ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘সাধ্যমতো গরীব-দুঃখী মানুষকে সাহায্য করুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২০ শনিবার, ০৪:০০ পিএম
‘সাধ্যমতো গরীব-দুঃখী মানুষকে সাহায্য করুন’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘করোনা এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে আমাদের কাছে এবারের ঈদুল আযহা কিছুটা নিরানন্দের। কিন্তু তারপরেও আজ ঈদ, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। সবাইকে ঈদ মোবারাক। বিশেষ এই দিনে আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, আপনারা গরীব, দুঃখী মানুষকে সাধ্যমতো মাংস অর্থ বিতরণ করুন। ঈদ উদযাপন করুন, উপভোগ করুন, কিন্তু স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলুন।’ বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের আলাপচারিতায় অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদটা একটু নিরানন্দ এবং বিষাদময়। এমন ঈদ আমরা আগে দেখিনি। কিন্তু বাস্তবতার কারণে আমাদের এটা মেনে নিতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ সীমিত আকারে ঈদ পালন করছে। আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। করোনা সংকটের পাশাপাশি আমাদের দেশের কয়েকটি এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই আমরা আজ বাড়িতে বা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছি। সবাই মিলে আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করেছি, এই সংকট থেকে আল্লাহ যেন সবাইকে মুক্তি দান করেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মুখ্য চিকিৎসক বলেন, ‘দুঃখ কষ্টের মাঝেও কোরবানিতে জনগণের মধ্যে একটা স্বতস্ফুর্ত ভাব দেখা যাচ্ছে। এটা ভালো। মানুষ ধীরে ধীরে করোনার ভয় ভীতি কাটিয়ে উঠছে। যে যার মতো করে ঈদ উপভোগ করছে। কিন্তু এর মধ্যে আমরা যেন স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারটা ভুলে না যাই। ভয় কাটা ভালো, কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানাটা জরুরি।’

তিনি বলেন, সবার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, যারা কোরবানি দিচ্ছেন, আপনারা মাংস গরীব-দুঃখী মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেবেন। এর ফলে তারা একটা দিন অন্তত তৃপ্তি সহকারে খেতে পারবে। তাদের পুষ্টি চাহিদা মিটবে। তারাও ঈদের খুশির ভাগীদার বা অংশীদার হতে পারবে। একে করোনা, তার উপরে বন্যা। বহু মানুষ আছে, যারা এই দুর্যোগে সর্বশান্ত এবং বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ান। সাধ্য মতো তাদের সাহায্য করুন। কারণ সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে পারাটাই হলো ঈদের স্বার্থকতা। গরীব-দুঃখী মানুষগুলো যেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সেদিকে যেন আমরা একটু লক্ষ্য রাখি। তাহলে এই ঈদের যে তাৎপর্য, সেটা আরও মহিমান্বিত হবে।  

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, এবারের ঈদে আমরা দেখছি করোনা নিয়ে মানুষের ভয়টা কমেছে, সাহস বেড়েছে, আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ভয়কে জয় করতে পারবে এ ধরনের বিশ্বাস মানুষের মাঝে জন্মেছে। এটা একদিক থেকে ভালো। কিন্তু তারপরও বলবো যে, আপনারা স্বাস্থ্যবিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলুন। সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সচেতন হতেই হবে। কারণ করোনা কবে শেষ হবে, এটা আমাদের সবারই অজানা। সুতরাং আগামী দিনগুলোতে আমরা যেন ভালো থাকি, সুস্থ থাকি সে ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।