ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগে সতর্ক হওয়া দরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শুক্রবার, ০৩:৫৯ পিএম
‘মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগে সতর্ক হওয়া দরকার’

সিনিয়র সাংবাদিক ও টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেছেন, যারা দেশের বাইরে থেকে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক কথা বলবে তাদের কিছু করা যাচ্ছে না। অথচ দেশের মধ্যে মুক্তমনাদের গ্রেফতার করবেন শাস্তি দেবেন সেটা হতে পারে না। মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগে আরও সতর্ক হওয়া দরকার।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার লেখক মুশতাকের কারাগারে মৃত্যু এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। পাঠকদের জন্য মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান।

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ডিজিটাল অপরাধের শাস্তি হওয়া দরকার কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা, সৃজনশীল সাহিত্যের ক্ষেত্রে আইনটি প্রয়োগের বেলায় খুবই সতর্ক থাকা দরকার। সতর্ক থাকার জন্য আমরা প্রস্তবনা দিয়েছিলাম কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন হয় নি। আমরা আগে থেকেই বলেছিলাম যে ডিজিটালি যেসব অপরাধ হয় সেগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আইন দরকার। কিন্তু যে আইনটা করা হলো সে আইন নিয়ে আমরা বলেছিলাম যে আইনের একটা বড় ধরনের অপপ্রয়োগ হতে পারে লেখক, সাংবাদিকদের ব্যাপারে। আর সেটা এখন হচ্ছে এবং সেটা দুঃখজনক। এই আইনটাকে রিভিউ করা এবং এর অপপ্রয়োগ বন্ধের কথা বলেছিলাম। বিশেষ করে লেখক, সাংবাদিকদের মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে বিবেচনা করার কথা বলেছিলাম কিন্তু সেটা করা হয়নি। আর এই মামলাটা দীর্ঘদিনেও নিস্পত্তি হয় না। যে কারণে মুসতাকের মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। 

তিনি বলেন,  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কোনো ভাবেই সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন না করে সেটা খেয়াল রাখা উচিৎ। এক্ষেত্রে আমাদের গণমাধ্যমের যে সকল প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোকে শক্তিশালী করা উচিৎ এবং প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করা দরকার। এছাড়া ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে যারা জঙ্গিবাদী কার্যক্রম করে তাদের বিষয়টা খুবই শক্তভাবে দেখা উচিৎ। মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাগুলোতে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করা যেতে পারে যাতে করে এ বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তাদের মতামত নিতে পারেন আদালত। যাতে এই মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তি করা যায়।