সম্ভাষণ জানায়। বড়দের হাতে ছোটরা আদবের সাথে চুমু খায়। কেউ কেউ আবার ঈদের দিন বেড়াতে যায় নানা জায়গায়। 

মিশর
মিশরে ঈদ-উল-আজহাকে ঈদ-উল-কিবর বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ঈদ-উল-ফিতরের চেয়েও এই ঈদের তাৎপর্য মিশরের অধিবাসীদের কাছে বেশি। ঈদের দিন পরিবারের লোকজন এবং বন্ধুবান্ধবের সাথে সবাই হাসিমুখে দেখা করে সৌজন্য প্রদর্শন করে থাকে। “কোল সানা ওয়া ইনতা তায়েব” বলে তারা একে অপরকে সম্ভাষণ করে থাকে, যার অর্থ আপনার সারা বছরটিই ভালো কাটুক। এছাড়াও অসহায় ও দুস্থদের নানাভাবে সাহায্য ও আপ্যায়ন করা হয় এই ঈদের দিনকে উপলক্ষ্য করে। 

ইরান
ইরানের মুসলিম পরিবারগুলোতে ঈদের দিন ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরা হয়ে থাকে। মসজিদ এবং খোলা মাঠে পড়া হয়ে থাকে ঈদের নামাজ। ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা তেলাওয়াতও জাতীয় টেলিভিশনগুলোতে সম্প্রচারিত হয়। কোরবানি করা পশুর মাংস বিলিবণ্টন করা হয় এবং মজার মজার খাবার রান্না করা হয়। 

পাকিস্তান
অন্যান্য দেশগুলোতে তিনদিনের সরকারী ছুটি পালিত হলেও পাকিস্তানে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চারদিন ছুটির দিন কাটানো হয়। এইদিন ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানপাট সবকিছু বন্ধ থাকে। ঈদের দিন সবাই দেখাসাক্ষাত করে, মাংস বিতরণ করে এবং উপহার বিনিময় করে। 

সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ইত্যাদি দেশে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে আয়োজন মোটামুটি একই হয়ে থাকে। দেশগুলোতে ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করা হয়, দুস্থদের মাঝে মাংস বিতরণ করা হয়। তবে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি দুআ করা হয়, তা হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি শোকর গোজার করা এবং তিনি যেন আমাদের এই কোরবানি কবুল করে নেন, সেজন্য মোনাজাত করা।