ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘দুই সপ্তাহের জন্য মানুষকে গৃহবন্দী করতে হবে’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২১ রবিবার, ০৪:০০ পিএম
‘দুই সপ্তাহের জন্য মানুষকে গৃহবন্দী করতে হবে’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সলান বলেছেন, করোনা সংক্রমণ কমাতে হলে মানুষকে দুই সপ্তাহের জন্য গৃহবন্দী করতে হবে। যদি সবাইকে দুই সম্পাহের জন্য গৃহবন্ধী করা যায় তাহলে করোনা সংক্রমণ কমবে এবং লকডাউনের উদ্দেশ্য সফল হবে।

কঠোর লকডাউনের সম্ভাবনা, চলমান করোনা পরিস্থিতি এবং করোনা চিকিৎসার বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ডা. ইকবাল আর্সলান। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান।

ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিলো এবং পরবর্তীতে লকডাউন শিথিল করা হয়। আর এ কারণে সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে লকডাউন দিয়েছিলো সেটা সফল হয়নি এবং করোনা সংক্রমণ কমেনি। করোনা সংক্রমণ কমাতে হলে লকডাউনের সঙ্গে কোনো বিশেষণ যুক্ত করা যাবে না। যেমন শিথিল লকডাউন, কঠোর লকডাউন বলতে কিছু থাকবে না। শুধু একটাই ওয়ার্ড সেটা হচ্ছে ‘লকডাউন’। আর এটা করতে হবে সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে। আর এজন্য জনগণকে এক জায়গায় স্থির রাখতে হবে। গ্রামে যাওয়া, বেড়াতে যাওয়া কিংবা ভ্রমণ করতে দেয়া যাবে না। সবাইকে ঘরে থাকতে বাধ্য করতে হবে, আবদ্ধ থাকতে বাধ্য করতে হবে যাতে সংক্রমণ কমে আসে।

তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় এখন যে সিদ্ধান্তই নেয়া হোক না কেন সেই সিদ্ধান্তকে ধারন করতে হবে। না হলে শুধু বলা জন্য বলা, করার জন্য করা এমন মনোভাবে হলে কঠোর লকডাউন বা যাই দেয়া হোক না কেন সেগুলো কোনো কাজে আসবে না। এখন পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তার সবকিছু জনগণকে জানিয়ে তাদের মধ্যে করোনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সিরিয়াসনেস আনতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে পরিস্থিতি কতোটা খারাপ। সাধারণ মানুষ নিজেরাই যখন বুঝবে যে পরিস্থিতি খারাপ তখন তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য হলে্ মানুষকে এক জায়গায় আবদ্ধ রখা কিন্তু তা যদি না করা যায় হালে এই লকডাউন কোনো কাজেই আসবে না। 

হাসপাতালের অবকাঠামো যতোই বৃদ্ধি করা হোক তা কোনো কাজে আসবে না জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন যে হারে রোগী সংক্রমিত হচ্ছে সেই তুলনায় হাসপাতালের অবকাঠামো বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। এজন্য একটাই সমাধান আর তা হলো সংক্রমণ কমাতে হবে। সংক্রমণ কমলে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে এবং যে অবকাঠামো আছে তা দিয়ে চিকিৎসা কর্যক্রম চালিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্মুখযোদ্ধাদের সবার আগে টিকা দেয়া দরকার। বিশেষ করে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ, মাঠ প্রশাসনসহ যারা করোনা মোকাবেলায় সামনে থেকে ভূমিকা রাখবেন তাদেরকে সবার আগে নিরাপদ থাকা দরকার। তারা যদি দ্বিতীয় ডোজের টিকা পান তাহলে তাদের মনোবল অনেক বাড়বে এবং তারা সামনে থেকে করোনা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারবেন।