ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে স্বাস্থ্য সেক্টরে মহা বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আছে`

মো. মাহমুদুল হাসান
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২১ মঙ্গলবার, ০৪:০০ পিএম
`করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে স্বাস্থ্য সেক্টরে মহা বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আছে`

স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেছেন, কোভিডের এই অবস্থায় যে জায়গায় হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে সেই জায়গায় ডেঙ্গু যদি এইভাবে বাড়তে থাকে এবং ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও যদি দেখা দেয় তাহলে আসলেই আমাদের দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরে একটা মহা বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আছে এবং আমাদের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও এটি আসলে মেইনটেইন করা সম্ভব হবে না। 

করোনার মধ্যে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি, করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে লকডাউনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ`র সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, লকডাউন কর্মসূচির মধ্যেও কোভিড নিয়ে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছে। এর ভেতরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। ডেঙ্গু রোগী দিন দিনই বাড়ছে। সব হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। আমার মনে হয়, কোভিডের এই অবস্থায় যে জায়গায় হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে সেই জায়গায় ডেঙ্গু যদি এইভাবে বাড়তে থাকে এবং ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও যদি দেখা দেয় তাহলে আসলেই আমাদের দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরে একটা মহা বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আছে এবং আমাদের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও এটি আসলে মেইনটেইন করা সম্ভব হবে না। একদিকে হাসপাতালে কোভিড, নন কোভিড রোগীর চিকিৎসা চলছে আবার যদি ডেঙ্গু রোগী বাড়তে থাকে এতে ডেঙ্গু ওয়ার্ড আলাদা করা একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়ে যাবে। এই যে কোভিড, নন কোভিড, ডেঙ্গু এগুলো হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় করা একটি চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। প্রাইভেট বা সরকারি হাসপাতাল কোনো হাসপাতালেই এইভাবে মেইনটেইন করা সম্ভব হবে না। 

তিনি বলেন, সেই প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি যে, এখানে আসলে সরকারকেও সীমিত রিসোর্সের মধ্যেই প্রস্তুতি নিতে হবে। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর ব্যবস্থাপনা কোভিডের পাশাপাশি করতে হবে একই সাথে এখানে জনসাধারণেরও দায়িত্ব অনেক। সেই জায়গায় জনসাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে এবং ডেঙ্গুর জন্য যে সমস্ত নির্দেশনা আছে যেমন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, বাড়িতে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, মশা নিধন ইত্যাদি মেনে চলা। সিটি করপোরেশনগুলো যেভাবে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এই মশা নিধন কর্মসূচিটা আরও ভালোভাবে চালানো। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো। এগুলো সিটি করপোরেশনেরও চালাতে হবে এবং জনসাধারণকেও সেগুলো মানতে হবে। তা না হলে আসলে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আছে। 

স্বাচিপ এর মহাসচিব বলেন, সংক্রামণ রোগের ক্ষেত্রে তিন সপ্তাহ লকডাউন হলে বৈজ্ঞানিকভাবে ভালো। কিন্তু জীবন জীবিকার কারণে আমাদের দুই সপ্তাহ দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি যেহেতু এই দুই সপ্তাহে এখন পর্যন্ত কোনো ওই রকম উন্নতি দেখতে পাচ্ছি না, সংক্রমণ বেড়েই যাচ্ছে, তারপরও আমরা আশা করেছিলাম দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষের দিকে একটু সফলতার মুখ দেখবো, হয়তো কিছুটা কমে আসবে কিন্তু সেটা দেখছি না। আবার সামনে ঈদ। এটাও মুসলমানদের একটি বড় উৎসব। এটা ধর্মীয় আবেগ, অনুভূতির ব্যাপার। সেখানে তাদের বিশাল একটি কর্মযজ্ঞ। যাওয়া, আসা, কোরবানী, জামাতে ঈদের নামাজ পড়া ইত্যাদি। এটি একটি চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমি মনে করি যে, এই ঈদুল আযহাটাও কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই বা একধরনের বিধিনিষেধের মধ্যেই করতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যদি শিথিলতাও থাকে তারপরও এই বিধিনিষেধের মধ্যেই ঈদটা করতে হবে। তাছাড়া বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আরও বেশি।