ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘বন্যার্তদের মাঝে মাস্ক, বিশুদ্ধ পানি, খাবার বিতরণ করুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২০ রবিবার, ০৪:০০ পিএম
‘বন্যার্তদের মাঝে মাস্ক, বিশুদ্ধ পানি, খাবার বিতরণ করুন’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘করোনা সংকটের মধ্যেই বন্যা শুরু হওয়ায় মানুষ এখন দিশেহারা। বহু মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের খাবার নেই, থাকার জায়গা নেই। এর উপরে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রোগব্যধি। এই মানুষগুলোর দিকে সবাই একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার চেষ্টা করুন। প্রশাসনের পাশাপাশি ধনবান ব্যক্তিদের উচিৎ এই মানুষগুলোকে মাস্ক, বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার দিয়ে সাহায্য করা।’ বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের আলাপচারিতায় অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘একে করোনা, তার উপর বন্যা। সব মিলিয়ে একটা জটিল অবস্থা তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে, অনেকে আবার নিজের ঘরেই বন্দি। অনেকে আবার দেখা যাচ্ছে গৃহ পালিত পশু নিয়ে একসঙ্গেই পানিতে ভাসছেন। খাবারের অভাবে দিন কাটাচ্ছেন বহু মানুষ। বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়াটাও দুষ্কর। মানুষ বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার না পাওয়ার বিভিন্ন রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

প্রবীণ এই চিকিৎসক বলেন, ‘বন্যা উপদ্রুত এলাকায় বিভিন্ন অসুখ বিসুখের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। যেমন- টাইফয়েড, প্যারা টাইফয়েড, জন্ডিস, আমাশয় বা ডায়রিয়া জনিত রোগ, পেটের পীড়া ইত্যাদি হতে পারে। এ ছাড়াও বুকে ভাইরাল ইনফেকশন হতে পারে। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাপানি বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, পানিবন্দি মানুষ এই সময়টায় নোংরা পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে তারা নানা রকম চর্মরোগেও ভুগতে পারে। চুলকানি, অ্যালার্জি এ ধরনের চর্মরোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বন্যা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে শিশুরা। বয়স্ক মানুষ এবং গর্ভবতী মায়েদের ঝুঁকিটা আরও বেশি।

প্রধানমন্ত্রীর এই মুখ্য চিকিৎসক বলেন, ‘বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোতে প্রশাসনকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও দেওয়া যেতে পারে। ওরস্যালাইন, কিছু ওষুধ তাদের ত্রাণের সাথে দেওয়া উচিৎ।’

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বন্যার মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করাটা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। তারপরও যতটা পারা যায় পরিষ্কার পানিতে গোসল করতে হবে। তাহলে চর্মরোগ এড়ানো সম্ভব হবে।’

করোনা মাঝে বন্যার্তদের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, বন্যায় অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আছেন। করোনার ঝুঁকি নিয়েই এক সঙ্গে অনেক মানুষ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। বাস্তবতার কারণেই সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মানাটা কঠিন। তারপরও সবাইকে যতটা সম্ভব সামাজিক দূরত্ব মানার চেষ্টা করতে হবে। মাস্ক পড়ে থাকতে হবে। প্রশাসনের এদিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি যারা ধনবান, হৃদয়বান ব্যক্তি আছেন, তাদের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তারা চাইলেই বহু মানুষকে মাস্ক, খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করতে পারেন।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শুধুমাত্র প্রশাসন বা সরকারের পক্ষে পুরো বিষয়টা সামাল দেওয়া কষ্টসাধ্য। এজন্য আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ যে যার মতো করে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো। আমাদের একটু সাহায্য বিপর্যয়ের মাঝেও এই মানুষগুলোকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে।’