ঢাকা, রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`টিকা ছাড়া বাঁচার কোনো রাস্তা নেই`

মো. মাহমুদুল হাসান
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২১ রবিবার, ০৩:৫৯ পিএম
`টিকা ছাড়া বাঁচার কোনো রাস্তা নেই`

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, মাস্ক পরিধান করতে হবে, হাত ধোয়া চালু রাখতে হবে, শারীরিক দূরুত্ব বজায়ে রাখতে হবে আর চতুর্থ বিষয় হলো টিকার ব্যবস্থা জোড়েশোরে করতে হবে। গণটিকাটা করতে হবে। সবাইকে গণহারে টিকা দিতে না পারলে কিন্তু সমস্যা। টিকা ছাড়া বাঁচার কোনো রাস্তা নেই।

সম্প্রতি সীমান্তবর্তী এলাকায় করোনার প্রকোপ ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে, সংক্রমণের হার বেড়েছে, স্থানীয় প্রশাসন লকডাউন, গণটিকার ব্যবস্থা ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। পাঠকদের জন্য ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ`র সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, সীমান্ত এলাকায় করোনা বাড়ছে। যাতায়াত তো বন্ধ হচ্ছে না। বাস, কারসহ অন্যান্য যানবাহনে মানুষ যাচ্ছে, আসছে। কত লোকজন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে যাচ্ছে আবার কত লোকজন সেসব জেলাগুলো থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছে। ফলে এভাবেই ছড়াচ্ছে আরকি। যদিও সরকার অনেকগুলো সীমান্ত এলাকায় লাকডাউন দিয়েছে। তারপরও তো মেইনটেইন করতে পারছে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো জনগণতো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। মাস্ক পড়ে না, শারীরিক দূরুত্ব মানার বালাই নেই ইত্যাদি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আগে তো হতো না, ভালো ছিল। কিন্তু এখন গ্রামেও ভয়ানক আকারে ছড়াচ্ছে। সেসব এলাকায় অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানে না। অনেকে বিশ্বাসও করে না। করোনা যে আছে এটাও অনেকে স্বীকার করে না। এরকম ঘটনা তো ঘটছে।  

তিনি বলেন, মানুষ মাস্ক পড়ে না, হাত ধোয়ার চর্চা নেই, শারীরিক দূরুত্ব বলতে গেলে নেইই এখন আর। কেউ তো মেইনটেইন করছেন না। মেইনটেইন না করলে এটা তো হবেই। আর এ কারণেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। যেহেতু এটার থেকে বাঁচার তো আর কোনো রাস্তা নেই, সেহেতু টিকাই প্রতিরোধ। বিশেষ করে সীমান্তে যে হারে বাড়ছে। সেখানে তো হাসপাতাল, সুযোগ সুবিধা এগুলো তো কম। সেসব জায়গায় অক্সিজেন ক্রাইসিস, আইসিইউ কম, বেড কম, ফ্লোরে জায়গা দিয়ে কুলাতে পারছে না, অথচ রোগী বাড়ছে। ফলে এটার থেকে বাঁচার একমাত্র রাস্তা, আমাদের প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরিধান করতে হবে, হাত ধোয়া চালু রাখতে হবে, শারীরিক দূরুত্ব বজায়ে রাখতে হবে আর চতুর্থ বিষয় হলো টিকার ব্যবস্থা জোড়েশোরে করতে হবে। গণটিকাটা করতে হবে। সবাইকে গণহারে টিকা দিতে না পারলে কিন্তু সমস্যা। টিকা ছাড়া বাঁচার কোনো রাস্তা নেই।

তিনি বলেন, এখন যেগুলাে ছড়াচ্ছে সেগুলো ক্ষেত্রে সন্দেহ হচ্ছে যে, এগুলো ডেল্টা ভেরিয়েন্ট। অনেক জায়গায় তো ডেল্টা ভেরিয়েন্টই বেশি পাচ্ছে। এই ভেরিয়েন্ট দ্রুত ছড়ায়। যেকোনো বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করে। সেসব রোগীর হঠাৎ করেই সিরিয়াস হয়ে যায়, কিন্তু তার কোনো লক্ষণ নেই। অনেকের শ্বাসকষ্ট, কাশী এবং অক্সিজেন ফল করে এবং এটিই ছড়াচ্ছে বেশি। সেজন্য প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হলো সব থেকে জরুরী। এছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই। 

তিনি বলেন, এখন বর্ষার সময়ে ডেঙ্গু কিছু কিছু জায়গায় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় জমা পানিতে ডেঙ্গু মশা ডিম পারে। এই বর্ষার সময় এটি দ্রুত ছড়াবে এটির ভয় তো আছেই। এই করোনার মধ্যে এটি ঝুকিপূর্ণ তো বটেই। ডেঙ্গু আমরা জানি এটি মশার কামড়ে হয়। সুতরাং মশা নিধনের ব্যবস্থা যদি নেওয়া যায় তাহলেই ভালো হয়। করোনা তো অদৃশ্য শক্তি, যেটা বোঝা যায় না। সুতরাং ডেঙ্গুর বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।  নিজের ঘরবাড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ফুলের টবে বা বাথরুমে জমানো পানি না থাকে সেই দিকে নজর দিতে হবে। নিজের ঘরের আশেপাশের আঙ্গিনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশা যাতে কোনোভাবে ডিম পারতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। তাহলেই এটি থেকে আমরা সকলকে রক্ষা করতে পারবো।

বিষয়: করোনা , টিকা