ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘কঠোর লকডাউনের আগে দরিদ্রদের খাদ্য সহায়তার প্রস্তুতি জরুরি’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২১ শনিবার, ০৩:৫৮ পিএম
‘কঠোর লকডাউনের আগে দরিদ্রদের খাদ্য সহায়তার প্রস্তুতি জরুরি’

অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেছেন, এবার কঠোর লকডাউন হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে আর এই ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের মানুষ। এজন্য দরিদ্র দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা রাখা জরুরি। তাদের খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা না থাকলে একটা সময় পর এদের ঘরে রাখা যাবে না, জীবিকার তাগিদে বাইরে চলে আসবে।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে কঠোর লকডাউনের অর্থনৈতিক প্রভাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলপচারিতায় এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজ (বিআইডিএস) এর জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, প্রথম ধাপে করোনা মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতি যখন দাঁড়াচ্ছে ঠিক তখন দ্বিতীয় ধাক্কা। লকডাউন যদি দীর্ঘমেয়াদী হয় তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষ লকডাউন মানবে না। জীবিকার জন্য বাইরে বেড়িয়ে আসবে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে করে লকডাউনের যেমন প্রয়োজন তেমনি মানুষের জীবিকারও প্রয়োজন। যখন ঘরের খাবার শেষ হয়ে যাবে তখন কোনোভাবেই মানুষকে লকডাউন মানানো যাবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনে না গিয়ে কিছুদিন কঠোর লকডাউন দিয়ে যদি সংক্রমণ কমে তখন কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার দিকে জোর দিতে হবে যাতে অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও চাপ কমে। গতবারের লকডাউনের আগে মানুষের কিছুটা সঞ্চয় ছিলো। যার কারণে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার এসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

লকডাউনে বেড়াতে যাওয়া কিংবা গ্রামে চলে যাওয়া ঠেকাতে প্রস্তুতি রাখতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, লকডাউনে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলো কিন্তু মানুষ গ্রামমুখী হওয়া ঠেকানো গেলো না, এটা হতে দেয়া যাবে না। তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। কারণ ঢাকার তুলনায় গ্রামে করোনা সংক্রমণ কম। কিন্তু শহরের মানুষ যদি গ্রামে চলে যায় তাহলে এদের থেকে গ্রামের মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবে। এভাবে সারাদেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। আর এটা যদি ঠেকানো না যায় তাহালে লকডাউনে শুধু অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এবারের লকডাউনে অর্থনৈতিক প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত প্রণোদনায় যাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের লোকসান হয়েছে তাদের ঘুড়ে দাঁড়ানোর জন্য সহজ নিয়মে স্টাটাপ ক্যাপিটালের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন এনজিও, এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিকসহ এই ধরনের সংস্থার মাধ্যমে বিতরণ করতে হবে। যদিও কিছুটা দুর্নীতি হবে কিন্তু ওই মানুষগুলোর হাতে কিছুটা হলেও অর্থ পৌঁছবে। যেহেতু তাদের ব্যবসা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে তাই তারা কোনো ব্যাংক ঋণের সুযোগ পায়নি। ফলে এটি তাদের জন্য কাজে দেবে।