ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোরভাবে লকডাউন মানতে বাধ্য করতে হবে’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২১ মঙ্গলবার, ০৩:৫৮ পিএম
‘সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোরভাবে লকডাউন মানতে বাধ্য করতে হবে’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, করোনা সংক্রমণ না কমলে হাসপাতালের অবকাঠামো কিংবা আইসিইউ বেডের সংখ্যা বাড়িয়ে কোনো কাজে আসবে না। সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন মানতে বাধ্য করতে হবে।

চলমান করোনা পরিস্থিতি, কঠোর লকডাউন এবং করোনা চিকিৎসার বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। পাঠকদের জন্য ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান। 

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এখন বিভিন্ন মহলে কথা উঠছে যে দেশে আইসিইউ এর সংকট। কিন্তু কেউ কি একবার ভেবে দেখেছেন যে রাতারাতি আইসিইউ তৈরি করা যায় না। এ ছাড়া আইসিইউ তৈরির জন্য যেসব যন্ত্রাংশ দরকার হয় সেগুলো বিদেশ থেকে আনতে হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যেসব দেশ থেকে আইসিইউ যন্ত্রাংশ আনা হবে সেসব দেশের পরিস্থিতিও খারাপ। ফলে এসব যন্ত্রপাতি আনা কঠিন। এ ছাড়া আইসিইউ এর জন্য বাড়তি জায়গা, ম্যানেজমেন্ট করার জন্য প্রশিক্ষিত লোকবল দরকার যা হঠাৎ করেই ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না। তাই আইসিইউ বেড নয়, করোনা সংক্রমণ কমানোর দিকেই বেশি মনোযোগী হওয়ার দরকার। যদিও কিছু কিছু জায়গায় করোনা চিকিৎসার অবকাঠামো এবং আইসিইউ বেড বাড়ানো হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এবারের লকডাউন যেন শুধু বলার জন্য বলা না হয় যে কঠোর লকডাউন। এই লকডাউন যেন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। কঠোরভাবে যদি লকডাউন বাস্তবায়ন না করা যায় তাহলে এর কোনো কাজেই আসবে না। এজন্য এখন থেকে মাঠ প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে রাস্তাঘাটে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করার ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষকে কঠোরভাবে বিধিনিষেধের মধ্যে এনে লকডাউন মানতে বাধ্য করতেই হবে।

করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু দেশে করোনা মোকাবেলার সব ধরনের অবকাঠামো, ভালো হাসপাতাল, চিকিৎসা ব্যবস্থা, টিকাদান কর্মসূচি চলমান এবং টিকার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে আমাদের এখন দরকার হলো সচেতনতা। সচেতন হতে হবে ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য। এ ছাড়া ভ্যাকসিনের বিকল্প হিসেবে তিনটি কাজ অবশ্যই করতে হবে। মাস্ক পড়তে হবে, সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে এবং হাত ধোঁয়াটা চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টা গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।