ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

শলৎসের নেতৃত্বে জার্মানির জোট সরকার প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫:২৬ পিএম, ২৫ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন এসপিডি দলের ওলাফ শলৎস। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ নভেম্বর) তিনি শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে কোয়ালিশন চুক্তি প্রকাশ করেছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর একাধিক ক্ষেত্রে আমূল সংস্কার করতে চায় নতুন এই জার্মান সরকার।

সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, চরম গোপনীয়তার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে জার্মানির তিনটি রাজনৈতিক দল পরবর্তী জোট সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে। সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি, উদারপন্থি এফডিপি ও পরিবেশবাদী সবুজ দলকে এবার শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে কোয়ালিশন চুক্তির অনুমোদন করতে হবে। এরপরই মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করে ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বে জার্মানির পরবর্তী সরকার কার্যভার গ্রহণ করতে পারবে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

কাশ্মীরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

প্রকাশ: ০৮:৩৮ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

খারাপ আবহাওয়ার কারণে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ-কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলটই নিহত হয়েছেন। সোমবার ( ডিসেম্বর) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে তথ্য জানানো হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটি সিয়াচেন হিমবাহে নেমে গেছে। কারাকোরাম রেঞ্জে অবস্থিত বিশ্বের দীর্ঘতম পর্বত হিমবাহগুলোর মধ্যে এটি একটি। পাকিস্তান ভারতের মধ্যে যুদ্ধের কারণে এটিকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এরই মধ্যে সিয়াচেনে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার সেনা পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহত দুই পাইলট হলেন মেজর ইরফান বের্চা মেজর রাজা জিশান জাহানজেব।

জানা গেছে, সিয়াচেনে প্রায়ই এরকম দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি ট্র্যাজেডির জন্য বেশ পরিচিত। জনশূন্য স্থানটিতে যুদ্ধের চেয়ে তুষারপাত তীব্র ঠাণ্ডায় বেশি সেনা মারা যায়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়। এর মধ্যে দুইটিই হয় কাশ্মীর নিয়ে।

১৯৪৭ সালের পর থেকেই কাশ্মীরের কিছু অংশ ভারত আর কিছু অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কাশ্মীরকে দুপক্ষই নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সু’চি এবং কারাগার: এক লাটাই সুতোর গল্প

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সালটা ১৯৮৮। অসুস্থ মৃতপ্রায় মায়ের সেবার জন্য ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড থেকে দেশে ফিরে আসেন অং সান সু চি। মিয়ানমারের স্বাধীনতার জনক ও তুমুল জনপ্রিয় নেতা অং সানের কন্যা তিনি। তুমুল জনপ্রিয় এই সামরিক নেতা দেশকে ব্রিটিশ বাহিনীর হাত থেকে রক্ষার পথ তৈরি করে গিয়ে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজে সেই স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি। ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সদ্য জন্ম নেওয়া দেশটি বেশিদিন গণতন্ত্রর স্বাদ উপভোগ করতে পারেনি, তার আগেই ১৯৬২ সালের ২ মার্চ দেশটিতে প্রথম সামরিক শাসনের শুরু হয়। সেই থেকেই অপার সম্ভাবনার দেশটি জ্বলছে বিদ্রোহের আগুনে। সেই আগুনে যেনো এক চামচ ঘি নয়, বরং আস্ত আগ্নেয়গিরি মতো বিস্ফোরণ ঘটান অং সান সু’চি দেশে ফিরে এসে। অসুস্থ মায়ের সেবা করতে এসে এক ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নিলে সেখানে তার বাবার প্রতি মানুষের অপার ভালবাসা তাকে বিমোহিত করে। তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন নিজ দেশের গণতন্ত্র উদ্ধারে বিদেশের সুখের জীবন, স্বামী, দুই সন্তান ছেড়ে মিয়ানমারেই অবস্থান করবেন। 

১৯৮৮ সালের সেই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর পরই তিনি সামরিক জান্তার রোষানলে পড়ে যান। ১৯৮৯ সালে প্রথম তাকে বন্দি করে সামরিক সরকার। তার দেশের মানুষের প্রতি নিষ্ঠা আর একাগ্রতা তাকে বিশ্ব দরবারেও তুমুল জনপ্রিয় করে তুলে। গৃহবন্দী থাকা অবস্থাতেই ১৯৯১ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। তাকে অনেকেই এশিয়ার নেলসন মেন্ডেলার সাথে তুলনা করতে শুরু করে। মিয়ানমারে প্রবেশে পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ২১ বছর গৃহবন্দী হিসেবে থেকে দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ২০১০ সালে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হন। এর পর তিনি তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে সচেষ্ট হন এবং ২০১৫ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিপুলভাবে জয় লাভ করে মিয়ানমারের প্রথম গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে সক্ষম হন।  

তবে তার সকল সংগ্রাম যেনো তিনি নিজ হাতে বাতাসে উড়িয়ে দেন, যখন ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির আরাকান অঞ্চলে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর বর্বর গণহত্যা পরিচালনা করে। সেই সময় তিনি অনেককে অবাক করে দিয়ে একেবারে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করেন এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে এই অন্যায়কে সমর্থন যোগান। তার এই মনোভাবের আরো প্রকোপ বোঝা যায়, যখন তিনি রোহিঙ্গা হত্যা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে ২০১৯ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে দাড়িয়ে যুক্তি প্রদর্শন করেন এবং কোন প্রকার গণহত্যা আরাকানে যে সংগঠিত হয়নি, তার ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তার এমন আচরণে বিশ্ববাসী বেশ বিস্ময় প্রকাশ করে কিন্তু তিনি তার মতের পক্ষে নিরবিচ্ছিন্নভাবে যুক্তি প্রদর্শন করে যান। আরাকানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর এমন নির্যাতনে সেনাবাহিনীর পক্ষে কথা বলায় তিনি নিজ দেশের মানুষের কাছেই বেশ সমালোচিত হন। বিশ্ববাসীর কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকে। 

২০২০ সালের নভেম্বর মাস। সাধারণ নির্বাচনে ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তার দলে তখন সাজ সাজ রব। আবারও সরকার গঠনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ঠিক এমন সময় দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পোষার মতো করেই যেন আচমকা বিপর্যয় নেমে এলো সুচির জীবনে। যে সেনাবাহিনীকে বাঁচাবার জন্য সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে নিজের অধ্যায়কে তিনি করেছিলেন প্রশ্নবিদ্ধ ও কালিমাময়, ঠিক এই সেনাবাহিনীই তাকে ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে গ্রেপ্তার করে। সু’চিকে বন্দী করার পিছনে সেনাবাহিনীর যুক্তি ছিলো ২০২০ সালের নির্বাচনে তার দল ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। এজন্য তারা সে নির্বাচনের ফলকে অবৈধ বলে সারা দেশব্যাপী সু’চির দলের লোকদের ধরপাকড় শুরু করেন। এসময় সু’চির বিরুদ্ধে ১১ মামলা দায়ের করে সেনাবাহিনী। এই সবগুলো মামলার শুনানি চলছে সামরিক আদালতে। 

সু’চির বিরুদ্ধে আনিত মামলাগুলোর মাঝে আছে নির্বাচনে কারচুপি, জনসাধারণকে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া, কোভিড নিয়ম ভঙ্গ করা, দুর্নীতি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন সহ আরো অনেক।

আজ (৬ ডিসেম্বর) সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জনসাধারণকে উস্কে দেওয়া এবং কোভিড নিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে সামরিক আদালত। সু’চির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সবগুলো প্রমাণিত হলে তার কমপক্ষে যাবত জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। 

একপলকে দেখে নেয়া যাক সু’চির জেল জীবন: 

২০ জুলাই, ১৯৮৯: বিরোধী এনএলডির সাধারণ সম্পাদক অং সান সু চিকে রাজ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে আটক করা হয় এবং রেঙ্গুনের ৫৪ ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউতে তার মায়ের বাড়িতে গৃহবন্দী করা হয়।

২৭ মে, ১৯৯০: গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় এনএলডি নব্বইয়ের সাধারণ নির্বাচনে ৮২ শতাংশের মত আসনে জয় লাভ করে। তবে নির্বাচনের সে ফলাফল সামরিক বাহিনী অস্বীকৃতি জানায়। 

১০ জুলাই, ১৯৯৫: ছয় বছর গৃহবন্দী থাকার পর ৯৫ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। 

৯ নভেম্বর, ১৯৯৬: রেঙ্গুনে অং সান সু চি এবং এনএলডি নেতা ইউ টিন উর সাথে একটি এনএলডি মোটর শোভাযাত্রায় প্রায় ২০০ জন লোকের দ্বারা আক্রমণের শিকার হন। বিশ্বাস করা হয় আক্রমণকারীরা সামরিক বাহিনীর সমর্থক ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইউএসডিএ) সদস্য। এই গোষ্ঠীটি সু’চির গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে। সামনে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা থাকার পরও তারা এই আক্রমণ প্রতিহত করতে কোন প্রচেষ্টা গ্রহণ করেনি। 

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০০: অং সান সু চিকে আবারো গৃহবন্দী করা হয়। যদিও তার কার্যক্রম ১৯৯৭ সালের শুরু থেকে কঠোরভাবে সীমিত করে দেওয়া হয়। 

৬ মে, ২০০২: সু’চিকে আবারো গৃহবন্দিত্ব থেকে পুনরায় মুক্তি প্রদান করে সামরিক জান্তা বাহিনী। এদিন তার বাড়ির সামনে হাজারো মানুষ ভিড় জমায় সমর্থন জানানোর জন্য। 

৩০ মে, ২০০৩: সরকার সমর্থিত একটি গোষ্ঠী আবারো সুচির উপর আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণে চারজন এনএলডি সমর্থক বডিগার্ড নিহত হন। এরপর পরই সেনাবাহিনী তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে ইনসেইন কারাগারে বন্দী করা হয়। আক্রমণের তিন মাস পর তাকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানেই তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। 

২৫ মে, ২০০৭: সামরিক জান্তা অং সান সু’চির গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়ায়।

২৮ মে, ২০০৮: ১৯৭৫ সালের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা আইন মোতাবেক, "তার মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আদেশ" এর অধীনে অং সান সু চি'র আটকের আদেশ ২৭ মে, ২০০৯ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। 

১০ আগস্ট, ২০০৯: সামরিক জান্তার প্রধান, প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জেনারেল থান শোয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে একটি নির্দেশনা জারি করেন যে আদালতের রায় যাই হোক না কেন, সু চির সাজা অর্ধেক হবে এবং তাকে গৃহবন্দী অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

৪ ডিসেম্বর ২০০৯: সুপ্রিম কোর্ট অং সান সু চির গৃহবন্দি আদেশের আপিল বিবেচনা করতে সম্মত হয়।

১৮ জানুয়ারি, ২০১০: সুপ্রিম কোর্ট সু চির আইনজীবীদের বর্ধিত গৃহবন্দিত্বের আপিলের চূড়ান্ত যুক্তি বিবেচনা করে। আদালত ঘোষণা করে এটির বিষয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে।

১৩ নভেম্বর, ২০১০: গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পান অং সান সু’চি।

অং সান সু চি   মিয়ানমার  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বুধবার জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে শপথ নেবেন ওলাফ শলৎস

প্রকাশ: ০৭:৫০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৬ বছর পর জার্মানিতে রাজনৈতিক পালাবদল হচ্ছে। এঞ্জেলা মার্কেল জমানার অবসান ঘটিয়ে চ্যান্সেলর হচ্ছেন ওলাফ শলৎস। করোনা সংকটসহ একাধিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে চায় নতুন জোট।

সপ্তাহান্তে এসপিডি ও এফডিপি দল নতুন জোট গড়ার লক্ষ্যে কোয়ালিশন চুক্তি অনুমোদন করেছে। সোমবার সবুজ দলও ভোটাভুটির মাধ্যমে সেই আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলছে। ফলে তিন দলের ‘ট্রাফিক লাইট কোয়ালিশ’ বুধবারই ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে দিন জার্মান সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগ এসপিডি নেতা ওলাফ শলৎসকে চ্যান্সেলর হিসেবে নির্বাচিত করবে। নতুন মন্ত্রিসভাও সে দিন শপথ নিতে পারে।

তার আগে আগামীকাল মঙ্গলবার তিন দল ১৭৭ পাতার কোয়ালিশন চুক্তি স্বাক্ষর করবে। বুধবার শপথ গ্রহণ করে শলৎস বৃহস্পতিবারই সংসদে চ্যান্সেলর হিসেবে প্রথম ভাষণ দিতে পারেন।প্রথা অনুযায়ী সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিবৃতিও দিতে পারেন তিনি। শুক্রবার শলৎস চ্যান্সেলর হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফরে সম্ভবত প্যারিস যাচ্ছেন।

জার্মানিতে করোনা সংকটের মাঝে রাজনৈতিক পালাবদলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার সুযোগ কম। ক্ষমতায় এসেই নতুন সরকারকে অবিলম্বে সংকট মোকাবিলার কাজে নামতে হবে। বিশেষ করে হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটের উপর বেড়ে চলা চাপের কারণে গোটা গণস্বাস্থ্য পরিষেবা হুমকির মুখে পড়ায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বিদায়ী সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী সরকার ইতোমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ চূড়ান্ত করেছে বটে, কিন্তু তাতে কাজ না হলে আরো জোরালো উদ্যোগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না শলৎস। 

সোমবারই এসপিডি দল মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করলে আগামী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম জানা যাবে। বলা বাহুল্য মহামারির মাঝে এই পদটির গুরুত্ব আরো বেড়ে গেছে। শলৎস তার মন্ত্রিসভায় সমান সংখ্যক নারী ও পুরুষ রাখার অঙ্গীকার করায় এসপিডি দলের প্রাপ্য সাতটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পাঁচটিতেই নারী প্রার্থীর নাম স্থির করতে হবে। এফডিপি ও সবুজ দলের মন্ত্রীদের তালিকা প্রকাশের পর এসপিডি দলকেই সেই ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

করোনা সংকট সামলানোর পাশাপাশি কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে চায় নতুন সরকার। শলৎসের নেতৃত্বে তিন দলের জোট পুরোপুরি পুনর্বব্যহারযোগ্য জ্বালানির পথে দ্রত এগোতে চায়। ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে জার্মানির বিশাল ঘাটতি দূর করতেও দ্রুত পদক্ষেপ নেবার অঙ্গীকার করেছে এই জোট। তবে তিন দলের স্বার্থের সংঘাত দূরে রেখে শান্তিপূর্ণভাবে সব ঘোষিত উদ্যোগ রূপায়ন করা কঠিন হতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। তবে শলৎস নিজে এই জোটের সাফল্যের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

২২ ভাষায় আসছে মমতার বায়োপিক

প্রকাশ: ০৩:৫৪ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বাংলার জননেত্রী হিসেবে পরিচিত। দেশের জননেত্রীর তকমাও পেতে শুরু করেছেন। গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে আগের থেকে অনেক বেশি।

এদিকে ত্রিপুরা, আসাম, গোয়াসহ একাধিক রাজ্যে নজর দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে পাঁচ রাজ্যে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে হিসেবে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। ইতোমধ্যেই সে রাজ্যে জোটের জন্য মমতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অখিলেশ যাদব। অবস্থায় মমতার সর্বভারতীয়ইমেজকেআরও উজ্জ্বল করতে তার বায়োপিক তৈরি হতে চলেছে বলে জানা গেছে।

সূত্রের খবর, চব্বিশের ভোটের আগেই যাতে সিনেমা মুক্তি পায় সেই বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। কথা বলা হচ্ছে সব নামিদামি পরিচালকের সঙ্গেও। অবশ্য তৃণমূলের মূল পছন্দ তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পাওয়া একাধিক বাঙালি পরিচালক। যদিও মেগা প্রজেক্ট নিয়ে শাসক দল মাঠে নামলেও কথাবার্তা এখনও কিছুই বিশেষ পাকা হয়নি।

প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে একজন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সে সম্পর্কেই আরও বেশি মানুষকে আমরা জানাতে চাই। তার সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা রয়েছে মানুষের মধ্যে। আমরা ডকুমেন্টারির মাধ্যমে তার প্যান-ইন্ডিয়া ইমেজ তৈরি করতে চাই।

বায়োপিকে রাজনীতিতে মমতার যাত্রা, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসেবে ভারতের অগ্রগতিতে তার অবদানের কথা তুলে ধরা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। খুব সম্ভবত গত ১০ বছরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার যে কাজগুলো করেছে সেগুলোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

