ঢাকা, শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘সর্বক্ষেত্রে বাংলা চালুর বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শনিবার, ০৪:০০ পিএম
‘সর্বক্ষেত্রে বাংলা চালুর বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে’

কবি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেছেন, অফিসে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে এটা আমাদের জন্য আশার কথা তবে আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার কম।

সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার এবং ভাষা দিবসের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ড. মুহাম্মদ সামাদ। পাঠকদের জন্য ড. মুহাম্মদ সামাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান। 

ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, আমি ভাষার শুদ্ধ চর্চা চাই। তবে ফেসবুক কিংবা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া রেডিওতে ভাষাকে বিকৃত করে আঞ্চলিক উচ্চারণের প্রভাব বাড়ানো হচ্ছে। তবে সরকারের আন্তরিকতায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বাংলা ভাষার চর্চ্চা শুরু হয়েছে। 

তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার যথাযথ ব্যবহারের জন্য সরকার এবং রাষ্ট্রের নাগরিক সমাজকে আরও উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার আইন করলো কিন্তু আমরা নিজেদের মতো করে ভাষার বিকৃতি করলাম তাহলে সরকারের একার পক্ষে বাংলার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বেড়েছে। এখন অফিসের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনে বাংলা তারিখ পর্যন্ত উপরে দিতে হচ্ছে তার নিচে ইংরেজি তারিখ।

ড. মুহাম্মদ সামাদ আরও বলেন, মানুষের মধ্যে বিশেষ চেতনা জাগ্রত করতে হবে। ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। আমরা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি এবং আমাদের ভাষার প্রতি অন্য যেকোনো দেশের থেকে বেশি মায়া থাকার কথা। আমাদের ভাষা সংগ্রাম ও আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে সবাইকে ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিলো এবং সেখান থেকে ধাপে ধাপে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে কাজেই সেই ভাষার সংগ্রামটাকে গুরুত্ব দিয়ে ভাষাকে আরও যত্নসহকারে চর্চ্চা করতে হবে। 

তিনি বলেন, আমাদের সময়ে শিক্ষার মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ইংরেজি শিক্ষা দেয়া হতো কিন্তু এখন প্রথম শ্রেণি থেকেই ইংরেজির সঙ্গে পরিচিত করানো হয় সেটা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ। এক্ষেত্রে বাচ্চাদেরকে ইংরেজি শিক্ষার চাপ কমাতে হবে। শিশুরা চতুর্থ শ্রেণিতে গিয়ে ইংরেজি শুরু করলে এতে তারা শুরুতে বাংলার সাথে বেশি করে সম্পৃক্ত হতে পারবে। এ ছাড়া মানুষের মধ্যে এক ধরনের অহমিকা তৈরি হয়েছে যে ইংরেজি জানলেই সমাজের মধ্যে মর্যাদা বেশি পাবে এ ধরনের মনোভাব থেকে সরে আসতে হবে।

বিষয়: ভাষা , বাংলা