ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যাপারে পুলিশের আরও সতর্ক হওয়া দরকার`

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৪:০০ পিএম
`চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যাপারে পুলিশের আরও সতর্ক হওয়া দরকার`

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেছেন, চলমান কঠোর লকডাউনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। এজন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত তাদেরকে চ্যালেঞ্জ না করা। যদিও প্রথম দিনের লকডাউনে অনেক চিকিৎসককে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে এবং জরিমানাও গুনতে হয়েছে। তবে ‌চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও উচিত যথাযথ পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া।

চলমান করোনা পরিস্থিতি, কঠোর লকডাউন এবং করোনা চিকিৎসার বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ডা. এম এ আজিজ। পাঠকদের জন্য ডা. এম এ আজিজের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান। 

ডা. এম এ আজিজ বলেন, সরকার এবার যে ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সেটা মানা হলেও লকডাউন হবে। আর নির্দেশনা মানানোর জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এবারের এই লকডাউন যে কঠোরভাবে মানা হচ্ছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে লকডাউনের প্রথম দিনে অনেক চিকিৎসককেও পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। এভাবে যদি কিছুদিন কঠোর বিধিনিষেধ এবং স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে মানুষকে রাখা যায় তাহলে সংক্রমণ কমে আসবে। আর সংক্রমণ কমে আসলে লকডাউন কমিয়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানানোর দিকে জোর দিতে হবে।

প্রথম দিনের লকডাউনে চিতিৎসকদের সঙ্গে পুলিশের মুভমেন্ট পাস নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে সেটার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম দিনের লকডাউনে চিকিৎসকদের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আর এ কারণে কয়েকজন চিকিৎসককে জরিমানাও করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের পরিচয়পত্র দেখাতে পারেন তাহলে তার কোনো জরিমানা হবে না যেমনটা হয় গণমাধ্যম কর্মীদের ক্ষেত্রে। 

ডা. এম এ আজিজ বলেন, মাঠ প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসন যারা লকডাউন বাস্তবায়ন করবেন তারা যাতে নিরাপদ থাকেন সেজন্য তাদের স্বাস্থ্যবিধি, ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ এবং থাকার জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং নিরাপদে থাকার বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। তারা নিজেরা যদি সুরক্ষিত না থাকে তাহলে অন্যদের সুরক্ষার দায়িত্ব তারা কীভাবে নেবে। তাদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দিলে তাদের আক্রান্তের ঝুঁকি কম থাকবে এবং নিরাপদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা যতই হাসপাতালের অবকাঠামো বৃদ্ধির কথা বলি কিন্তু এটা কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। সংক্রমণ যদি কমানো না যায় তাহলে যতই হাসপাতালের বেডের সংখ্যা বাড়ানো হোক সেটা কোনো কাজে দেবে না। এখন বাসায় থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। নিয়মিত হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যবিধি মানা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। আমরা নিজেরা যদি সচেতন না হই তাহলে করোনা মোকাবেলায় সফলতা কঠিন। তবে সরকার ইতিমধ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, টিকা ব্যবস্থাপনাসহ সব ধরনের কার্যক্রমে অনেক এগিয়ে বলে মনে করেন এই চিকিৎসক নেতা