ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কোয়াড : যেসব প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ চারটি দেশ

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার, ১১:০০ এএম
কোয়াড : যেসব প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ চারটি দেশ

যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া। কোয়াডের চার সদস্য প্রতিজ্ঞা করেছে তারা একসাথে কাজ করবে এবং মুক্ত-স্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল যাতে তারা নিশ্চিত করতে পারে, সেজন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। তবে বলা বাহুল্য যে, এক্ষেত্রেও তাদের মাথাব্যথার কারণ হচ্ছে চীন। 

এশিয়ার অঞ্চলগুলোতে সকল দেশ যাতে ঠিকভাবে করোনার টিকা যথাসময়ে পায়, সেজন্যও তারা একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু সমস্যা দূরীকরণে তারা ধীরে ধীরে কার্বন নিঃসরণ যাতে কম হয় এবং দ্রুত জলবায়ু লক্ষ্য যাতে পূরণ হয়, সেজন্যও তারা একসাথে কাজ করবে বলে জানিয়েছে। 

এ কাজগুলো পালন করার জন্য প্রতিবছর কোয়াডের সদস্যরা বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত করবে। এই বার্ষিক সম্মেলনে তারা কীভাবে কাজ করবে, কোন কোন সমস্যা দূরীকরণে আরও সচেষ্ট হবে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। সর্বোপরি, চীনকে যেন সমীকরণ থেকে হটানো যায়, তা নিয়ে কাজ করে যাবে নিরন্তর। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সম্মেলনেই কথা দিয়েছেন যে আগামী মাস থেকেই ভারত কোয়াড এবং অপরাপর দেশগুলোতে টিকা রপ্তানির কাজ শুরু করবে। ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রীংলাও বলেছেন যে কোয়াডের পক্ষ থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে টিকা সরবরাহের কাজ শুরু করা হবে। শুধু তাই নয়, মানসম্মত এবং খুবই সাশ্রয়ী মূল্যের টিকা সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কোয়াডে থাকা দেশগুলো সম্মত হয়েছে যে এই বছরের শেষে অন্তত এক বিলিয়ন ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকা সরবরাহ করা হবে। এই কাজ আরও আগেই করবার কথা ছিল কিন্তু এপ্রিল মাসে ভারতে করোনার সংক্রমণ মহামারী আকারে ধারণ করার ফলে তা কিছুটা বিলম্বিত হয়। 

চীনের কথা তারা না বললেও চার দেশের নেতারা কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন। এটি যে চীনকে নিজেদের ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে দূরে রাখার কিছু প্রচেষ্টা, সেটি বলার আর কোনো মহরত নেই। 
১) একটি মুক্ত, স্বাধীন অবাধ বিচরণক্ষেত্র তৈরি করা হবে। 
২) কোনো ধরণের বাহ্যিক শক্তির অপকর্ম মেনে নেয়া হবে না। 
৩) যা কিছু করা হবে, তাতে আন্তর্জাতিক আইন বিধিবদ্ধভাবে মেনে চলা হবে, 
৪) নিজেদের ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সুরক্ষার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। 
৫) নিজেদের ও ইনো-প্যাসিফিক অঞ্চলগুলোর মধ্যকার শান্তি, সুসম্পর্ক ও সহযোগিতায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। 

চার দেশের নেতা তাদের দেয়া বক্তব্যে আরও বলেন যে শান্তি ও আইন মেনে সব সমস্যার সুরাহা করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। এছাড়াও এখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা হবে। 

সমুদ্রাঞ্চলে বেইজিং-এর আধিপত্য বিস্তার, হংকঙের বিশেষ অবস্থান এবং তাইওয়ানের সাথে চীনের বিমাতাসুলভ আচরণ নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার শঙ্কা প্রকাশ করেন। এই কথা বলার কোনো দ্বিমত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই যে কোয়াড মূলত গঠন করা হয়েছে চীনকে টেক্কা দেবার জন্য এবং এশিয়াতে বর্তমানে চীনের আধিপত্য বিস্তারের যে স্বরূপ, তা থেকে তাদেরকে সরিয়ে আনা। পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, তা মোকাবিলা করার শপথ যখন চার দেশের নেতারা নেন, তখন এটি অস্বীকার করার উপায় থাকে না যে কোয়াড মূলত চীনের বিরুদ্ধেই দাঁড় করানো হয়েছে। আবার আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে এখন অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক- এই তিনটির কোনো ক্ষেত্রেই দাঁড়াতে না পেরে এশিয়া অঞ্চলে এসে কোয়াডের মতো জোট স্থাপন করেছে।