ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘৮০ শতাংশ করোনা রোগীর হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২১ শনিবার, ০৪:০০ পিএম
‘৮০ শতাংশ করোনা রোগীর হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘৮০ শতাংশ করোনা রোগীর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। বাসায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিলেই সুস্থ হবেন। তবে করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার। 

চলমান করোনা পরিস্থিতি এবং ঘরে করোনা চিকিৎসার বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন  ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান। 

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, দেশে যে হারে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে সেই তুলনায় পরীক্ষা কম হচ্ছে। আর পরীক্ষা কম হওয়ার কারণে মনে হচ্ছে আক্রান্তে সংখ্যা কম। আর এতে করে মানুষের মধ্যে আরও ঢিলেমি ভাব চলে আসবে। বিশেষ করে করোনা পরীক্ষার প্রতি জোর দেয়া উচিৎ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যখন রোগীর পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়, অক্সিজেনের অভাব হয় তখন হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। কিন্তু তখন অবস্থা কঠিন থাকে ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই যখন উপসর্গ মনে হবে তখনই পরীক্ষা করানো দরকার। 

তিনি বলেন, এখন একদিকে যেমন জীবন বাঁচাতে হবে অন্যদিকে জীবিকা বাঁচাতে হবে। না হলে নিম্ন আয়ের মানুষ ঘরে থাকবে না এবং বাইরে চলে আসবে। তাই স্বাস্থ্যবিধির ওপর জোর দিয়ে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে করোনার প্রকৃত চিত্র মানুষের কাছে তুলে ধরার দরকার। এতে করে মানুষের মধ্যে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারনা হবে। এমনিতেই মানুষের মধ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে কোনো ধরনের সিরিয়াসনেস নেই তার ওপর যদি পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে প্রকৃত আক্রান্তে সংখ্যা জানানো না হয় তাহলে মানুষ আরও উদাসীন হবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। যদিও এখন অনেকে হাসপাতালে যাচ্ছেন না আবার অনেকে আক্রান্তের বিষয়টি জানতেও চান। কারণ সবাই তাকে আলাদা রাখবে, চিকিৎসা নিতে হবে ইত্যাদি ভেবে। আর এ কারণে প্রাণহানী বাড়ছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।

করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু দেশে করোনা মোকাবেলার সব ধরনের অবকাঠামো, ভালো হাসপাতাল, চিকিৎসা ব্যবস্থা, টিকাদান কর্মসূচি চলমান এবং টিকার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে আমাদের এখন দরকার হলো সচেতনতা। সচেতন হতে হবে ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য। এ ছাড়া ভ্যাকসিনের বিকল্প হিসেবে তিনটি কাজ অবশ্যই করতে হবে। মাস্ক পড়তে হবে, সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে এবং হাত ধোঁয়াটা চালু রাখতে হবে।