ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`হৃদরোগের সব চিকিৎসাই ব্যয় বহুল`

মির্জা মাহমুদ আহমেদ
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার, ০৪:০০ পিএম
`হৃদরোগের সব চিকিৎসাই ব্যয় বহুল`
 
দেশে হৃদরোগজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতার চিত্র বেশ উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে বছরে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯২ জন হৃদরোগে মারা যান। এমন বাস্তবতায় দেশে আজ বিশ্ব হৃদরোগ দিবস পালিত হচ্ছে। হৃদরোগের কারণ, প্রতিকার, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। পাঠকদের জন্য  সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার নিজস্ব প্রতিবেদক মির্জা মাহমুদ আহমেদ।    
 
বাংলা ইনসাইডার: বর্তমান সময়ে মানুষ প্রায়ই হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এর কারণ কী?
 
এবিএম আব্দুল্লাহ: সারা পৃথিবীতে সংক্রমিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও অসংক্রমিত রোগগুলো এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে আছে; যার মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম। আমাদের দেশে সাধারণত হার্ট অ্যাটাকে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এর পেছনে অনেক গুলো কারণ আছে; বংশগত কারণে এ রোগ হতে পারে। বাবা, মা, ভাই-বোনের হৃদরোগ থাকলে এ রোগ হতে পারে। জিনগত পার্থক্য থাকলে এ রোগ হতে পারে। যারা অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান করেন তাদের এ রোগ হতে পারে। যাদের ওজন বেশি এবং একদমই শারীরিক পরিশ্রম করেন না, অলস জীবনযাপন করেন তাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশি। যারা চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খান তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। এছাড়া মানসিক চাপ, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া থেকেও অনেকের হৃদরোগ হতে পারে।
 
বাংলা ইনসাইডার: কোনো ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বোঝার উপায় কী?
 
এবিএম আব্দুল্লাহ: হঠাৎ করে বুকে ব্যথা, বুকের মাঝে ব্যথা, ব্যথা হাতের বাম দিকে ছড়িয়ে যাওয়া, চোয়ালের দিকে যাওয়া, হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট হওয়া, সুস্থবোধ করছেন কিন্তু শুতে পারছেন না- এমন লক্ষণগুলো হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ। এছাড়াও শ্বাসকষ্ট হতে পারে, বমি হতে পারে। বুক ধড়ফড় বা প্যালপিটিশন হলো হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ। অল্প পরিশ্রমে অনেকে হাঁপিয়ে ওঠেন বা অনেকের বুকে ব্যথা করে এগুলোও হৃদরোগের লক্ষণ। প্রাথমিকভাবে এরকম লক্ষণ দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করবেন। খুব সহজেই হৃদরোগ শনাক্ত করা যায়। হৃদরোগ শনাক্ত কঠিন কিছু না। আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে ‘হৃদরোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধটা খুব জরুরি’। একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে সারতে অনেক সময় লাগে। অনেকের সারা জীবন চিকিৎসা চালিয়ে নিয়ে যেতে হয়। হৃদরোগের চিকিৎসাও অনেক ব্যয় সাপেক্ষ। নিম্ন মধ্যবিত্ত, গরিব মানুষদের এ রোগের ব্যয়নির্বাহ করতে বেশ হিমশিম খেতে হয়। প্রাথমিকভাবে ওষুধপত্র দিয়ে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় পরবর্তীতে হার্টে ব্লক ধরা পড়লে রিং পরাতে হয়, বাইপাস করতে হয়। হৃদরোগের সব চিকিৎসাই ব্যয় সাপেক্ষ। সুতরাং হৃদরোগ থেকে বাচঁতে হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
 
বাংলা ইনসাইডার: কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে হৃদরোগ থেকে বাঁচা যায়?
 
এবিএম আব্দুল্লাহ: কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে হৃদরোগ থেকে বাঁচা যায়। প্রথমেই ধূমপান বর্জন করতে হবে। এমনকি ধূমপায়ীর সংস্পর্শেও আসা যাবে না। তামাক পাতা, জর্দা, গুল এগুলো পরিহার করতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পরিমিত আহার করতে হবে। খাশি বা গরুর গোশত, কলিজা, মগজ, গিলা, গুর্দা, ডিম কম খেতে হবে। প্রতিদিন কিছু না কিছু হাঁটাচলা, ব্যায়াম করতে হবে। বর্তমানে মানুষ হাঁটাচলা একদম কমিয়ে দিয়েছে। স্বল্পতম দূরত্বে রিকশা, গাড়িতে ভ্রমণ এগুলো পরিহার করতে হবে। যতটুকু সম্ভব শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। যতটুকু সম্ভব মানসিক টেনশনমুক্ত থাকতে হবে। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হবে। মানসিক অস্থিরতা, উদ্বিগ কমাতে হবে। মানসিক অস্থিরতা কমানোর ভালো উপায় হচ্ছে যার যার সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। ধর্মীয় অনুশাসন চর্চা করলে মন প্রফুল্ল থাকে।
যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিকসসহ বিভিন্ন রোগ আছে সেই সব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে না রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। বছরে অন্তত একবার চিকিৎসকের পরামর্শ দিতে হবে। যার যার রোগ অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব সাধারণ নিয়ম নীতি মেনে চললে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। হৃদরোগ থেকে বাঁচতে হলে সর্বস্তরের জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সচেতনতা তৈরিতে চিকিৎসক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।