ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘দেশে চীন ও রাশিয়ার ভ্যাকসিন ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা দরকার’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২১ মঙ্গলবার, ০৩:৫৯ পিএম
‘দেশে চীন ও রাশিয়ার ভ্যাকসিন ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা দরকার’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা: এম এ আজিজ বলেছেন, দেশে ভ্যাকসিন পাওয়ার বিষয়টি সঠিক দিকেই আগাচ্ছে। এখন এ বিষয়ে কোনো ধোঁয়াশা নেই এবং ভ্যাকসিন পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। 

ভ্যাকসিন পাওয়া এবং বিতরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা বলেছেন তিনি। পাঠকদের জন্য ডা. এম এ আজিজের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান।

ডা. এম এ আজিজ বলেন, কয়েকদিন আগে ভারতের সিরামের ভ্যাকসিন পাওয়ার বিষয় নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিলো তার কোনো ভিত্তি নেই। আগামী ২১ থেকে ২৬ তারিখের মধ্যে সিরামের ভ্যাকসিনের প্রথম চালান বাংলাদেশে আসবে। প্রথমে ৫০ লাখ ডোজ আসবে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। 

তিনি বলেন, এই মূহুর্তে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ভ্যাকসিন আসার পরে বিতরণ, সংরক্ষণ এবং যথাযথ প্রয়োগের বিষয়টা। এলক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে কমিটি করেছে তারা গতকালও মিটিং করেছেন এবং অতীতে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের যে অভিজ্ঞতা ও লোকবল আছে সেটা কাজে লাগানো হবে। সারাদেশে ৭‘শর মতো স্টোরেজ সেন্টার এবং ৩০ হাজার দক্ষ কর্মী আছেন টিকা দেয়ার জন্য। এ কারণে টিকাদান ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনে যে নীতিমালা দেয়া হয়েছে সেখানে যেসব জণগোষ্ঠিকে প্রথমে দেয়ার কথা বলা হয়েছে দেশে ইতিমধ্যে সেই তালিকা প্রণয়ণ চূড়ান্ত। 

অক্সফোর্ডের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে ফাইজারের ৮ লাখ ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে কিছু সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া বেক্সিমকোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১০ লাখ ভ্যাকসিন আসবে। একইসাথে কোভ্যাক্স কিছু ভ্যাকসিন দেবে। জনসন অ্যান্ড জনসন যে ৫০ কোটি ভ্যাকসিন উৎপাদন করবে তার পুরোটাই কোভ্যাক্স পাবে সুতরাং এখান থেকে বাংলাদেশ ভ্যাকসিনের একটা সাপোর্ট আসবে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার ভ্যাকসিন আনার জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা দরকার এবং তাদের ভ্যাকসিন দেশে ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একইসাথে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য কয়েকটি কোম্পানির সক্ষমতা আছে এবং তাদেরও উদ্যোগ নেয়া উচিৎ ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য। এভাবে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্যাকসিনের চাহিদা মেটাতে হবে। এখন ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা এবং ব্যবসা করার আর সুযোগ নেই। সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে যে সফলতা দেখিয়েছে ভ্যাকসিন দেয়ার ক্ষেত্রে সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করেন এই চিকিৎসক নেতা।