ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘করোনাকালে কৃষি অর্থনীতি সচল রাখতেই হবে’

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২১ মঙ্গলবার, ০৪:০১ পিএম
‘করোনাকালে কৃষি অর্থনীতি সচল রাখতেই হবে’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, করোনা পরবর্তী অর্থনীতির ধাক্কা সামাল দিতে আমাদের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিকে যেকোনোভাবে সচল রাখতে হবে। আর এ লক্ষ্যে সরকারকে কৃষি অর্থনীতির জন্য নানা ধরনের প্রণোদনা, ব্যাংক ঋণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এই সেক্টর সচল থাকলে করোনার প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলা করে অর্থনীতি দ্রুত দাঁড়িয়ে যাবে। 

চলমান লকডাউনে অর্থনীতির প্রভাব এবং লকডাউন পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। পাঠকদের জন্য ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান। 

করোনাকালে সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পখাত, কিছু প্রতিষ্ঠান এবং দোকানপাট ও শপিংমল খোলার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা একটি ভালো সিদ্ধান্ত এতে করে কিছুটা হলেও অর্থনীতির রিকভার হবে। এ ছাড়া এসব শিল্পের সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের বেশি সম্পৃক্ততা রয়েছে ফলে এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ফলে তাদের জীবিকারও একটা ব্যবস্থা থাকবে। আর এসব প্রতিষ্ঠান যদি একেবারে বন্ধ হয়ে যেত তাহলে এসব মানুষের আয়ের কোনো উৎস না থাকার ফলে তাদের জীবিকার ওপর অনেক বড় প্রভাব পড়তো এবং তারা বাইরে বেড়িয়ে আসতো।

অন্যান্য দেশে লকডাউনের সময় মানুষের আয়ের উৎসের ব্যবস্থা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকায় করোনাকালে ঘরে বসে ১৫ ডলার ভাতা সুবিধা পাচ্ছেন ফলে তারা কঠোরভাবে লকডাউন বা সামাজিক দূরত্ব মানছেন অন্যদিকে তাদের জীবিকার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে ৩৬ লাখ পরিবারের জন্য যে সহায়তা দেয়া হচ্ছে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য যা দিয়ে ঘরে বসে লকডাউন মাান সম্ভন নয়। কারোর সঙ্গে জীবন এবং জীবিকা দুইটা বিষয় জড়িত তাই বিষয়টা অনেক জটিল। ফলে কিছুট খোলা না রাখলে জীবিকার অবস্থা একেবারে স্তব্ধ হয়ে যাবে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের অর্থনীতি যেভাবে যাচ্ছে তাতে করোনার একটি ধাক্কা অবশ্যই লাগবে। তবে চলমান লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে সচল এবং বেগবান রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ করোনার পরে আমাদের অর্থনীতি স্বাভাবিক করতে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি একটি বড় ভূমিকা রাখবে। এর পাশাপাশি আমাদের ছোট ছোট শিল্প যাতে একেবারে বন্ধ হয়ে না যায় সেজন্যও সরকারকে এখন থেকেই নানাবিধ উদ্যোগ নিতে হবে। তবে যত পরিকল্পনাই করা হোক না কেন করোনা মোকাবেলা করে দ্রুত মৃত্যু ও সংক্রমণ কমাতে হবে। যত দ্রুত করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে তত দ্রুত দেশের অর্থনীতি সচল হওয়ার দিকে এগিয়ে যাবে। তবে এই মূহুর্তে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের যে ভেরিয়েন্ট সেটা আমাদের জন্য বাড়তি হুমকির কারণে ওই ভেরিয়েন্ট দ্রুত ছড়ায় তাই এই পরিস্থিতির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা জরুরি।