ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

জার্মানি ও আমেরিকার মাঝে গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:৫৪ পিএম, ২১ জুলাই, ২০২১


Thumbnail

ইউক্রেনকে এড়িয়ে সরাসরি জার্মানিতে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে প্রায় প্রস্তুত এক পাইপলাইন৷ এই বিতর্কিত প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধ কাটাতে জার্মানি ও আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে৷

একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের বেড়ে চলা সংঘাত, অন্যদিকে সে দেশ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস আমদানির তোড়জোড় – এমন বৈপরীত্য সামলাতে জার্মানি হিমসিম খাচ্ছে৷ বিশেষ করে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে সে দেশের মধ্য দিয়ে পশ্চিম ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের কতটা লাভ হবে, সেই বিষয়টিও ‘নর্ড স্ট্রিম ২’ নামের প্রকল্পের উপর কালো ছায়া ফেলেছে৷ সে ক্ষেত্রে ইউক্রেন আর ‘ট্রানজিট ফি’ বাবদ কোনো অর্থ পাবে না৷

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমল থেকেই দলমতনির্বিশেষে আমেরিকার রাজনীতিকরা এই প্রকল্প বর্জন করার জন্য জার্মানির উপর চাপ দিয়ে আসছিল৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি এমনকি খোদ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দলের মধ্যেও এই প্রকল্পের বিরোধীর সংখ্যা কম নয়৷ ম্যার্কেল নিজে এই প্রকল্পকে বাণিজ্যিক হিসেবে গণ্য করে প্রকল্পের কাজ শেষ করার উপর জোর দিয়ে আসছেন৷ এবার আমেরিকার সঙ্গে রফার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠায় বাল্টিক সাগরের নীচ দিয়ে গ্যাস পাইপলাইনের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ শেষ হতে পারে৷ উল্লেখ্য, প্রায় ১,১০০ কোটি ডলার মূল্যের এই পাইপলাইনের প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে৷

জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে শেষ ওয়াশিংটন সফরে ম্যার্কেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বিতর্কিত এই প্রকল্প নিয়ে একটা রফার চেষ্টা শুরু করেছিলেন৷ এবার সেই বোঝাপড়া সম্পর্কে আরও খবর জানা যাচ্ছে৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র রয়টার্স, এপি ইত্যাদি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, যে রাশিয়া যদি ইউক্রেন বা পূর্ব ইউরোপের কোনো দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি মস্কোর বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ নিতে পারবে৷ বাইডেন প্রশাসন প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা চাপানোর অধিকারও ছাড়বে না৷ এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় এই বোঝাপড়া চূড়ান্ত রূপ পাবে৷ সেইসঙ্গে জার্মানি একশো কোটি ডলার অংকের নতুন এক তহবিলে অর্থ দিয়ে ইউক্রেনকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটন এখনো এই পাইপলাইন প্রকল্পকে জার্মানি ও ইউরোপের জন্য খারাপ চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে৷ তবে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সেই প্রকল্প বন্ধ করার সম্ভাবনা কম৷ তার চেয়ে হাতিয়ার হিসেবে রাশিয়ার জ্বালানি প্রয়োগের সম্ভাবনা বন্ধ করার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে বাইডেন প্রশাসন৷ প্রাইস অবশ্য জার্মানির সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেন নি৷ জার্মানি কিছু প্রস্তাব পেশ করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন৷ মার্কিন সংসদে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান দলের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে বোঝাপড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন৷ সব পক্ষ রাজি হলে এমনকি বুধবারই জার্মানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে কিছু সূত্র মনে করছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

১০ সন্তান জন্ম দেয়া নারীদের ১০ লাখ রুবল দেওয়ার ঘোষণা পুতিনের

প্রকাশ: ০৯:৫৩ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ১০ সন্তান জন্ম দেয়া নারীদের ‘মাদার হিরোইনে’ ভূষিত করবেন পুতিন

রাশিয়ার যেসব নারী ১০ বা তার বেশি সন্তান জন্ম দেবেন তাদের ‘মাদার হিরোইন’ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে বলে একটি ডিক্রি জারি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই পুরস্কারের আওতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক রুশ নারীকে দেওয়া হবে ১০ লাখ রুবল। সেই সঙ্গে তাদের প্রদান করা হবে রাশিয়ার পতাকা খচিত একটি স্বর্ণপদক। খবর ফক্সনিউজের।

ফক্সনিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশের জনসংখ্যা বাড়াতে তাই নতুন এই প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন পুতিন। ১০ বা তার বেশি সন্তান ধারণের জন্য নারীদের ১৬ হাজার ৬৪৫ ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ার জনসংখ্যা প্রতি মাসে গড়ে ৮৬ হাজার করে কমেছে। মূলত দেশটির জনসংখ্যা বাড়াতে এ পুরস্কার চালু করা হচ্ছে। যাতে শিশু জন্ম বৃদ্ধির হার হ্রাস না পায়।

তবে এ পুরস্কার পেতে হলে রুশ নারীদের একটি শর্ত পূরণ করতে হবে। সেটা হলো ১০ সন্তানকেই জীবিত থাকতে হবে। অবশ্য কোনো সন্তান সন্ত্রাসী হামলা বা সশস্ত্র সংঘাত ও যুদ্ধে মারা গেলে  ছাড় পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, ‘মাদার হিরোইনের’ প্রবর্তক ছিলেন সাবেক রুশ শাসক জোসেফ স্টালিন।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১০ সন্তানের জননীদের এ পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। 

তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের জনসংখ্যা ব্যাপক হারে কমে গিয়েছিল। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এ পুরস্কার প্রথা বিলুপ্ত হয়। এবার সেটিই পুনরায় চালু করছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। দম্পতিদের অধিক সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করতে এ পদক্ষেপ নিলেন তিনি।

‘মাদার হিরোইনে’ পুতিন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুক্তরাষ্ট্রে দুই প্লেনের সংঘর্ষ, নিহত ২

প্রকাশ: ০৮:৫৫ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail যুক্তরাষ্ট্রে দুই প্লেনের সংঘর্ষ, নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে দুটি প্লেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। 

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বিমান বন্দরে অবতরণের সময় প্লেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ওয়াটসনভিল নগর কর্তৃপক্ষ টুইটারে জানায়, বিকাল ৩ টার কিছু আগে ওয়াটসনভিল নগরীর বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। তবে এই শহরের বিমানবন্দরে সরাসরি বিমান অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য কোনো কন্ট্রোল টাওয়ার নেই।

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) মতে, দুর্ঘটনার সময় একটি টুইন-ইঞ্জিন সেসনা ৩৪০-এ দুজন লোক এবং একটি একক-ইঞ্জিন সেসনা ১৫২-তে শুধু পাইলট ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন যে একাধিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে তবে কেউ বেঁচে আছেন কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।

এফএএ ও জাতীয় পরিবহনবিষয়ক নিরাপত্তা বোর্ড ঘটনাটির তদন্ত করছে।

বিমানবন্দরটির চারটি রানওয়ে রয়েছে এবং এটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে ৩০০ টিরও বেশি নিজস্ব বিমান রয়েছে। এটি বছরে ৫৫ হাজারের বেশি অপারেশন পরিচালনা করে এবং বিনোদনমূলক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত হয় এসব বিমান।

ক্যালিফোর্নিয়া   প্লেন সংঘর্ষ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউক্রেনে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ের ব্যাপারে এরদোয়ানে সতর্কতা

প্রকাশ: ০৮:২২ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ইউক্রেনে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ের ব্যাপারে এরদোয়ানে সতর্কতা

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। এরপর প্রথমবারের মতো দেশটি সফরে গেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। সেখানে গিয়ে ব্ক্তব্য দেওয়ার সময় ইউক্রেনে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ের ব্যাপারে সতর্ক করলেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতিসংঘ মহাসচিবের মতো এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন তিনি। 

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ এখন রাশিয়ার হাতে। ওই পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে উভয়পক্ষের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা সতর্ক করেছেন। এবার সতর্ক করলেন ইউক্রেন সফররত এরদোয়ান ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। 

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লেভিভে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন এরদোয়ান ও আন্তোনিও গুতেরেস। বৈঠক শেষে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা আরেকটি চেরনোবিল চাই না। আমরা এর একটা সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আমাদের ইউক্রেনীয় বন্ধুদের পাশে আছি।”

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ইউক্রেনের ওই পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে বর্তমান যে পরিস্থিতি সেটা নিয়ে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। 

স্থাপনাটি বেসমারকিকরণ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের অবশ্যই এভাবে বলতে হবে, জাপোরিঝিয়ার যেকোনও ক্ষতিই হবে আত্মঘাতী।”

ইউক্রেন   পারমাণবিক বিপর্যয়   এরদোয়ান   সতর্কতা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বিশ্ব মানবতা দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮:০৪ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বিশ্ব মানবতা দিবস আজ

আজ  ১৯ আগস্ট। জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্বমানবতা দিবস। ২০০৯ সালে জাতিসংঘ এ দিনটিকে বিশ্ব মানবিক দিবস (World Humanitarian Day) হিসাবে ঘোষণা করে। যাঁরা চরম আত্মত্যাগ করে মানবসেবায় ব্রতী হয়েছেন, যাঁরা মানবকল্যাণে, মানবের উন্নতি সাধনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের উদ্দেশে আজ বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হবে। 

২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকে জাতিসংঘ কার্যালয় বোমা হামলার শিকার হয়। এতে ২২ জন কর্মকর্তা নিহত হন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৮ সালে সিদ্ধান্ত নেয়, ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১৯ আগস্ট বিশ্বমানবতা দিবস পালিত হবে। পরিষদ বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সংস্থাকে এ দিবস পালনের আমন্ত্রণ জানায়। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের সাধারণ নাগরিকদের মানবিক কাজের প্রতি সমর্থন জোরদার করা যায়।

বিশ্ব মানবতা দিবস  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

নথি কেলেঙ্কারি উসকে দিচ্ছে ট্রাম্প-বাইডেন দ্বিতীয় লড়াইয়ের সম্ভাবনা

প্রকাশ: ১০:০৪ পিএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail নথি কেলেঙ্কারি উসকে দিচ্ছে ট্রাম্প-বাইডেন দ্বিতীয় লড়াইয়ের সম্ভাবনা

বহু নাটকীয়তার জন্ম দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ডোনাল্ড  ট্রাম্প প্রার্থী হলে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যাবে। ২০২৪ সালের এই নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট শিবির থেকে ট্রাম্প ও বাইডেনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে ট্রাম্পের বাসভবন থেকে গোপন নথি উদ্ধারের ঘটনা এই আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতি গোপনীয় নথি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। ফ্লোরিডায় তাঁর পাম বিচের মার-আ-লাগো রিসোর্টে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। সেখান থেকে ১১ সেট অতি গোপন নথি পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি। রিপাবলিকান পার্টির নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তল্লাশিকে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরণের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। জো বাইডেনের কাছে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার দুই বছর পরে এ ধরনের কেলেঙ্কারিতে ট্রাম্পের নাম আসার বিষয়টিকে তাই আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প যদি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে এফবিআইয়ের এই তল্লাশি অভিযান তাঁকে আরও মরিয়া করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। রিপাবলিকান দলের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম অন্তত তাই মনে করেন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘আমার ধারণা ছিল, তিনি আবার লড়বেন। কিন্তু এখন সে ধারণা পোক্ত হয়েছে।’

ট্রাম্প যদি নির্বাচনে লড়েন তবে বাইডেনও লড়বেন বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বর্তমানে ৭৯ বছর বয়সী সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে বাইডেন ঐতিহাসিক মিশনে নামবেন। তাঁর এই মিশন হবে যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্পমুক্ত করা। এতে ২০২০ সালের নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার সেই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি আবারো ঘটতে পারে।

তবে এবারের লড়াই হবে ক্ষমতায় থাকা ৮১ বছর বয়সী (নির্বাচন সময়কালে) বাইডেনের সঙ্গে ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্পের। ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার দাবি থেকে এখনো সরে আসেননি ট্রাম্প। নির্বাচন–পরবর্তী ক্যাপিটল হিলের হামলা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করার চেষ্টা চালাচ্ছে বাইডেন নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। সব মিলিয়ে ট্রাম্প-বাইডেনের লড়াই বেশ কুৎসিত রূপ নিতে পারে বলেই বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষক আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক অ্যালান লিচম্যান বলেছেন, ‘যদি মনে করেন ট্রাম্পের ২০১৬ ও ২০২০ সালের প্রচারাভিযান জঘন্য ছিল। তবে আপনি কিছুই দেখেননি।’

রাজনৈতিক কৌশলবিদদের চোখে ট্রাম্পের বাসভবনে এফবিআইয়ের তল্লাশির ঘটনাটি পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত হিসেবে দেখা দিতে পারে। এ থেকে লাভবান হতে পারে দুই পক্ষই। বাইডেনের পক্ষে যুক্তি অবশ্য স্পষ্ট। রিপাবলিকান দলের নেতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন কেবল এফবিআইয়ের তল্লাশিই নয়, নানা অভিযোগের মামলা সক্রিয় হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়া থেকে শুরু করে প্রতারণা ও ধর্ষণের মতো মামলা। এগুলো রিপাবলিকানদের জন্য বিব্রতকর আর বাইডেনের ডেমোক্রেট পার্টির জন্য চাঙা হওয়ার মতো বিষয়। আগামী নভেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এ নির্বাচনের আগের পূর্বাভাসে ডেমোক্রেট পার্টি ও বাইডেনের ভরাডুবি হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তারা এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার ছক কষছেন।

ডেমোক্রেট পার্টির থিঙ্কট্যাংক হিসেবে পরিচিত থার্ড ওয়ে-এর বিশ্লেষক জিম কেসলার মার্কিন গণমাধ্যম দ্য হিলকে বলেছেন, স্টেরয়েড সেবনে যেমন ব্যথা কমে শরীর চাঙা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তেমনি ডেমোক্র্যাটদের চাঙা করেন।

এদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থনকারী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এডিটরিয়াল বোর্ড বলছে, বাইডেনের প্রথম দুই বছরের যে কর্মকাণ্ড, তাতে রিপাবলিকানদের উচিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে গণভোটে রূপে নিয়ে যাওয়া। ডেমোক্র্যাটরা নভেম্বর পর্যন্ত কথা বলতে পছন্দ করবেন। সত্যিকার অর্থে ট্রাম্প বিষয়ে তাঁদের কথা বলার শেষ সময় পর্যন্ত তাঁরা তা চালিয়ে যাবেন।

অবশ্য এ থেকে ট্রাম্পও সুবিধা দেখছেন। আবার তিনি আলোচনায়। চলে আসছেন মার্কিন নাগরিকদের ভাবনার কেন্দ্রে। তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী জনগণের সামনে নতুন একটি ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ হাজির করছেন।

রক্ষণশীল ম্যাগাজিন ন্যাশনাল রিভিউ-এর সম্পাদক রিচার্ড লোরি লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক লড়াই চালাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ রয়েছে। কিন্তু এর চেয়েও তাঁর কাছে মূল্যবান হচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে এফবিআই-এর তদন্ত। এটা আবার তাঁকে সবার মধ্যমণি করেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ভিকটিম হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।’

রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাইমারিতে ট্রাম্পের আবির্ভাব অন্যান্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধরাশয়ী করতে পারে। রিপাবলিকান দলের রাজনৈতিক কৌশলবিদ জন থমাস মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোকে বলেন, ‘ট্রাম্প এখন যদি (প্রার্থী হতে) চান, তবে এটা তাঁর না হওয়ার কোনো কারণ দেখি না।’

ট্রাম্প নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হলে বাইডেনও একই পথ অনুসরণ করতে পারেন। আগামী নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বাইডেন যদি ঘুণাক্ষরেও কিছু ভেবে থাকেন, তবে তা দূরে সরিয়ে রাখবেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব পলিটিক্যাল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক লারা ব্রাউন বলেন, ‘বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে আবার লড়াই হবে কি না, তা নির্ধারণে প্রথম চাল দেবেন ট্রাম্প। আমি মনে করি, ট্রাম্প নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণা দেন কি না, তার অপেক্ষায় আছেন বাইডেন। যদি ট্রাম্প নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেন তবে দ্রুতই তাঁকে অনুসরণ করবেন বাইডেন।’

প্রশ্ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা কাকে চান? সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক বাইডেন বা ট্রাম্প দুজনের কাউকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে চান না। গত জুলাই মাসে নিউজনেশন ও ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ একটি জরিপ চালায়। তাতে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চান না বাইডেন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। আর ট্রাম্পকে প্রার্থী দেখতে চান না ৫৭ শতাংশ ভোটার।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার বিষয়ে নিজের সমর্থনে গত মার্চ মাসে বাইডেন বলেছিলেন, ‘আমি খুব সৌভাগ্যবান হব, যদি পরবর্তী নির্বাচনে আমার বিরুদ্ধে একই ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।’

এ বছর বাইডেনের জন্য বেশ কঠিন সময় গেছে। গত কয়েক মাসে আইন ও নীতি সংশোধনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে তাঁর প্রশাসন। তবে এখনো জনপ্রিয়তার বিচারে তলানিতেই রয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪০ শতাংশ জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছেন বাইডেন।

এর আগে গত মাসে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চান না দলটির বেশির ভাগ সমর্থক। নিউইয়র্ক টাইমস-সিয়েনা কলেজের এক জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাইডেনকে যাঁরা সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেছে। জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জনপ্রিয়তা ৩৩ শতাংশে নেমে যাওয়ার কথা বলা হয়। তবে গর্ভপাতের অধিকার প্রত্যাহার নিয়ে ক্রোধের মুখেও সম্প্রতি বাইডেনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির বিষয়টি উপদেষ্টাদের আবার আশাবাদী করে তুলেছে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন