ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শনিবার, ০৩:৫৯ পিএম
‘উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের অভিযানে খুব ভালো করছে তারই স্বীকৃতি হিসেবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আমরা। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশ আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে।

উন্নয়নশীল দেশে উন্নিত হওয়ার সুযোগ-সুবিধা ও চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ড. আতিউর রহমান। পাঠকদের জন্য ড. আতিউর রহমানের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান। 

ড. আতিউর রহমান বলেন, সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ পৃথিবীতে প্রথম দেশ যে দেশ পরপর দুবার ৩টি সূচকেই ভালো করেছে। যে পরিমাণ মাথাপিছু আয় থাকা উচিৎ তারচেয়ে অনেক বেশি আমাদের মাথাপিছু আয়। মানব সম্পদ উন্নয়নের মানদণ্ডের টেকসহ ক্ষমতায় আমরা অনেক এগিয়ে। অন্য কোনো স্বল্পন্নোত দেশ সবগুলো সূচকে পরপর দুবার সাফল্য দেখাতে পারেনি। সবচেয়ে বড় কথা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যে সুযোগ সুবিধা সেটা আমরা ২০২৬ সাল পর্যন্ত পেতে থাকবো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের আরও ৩ বছর সময় বেশি দেবে। 

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশ কি ধরনের সুযোগা-সুবিধা পাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর ফলে আমাদের মর্যাদা বাড়বে এবং আমরা আর গরিব দেশ না। এটা আমাদের জন্য গর্ভের বিষয়। একটা সময় বাংলাদেশকে বলা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি কিন্তু এখন আর সেই কথা কেই বলতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, এই রূপান্ত হওয়ার পরেই বাংলাদেশের বিনিয়োগ ঋণ মানের উন্নতি হবে এবং বিদেশিরা ভাববে যে বাংলাদেশ আর স্বল্পন্নোত দেশ না কাজেই সেই বিবেচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে। আর এই জায়গায় আসার জন্য আমাদের অনেক সক্ষমতা দেখাতে হয়েছে। 

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় কি ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব সম্পদ আহরণের ক্ষমতা বাড়াতে হবে, রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের। এ ছাড়া আমরা বিদেশি যে ঋণ পাব সেখানে সুদের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে এবং ইতিমধ্যে বাড়া শুরু করেছে কিন্তু সেটা খুবই সামান্য। আমাদের যে সাফল্য সেটা যদি ধরে রাখা যায় তাহলে অনেক দেশই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য উৎসাহি হবে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটা পজিটিভ ইমেজ তৈরি হবে। আর এসবের পেছনে বড় ভূমিকা ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। আর এক্ষেত্রে বড় সমর্থন এসেছে সরকারের ধারাবাহিকতা এবং যুগান্তকারী অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত।