ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘ভোটে জিততে বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন অমিত শাহ` 

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২১ বুধবার, ০৩:৫৯ পিএম
‘ভোটে জিততে বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন অমিত শাহ` 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের চলমান নির্বাচনে জেতার জন্য অমিত শাহ বাংলাদেশ বিরোধী অরুচিকর কথা বলেছেন। অমিত শাহ যা বলেছেন সব মিথ্যা কথা এবং তার মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তির এ ধরনের কথা গ্রহণযোগ্য না।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ`র বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও পশ্চিমবঙ্গের চলমান রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ড. তারেক শামসুর রেহমান। পাঠকদের জন্য ড. তারেক শামসুর রেহমানের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান।

ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন এবং অগ্রগতিতে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। আমাদের কাছে আন্তর্জাতিক অনেক পরিসংখ্যান আছে যেখানে দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো সূচকে বাংলাদেশ ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। আর এই কথা সমর্থন করছেন খোদ ভারতীয় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। সুতরাং অমিত শাহ যেসব কথা বলেছেন সব মিথ্যা কথা।

তিনি বলেন, অমিত শাহ এর আগেও বাংলাদেশের মানুষকে উইপোকা বলেছিলেন এবং এবার আনন্দবাজারকে তিনি বলেছেন বাংলাদেশের মানুষ খেতে পায় না, টয়লেট নাই ইত্যাদি। আর এসব কথা তিনি যদি ধারাবাহিকভাবে বলতে থাকেন তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি প্রভাব পড়বে। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ৮ ধাপে হবে। আর অমিত শাহ এই কথাগুলো এমন একটা সময় বলছেন যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মেদি বাংলাদেশ সফর করে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন। আর এই সময়ে ভারতের সাথে ৫০ বছরের সম্পর্কের সর্বোচ্চ উচ্চতায় এখন দুদেশের সম্পর্ক।

ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, অমিত শাহ যদিও নির্বাচনে জয়ের জন্য এসব কথা বলেছেন কিন্তু এগুলো মিথ্যা কথা। আর তার মতো একজন ব্যক্তি এ ধরনের মিথ্যা কথা বলতে পারেন না। যদিও বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় মৌলবাদকে সামনে রেখে নির্বাচনে জয়লাভ করতে চাইছে কিন্তু সেখানে বাংলাদেশকে ব্যবহার করা এবং বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করাটা অনভিপ্রেত। অমিত শাহ’র এই বক্তব্যে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে অমিত শাহ যদি ধারাবাহিকভাবে এসব কথা বলতে থাকেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে। আর এই বিষয়টি খোদ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে এসে বলেছেন। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মুখে এ ধরনের কথা মানায় না। এমনিতেই বিজেপি ভারতের রাজনীতিতে ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রাধান্য দিচ্ছে কিন্তু এই সময়ে আনন্দবাজার পক্রিকায় দেয়া অমিত শাহ`র মিথ্যা বক্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিষয়: অমিত-শাহ