ঢাকা, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ইরাকি জনগণের জন্য মার্কিন সেনারা হচ্ছে এক নম্বর শত্রু

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২১ শনিবার, ০৫:১৯ পিএম
ইরাকি জনগণের জন্য মার্কিন সেনারা হচ্ছে এক নম্বর শত্রু

যখন আমেরিকা ও ইরাকের কর্মকর্তারা মার্কিন সামরিক মিশন অবসানের ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে যাচ্ছেন তখন ইরাকের মাটিতে মার্কিন সেনাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মন্তব্য করে সারা দেশে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেন।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাগদাদ এখনো আমেরিকার সাহায্য চায় এবং দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা রক্ষা করতে ইচ্ছুক।

তিনি বলেন, "উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে মোকাবেলার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন যে আন্তর্জাতিক জোট রয়েছে তাদের সঙ্গে আমাদের কাজ করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের মার্কিন সেনা প্রয়োজন।"

এদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাজেমি সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এ ব্যাপারে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি`র কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের জনপ্রিয় প্রতিরোধকারী সংগঠন হাশদ আশ-শাবির সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু মাহাদি আল-মুহান্দিসের এর হত্যাকাণ্ডের পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ইরাকের অন্যতম প্রতিরোধকামী সংগঠন আসাইব আহলুল হকের মহাসচিব কায়েস খাজালি বলেছেন, ইরাকের যে সমস্ত মানুষ তাদের সামরিক বাহিনী এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে গর্বিত তাদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেনের বক্তব্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।

তিনি বলেন, সবাই জানেন মার্কিন সেনা ইরাকে থাকা কোনমতেই বাগদাদের স্বার্থের সাথে জড়িত নয় বরং ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তিনি মার্কিন সেনাদেরকে ইরাক এবং ইরাকের জনগণের এক নম্বর শত্রু বলে উল্লেখ করেন।

জো বাইডেন এবং ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মাঝে আলোচিত ঘোষনার মাঝে থাকতে পারে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি তবে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার জন্য এবং দায়েশ-বিরোধী লড়াইয়ে বিমান সহায়তা দেয়ার নামে কিছু সেনা ইরাকে রাখা হবে। গত কয়েক বছর ধরে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

বিষয়: ইরাক , আমেরিকা