ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘সঙ্গতিপূর্ণ নয়’ বলে মমতার রোম সফর বাতিল করলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ শনিবার, ০৫:৫৩ পিএম
‘সঙ্গতিপূর্ণ নয়’ বলে মমতার রোম সফর বাতিল করলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোম সফরের অনুমতি দিল না পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। কী কারণে এই অনুমতি দেওয়া হয়নি তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তরফে জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী এই সফরে যেতে পারবেন না। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এই সফর ‘সঙ্গতিপূর্ণ নয়’, এমনটাই বক্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের।

এর আগেও একাধিকবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রোম সফরের ক্ষেত্রে ঠিক কোথায় আটকাল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। এই ঘটনাকে বিজেপির ‘হিংসুটে রাজনীতি’র প্রকাশ বলে দাবি করেছেন শাসকদলের বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়। অন্যদিকে বিজেপির জয়প্রকাশ মজুমদারের বক্তব্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম থাকে। পররাষ্ট্রনীতি বলে একটা বিষয় আছে। অকারণে এখানে রাজনীতি খোঁজা মুর্খামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

যখনই কোনও মুখ্যমন্ত্রী বিদেশ সফরে যান, যেহেতু তিনি তখন একটি দেশের প্রতিনিধি, তাই সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তরফে একটি ‘ওকে লেটার’ প্রয়োজন হয়। শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, কোনও সাংসদ, কোনও বিধায়ক গেলেও এই ‘ওকে’ প্রয়োজন। এটা একেবারেই ‘বেসিক প্রটোকল’-এর মধ্যে পড়ে। যদিও তা সব ক্ষেত্রে মানা হয় তেমনটাও নয় বলেই দাবি সূত্রের। তবে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোম সফর ঘিরে এই নিয়ম মানা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তরফে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে নবান্নে। সেখানে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই রোম সফরের দরকার নেই। এর বেশি কোনও ব্যাখ্যা সেখানে নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সূত্রে খবর, এ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যারও বিশেষ জায়গা থাকে না। মন্ত্রণালয়ের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ যথেষ্ট।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন, “হিংসুটে একটা রাজনৈতিক দল হল বিজেপি। সেই সমস্ত লোকেরা এখন সরকার চালাচ্ছে। ফলে যা হওয়ার হচ্ছে। কেন্দ্রের সরকারে যারা রয়েছে প্রত্যেকে পরশ্রীকাতর। প্রতিহিংসা পরায়ণ এরা। ভাবা যায় না, একটা আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তির বার্তা স্থাপনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে ওদের এত জ্বালা ধরে, সেটাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়। আসলে বিজেপি সারা ভারতবর্ষের বুকে বিজেপি যে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করেছে, তারা শান্তির কী বুঝবে। ওরা ডাক পায় না। তাই এ সব। তবে এ ভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকানো যাবে না। উনি অপ্রতিরোধ্য রাজনৈতিক নেত্রী। আগামীদিনে ওরা সেটা বুঝতে পারবে।”

অন্যদিকে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের এ প্রসঙ্গে বক্তব্য, “আসলে তাপসবাবুরা দল ও সরকারের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন বার বার। তাপসবাবু বা তৃণমূলের সিনিয়র লিডারদের কথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি, সরকার তার পররাষ্ট্রনীতির কথা বলছে, এখানে দল কোথা থেকে আসবে? সরকারের একটা বিদেশনীতি আছে। সরকার বদলায়, কিন্তু পররাষ্ট্রনীতি চলতে থাকে। এই সামান্যতম তথ্যটুকুও তৃণমূল জানে না। এ প্রসঙ্গেই আমরা বলে থাকি, আজ যদি এমন কোনও সংগঠন রোমের বার্তা পাঠায়, যার সঙ্গে ভারত সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সামঞ্জস্য নেই, সেখানে একজন মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়া যে উচিৎ নয়, তা তো জানাবেই। এই যুক্তিটাও বুঝতে পারছে না।”

প্রসঙ্গত, আগামী ৬ ও ৭ অক্টোবর রোমে বিশ্ব শান্তির উপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বেসরকারি এক সংগঠনের উদ্যোগে এই আয়োজন। সেখানেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।