ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘কঠোর লকডাউনের আগে নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২১ শুক্রবার, ০৩:৫৭ পিএম
‘কঠোর লকডাউনের আগে নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, করোনা মোকাবেলায় কঠোরভাবে লকডাউন দেয়ার আগে নিত্যপণ্য ও খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে করোনা মারতে গিয়ে মানুষ মারা পড়বে এবং এভাবে একটা সময় পর মানুষ লকডাউন মানবে না।

কারফিউ আদলে লকডাউনের পরিকল্পনা এবং চলমান করোনা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। পাঠকদের জন্য ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান।

এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন,  করোনা মোকাবেলা এখন উভয় সংকটে রূপ নিয়েছে। একদিকে লকডাউন দরকার অন্যদিকে মানুষের নিত্যপণ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা করা দরকার। এ কারণে সীমিত আকারে দোকানপাট, গণপরিবহন খুলে দিয়ে একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। সাধারণ মানুষের অনেক জরুরি প্রয়োজনীয়তা থাকে যেগুলো না হলে মানুষ ঘরে থাকতে পারবে না। এ ছাড়া অনেকে রমজান, পহেলা বৈশাখ এবং ঈদের জন্য কিছু কেনাকাটার দরকার পূরণ করবেন। তবে কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে খারাপের দিকে গেলে কঠোর বিধিনিষেধের দিকে যেতে হবে। আর এর আগে মানুষের নিত্যপণ্য ও জুরুরি সেবাগুলো নিশ্চিত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার সময় এখন। তবে কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপার শিথিল করা যাবে না।

করোনার নতুন ধরনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনও আসেনি। তাই আগে যে ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে সেই চিকিৎসা এক্ষেত্রেও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা যারা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত তারা হপিয়ে যাচ্ছি। এতো পরিমাণ রোগী আসছে যা সামাল দেয়া কঠিন। ফলে লকডাউন হোক আর কঠোর বিধিনিষেধ হোক করোনা সংক্রমণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের যে চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে সেটি অত্যান্ত ‍ উচু মানের। যদিও বাড়তি রোগীর জন্য বেড কিংবা আইসিইউ এর ব্যবস্থা করাটা কঠিন, তবে রাতারাতিতো আর হাসপাতাল বানানো যাবে না। তাই সংক্রমণ কমানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু দেশে করোনা মোকাবেলার সব ধরনের অবকাঠামো, ভালো হাসপাতাল, চিকিৎসা ব্যবস্থা, টিকাদান কর্মসূচি চলমান এবং টিকার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে আমাদের এখন দরকার হলো সচেতনতা। সচেতন হতে হবে ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য। এ ছাড়া ভ্যাকসিনের বিকল্প হিসেবে তিনটি কাজ অবশ্যই করতে হবে। মাস্ক পড়তে হবে, সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে এবং হাত ধোঁয়াটা চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টা গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।