বায়োপিকটি শুধুমাত্র ইংরেজি, হিন্দি বা বাংলা নয়, ভারতে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ২২টি আঞ্চলিক ভাষায় মুক্তি পাবে বলেও জানা যাচ্ছে। একবার বায়োপিক তৈরি হয়ে গেলে, তৃণমূল এটিকে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কাছে দেখানোর পরিকল্পনা করেছে। ছোট টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে গণসংযোগ এবং তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকেও হাতিয়ার করা হতে পারে বলে খবর।

এদিকে অনেকেই বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে মমতার অবদান কম নয়। ইতোমধ্যে তিনি ১০০টির বেশি বই, কবিতা লিখেছেন। নিজের সুর করা গানও গেয়েছেন। শুধু বাংলায় নয়, ইংরেজি, উর্দু এবং হিন্দিতেও তার সাহিত্যকর্ম পাওয়া যায়। সেই সবও উঠে আসতে পারে তার বায়োপিকে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

স্বামীর বানানো ব্লাউজ পছন্দ না হওয়ায় স্ত্রীর আত্মহত্যা

প্রকাশ: ০৩:৩৭ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

স্বামী পেশায় দর্জি হওয়া স্বত্ত্বেও স্ত্রীর পছন্দমতো ব্লাউজ বানাতে না পারায় ঝগড়ার সূত্রপাত। আর এরই জেরে আত্মহত্যা করেছেন বিজয়ালক্ষী নামে ওই নারী। ভারতের হায়দরাবাদে আম্বারপেট এলাকার গোলানকা থিরু মালা নগরে এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

জানা গেছে, হায়দরাবাদের গোলনাকা তিরুমালা নগরে স্কুলগামী দুই সন্তান, স্বামী শ্রীনিবাসকে নিয়ে ছিল বিজয়ালক্ষীর সংসার। তার স্বামী ফেরি করে শাড়ি, ব্লাউজ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বিক্রি করতেন। আর ঘরে বসে সেলাই করতেন ব্লাউজ, বিভিন্ন পোশাক। দুই থেকে একদিন আগে তিনি নিজের স্ত্রীর জন্য একটি ব্লাউজ সেলাই করেন। কিন্তু তা পছন্দ হয়নি বিজয়লক্ষ্মীর। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

বিজয়লক্ষ্মীর দাবি ছিল আবার নতুন করে সেলাই করে দিতে হবে ব্লাউজ। কিন্তু তার সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেন শ্রীনিবাস। পক্ষান্তরে শ্রীনিবাস জানিয়ে দেন, পছন্দ না হলে নিজের মতো করে ব্লাউজ সেলাই করে নিতে। বিষয়টি বিজয়লক্ষ্মীর কাছে প্রচণ্ড অপমানের মনে হয়েছে। ঘটনার দিন তাদের সন্তান যখন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দেখতে পায় ঘরের দরজা বন্ধ, একটানা দরজায় কড়া নাড়াতে থাকে। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলে না। এক পর্যায়ে খবর পৌঁছে যায় শ্রীনিবাসের কাছে। তিনি দৌড়ে বাড়ি ফেরেন। দেখতে পান ঘরের দরজা ভিতর থেকে আটকানো। তিনিও কড়া নাড়েন দরজায়। কিন্তু কোনো সাড়া মেলে না ভিতর থেকে। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর দরজা ভেঙে ফেলা হয়। তিনি ও অন্যরা দেখতে পান, ঘরের মধ্যে পড়ে আছে বিজয়ালক্ষীর মৃতদেহ। বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে। 

পুলিশ কর্মকর্তা পি. সুধাকর বলেছেন, শ্রীনিবাস তাদেরকে জানিয়েছেন যে এর আগেও যখন রাগারাগি হতো, হতাশায় ভুগতেন বিজয়ালক্ষী, তখন তার স্ত্রী নিজেকে ঘরের ভিতরে বন্দি করে রাখতেন। তাই তিনি এবারও বড় কিছু ঘটে যাবে ভাবতে পারেননি। এজন্য তাকে বাড়িতে একা রেখে বাইরে বেরিয়ে যান। যেহেতু বিজয়লক্ষী আত্মহত্যার কোনো নোট লিখে যাননি, সেজন্য এই মৃত্যুকে সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে একটি মামলা হয়েছে।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন