ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ইউরোপীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যার্কেল জনপ্রিয়তার তুঙ্গে

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার, ১০:০২ পিএম
ইউরোপীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যার্কেল জনপ্রিয়তার তুঙ্গে

এক সমীক্ষা অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টের পদ থাকলে বিদায়ী জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্কেল সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হতেন৷ ইউরোপে সংকট সামলানোর ক্ষেত্রে তার প্রতি গভীর আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে৷

রাষ্ট্রজোট হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষমতার রাশ কমিশন, পার্লামেন্ট ও সরকার পরিষদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া রয়েছে৷ নির্বাহী ক্ষমতার জন্য প্রেসিডেন্টের কোনো পদ নেই৷ এমন পদ থাকলে ইউরোপের মানুষ জার্মানির বিদায়ী চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের প্রতি বিপুল সমর্থন জানাতেন৷ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক জনমত সমীক্ষায় এমন এক চিত্র উঠে এসেছে৷ পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক ইউরোপীয় পরিষদ বা ইসিএফআর নামে ব্রাসেলস-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক পরিচালিত এই সমীক্ষা অনুযায়ী ১২টি ইইউ দেশের প্রায় ৪১ শতাংশ মানুষ ম্যার্কেলকে এমন এক পদে দেখতে চান৷ বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও পর্তুগালে তার জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো৷ নেদারল্যান্ডসের ৫৮ শতাংশ মানুষ ম্যার্কেলের প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন৷

অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ মাত্র ১৪ শতাংশ সমর্থন পেয়ে ১২টি ইইউ দেশেই ম্যার্কেলের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন৷ এমনকি ফ্রান্সেও ম্যার্কেল কাল্পনিক ইইউ প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেশি গ্রহণযোগ্য৷ সমীক্ষার আওতায় অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, সুইডেনসহ ১২টি দেশের মোট ১৬ হাজার ২৬৭ মানুষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল৷

সমীক্ষার পরিচালকদের মতে, আঙ্গেলা ম্যার্কেল শক্তিশালী ও স্থিতিশীল জার্মানির প্রতীক৷ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একাধিক সংকটের সময়ে ইউরোপের নোঙর হিসেবে নিজের অবস্থান জোরালো করে এসেছেন৷ তাছা়ড়া তিনি জার্মানিকে মোটেই বাকিদের উপর খবরদারির পথে চালিত করেন নি৷ ফলে জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে বিদায় নেবার পরে ম্যার্কেলকে ইউরোপের ক্ষমতাকেন্দ্রে দেখার বাসনা মোটেই বিস্ময়কর নয়৷ এমনকি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর সরকারি ব্যয়সংকোচের মতো অপ্রিয় নীতি সত্ত্বেও ইউরোপীয় নেতা হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা বাকিদের তুলনায় অনেক বেশি৷ ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের সময়ে তার উদার নীতিও সেই মনোভাবে চিড় ধরাতে পারে নি৷ তিনি না থাকলে বরং আন্তর্জাতিক স্তরে আরও সংকট দেখা দিতে পারতো বলে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সিংহভাগ মনে করে৷

ম্যার্কেল তথা জার্মানির অবস্থান সম্পর্কে ইউরোপে সম্ভ্রম ও শ্রদ্ধাবোধ সত্ত্বেও খোদ জার্মানিতে কিন্তু যথেষ্ট সংশয় বিরাজ করছে৷ সমীক্ষা অনুযায়ী সে দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যে জার্মানির সুবর্ণ যুগ শেষ হয়ে গেছে৷ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশার আলো তারা দেখছেন না৷ ইউরোপের বাকি অংশে সে বিষয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। সুত্র: ডয়েচে ভেলে