ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘কিশোরীরা অতিমাত্রায় স্বাধীন হয়ে প্রযুক্তির ফাঁদে জীবন দিচ্ছে’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৪:০০ পিএম
‘কিশোরীরা অতিমাত্রায় স্বাধীন হয়ে প্রযুক্তির ফাঁদে জীবন দিচ্ছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেছেন, আকাশ সংস্কৃতি উন্মুক্ত করে দিয়ে উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দেয়ার ফলে দিন দিন তারা অপরাধ প্রবণ হয়ে পড়ছে।

উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের অপরাধ প্রবণতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পাঠকদের জন্য ড. জিনাত হুদার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান।

ড. জিনাত হুদা বলেন, অল্প বয়স্ক এসব ছেলে-মেয়েদের হাতে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো তুলে দেয়ার আগে কি আমরা একবারের জন্যও ভেবে দেখেছি এর পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। অতি আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পাশ্চাত্য দর্শনের বিষয়গুলো যেমন অতিমাত্রায় স্বাধীনতা এবং সবকিছু উন্মুক্ত হচ্ছে। কিন্তু এটাকে সমাজ গ্রহণ করবে কি না সেটা বিবেচনা করার দরকার ছিলো। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ভালো দিকগুলো না নিয়ে নিষিদ্ধ দিকগুলো গ্রহণ করছে আমাদের সন্তানরা। ফলে এই বিষয়গুলোর প্রতি তাদের আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে এবং সেটা প্রয়োগ করার জন্য আক্রমনাত্মক হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে ছেলে-মেয়েরা পাশ্চাত্যের পোশাক, সংস্কৃতি ও আচরণকে সঠিকভাবে নিতে পারছে না। শুধু যে পাশ্চাত্য দর্শন অনুপ্রবেশ করছে বিষয়টা এমন নয়। এর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল সংস্কৃতিও হু হু করে আমাদের সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়ছে।  ফলে এই প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে দুটো বিপরীতমুখী সংস্কৃতি বাঙালি সংস্কৃতিকে ক্ষতবিক্ষত করছে। আবহমানকালের চিরচেনা সংস্কৃতিকে ক্ষতবিক্ষত করছে। আর এই সাংঘর্ষিকতা এবং দাম্ভিকতার ফলে সন্তানদের আচার-আচরণ ঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে না। পরিবারের ভেতরে বাবা-মা সঠিক আচরণ করতে পারছেন না সন্তানদের সাথে। কিছু কিছু বাবা-মা নিজেরাই ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। আবার অনেক বাবা-মা মনে করেন ফেসবুক কিংবা ইন্টারনেট না চালালে গ্লোবাল হওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু গ্লোবাল হওয়া মানেই নিষিদ্ধ জিনিস কিংবা অনাকাঙ্খিত জিনিসের প্রতি আসক্ত হওয়া নয়।

তিনি আরও বলেন, এখন শুধু কিশোর নয় কিশোরীরাও মোহগ্রস্ত, বিভ্রান্ত, অতিমাত্রায় ক্ষমতাশীল কিংবা স্বাধীন মনে করে প্রযুক্তির ফাঁদে পড়ে জীবন দিচ্ছে কিংবা শরীর রক্তাক্ত করে পরিবার ও সমাজকে ধাক্কা দিচ্ছে। এটা আমাদের সমাজের জন্য অশনিংসকেত। এখন আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে সন্তানদেরকে সময় দেয়ার। পাশাপাশি তাদের পারিবারিক শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের মানবিক শিক্ষা দিতে হবে এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

বিষয়: জিনাতহুদা ,