ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে`

মো. মাহমুদুল হাসান
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২১ শুক্রবার, ০৪:০০ পিএম
`জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে`

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, প্রশাসনকেও জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রচার প্রচারণাও চালাতে হবে। প্রয়োজনে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা নিয়েও করতে হবে। ১০০ ভাগ লোককে যদি মাস্কের আওতায় আনা যায় তাহলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। 

লকডাউন শিথিল, পশুর হাট শুরু হওয়া, স্বাস্থ্যবিধির নানা দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ`র সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, রাস্তাঘাটে যে যানযট। মানুষ ঝুঁকে পড়েছে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য। সব দোকানপাট থেকে শুরু করে সব কিছু খোলা। একটু তো ঝুঁকি আছেই। এই ১৪ দিনের লকডাউনে তো মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। আর শুধু লকডাউন দিয়ে তো এই সমস্যার সমাধান হবে না। লকডাউন তো দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যাপার না। অস্থায়ীভাবে কিছুটা উপকার হতে পারে। লকডাউন তো মাসের পর মাস রাখা যাবে না। জনগণের জন্য যেটা সব থেকে জরুরী ঈদও করবে কোরবানিও করবে এবং স্বাস্থ্যবিধি সব সময় মানতে হবে এবং এই বিষয়টার ওপরে জোর দিতে হবে বেশি। কোরবানির জন্য যে হাট বসবে সেই হাটগুলোতে যেনো দূরত্ব মেনে চলা হয়, স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়, হাটের আশপাশে সাবান পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। যারা ক্রেতা তারাও যেনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে যায়। তারা যেনো দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির পশু কেনে। বিভিন্ন জায়গায় যেনো ঘোরাফেরা না করে। 

তিনি বলেন, ক্রেতারা চাইলেই এই করোনাকালে অনলাইনেও তাদের কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারে। এইভাবে কোরবানিও চলবে ঈদও চলবে। ঈদের নামাজ নিয়েও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সবাইকে নামাজে যেতে মাস্ক পরিধান করতে হবে। এরপর কোরবানি করতে হবে। গ্রামে হয়তো দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব হয় কিন্তু শহরে দূরত্ব মেনে চলা কঠিন তারপরও করতে হবে। জবাই এর সময় কসাই থাকবে, তার সঙ্গে শ্রমিক থাকবে। তারাও যেনো স্বাস্থ্যবিধি মানে। যখন মাংস ভাগ বাটোয়ারা শুরু করবে তখন অনেক ফকির মিছকিন এবং গরীব লোকজনের লম্বা লাইন থাকে। এখানেও যেনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়, দূরুত্ব যেনো মেনে চলা হয়, মাস্ক যেনো সবাই পরে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেন, আর একটি জিনিষ ভালো হয় যারা যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ উদযাপন করুন। ঈদের জামায়াত আদায় করতে হবে কোরবানিও আদায় করতে হবে। একটি পশু কোরবানী করা ওয়াজিব। একটি কোরবানি দিয়ে যেগুলো বেশি আছে সেই পশুর টাকাগুলো গরীব দুঃখী, যারা কর্মহীন তাদেরকে টাকাটা বন্টন করে দিতে পারেন। এই সময়ের অনেকের হাতে টাকা পয়সা নেই। অনেকের চাকরি নাই, অনেকে কর্মহীন বেকার। না খেয়ে অনেকেই আছে। এদের মধ্যে টাকাটা বিতরণ করে দিতে পারলে তারা উপকৃত হবে। আর যারা কোরবানি দিবে তারা যদি শহরে কোরবানি দিতে না পারেন তাহলে গ্রামের বাড়িতে বন্ধুবান্ধব আছে তাদের কাছে পাঠাতে পারেন। কোরবানিটা গ্রামে দিতে পারেন। অনেক মানুষ আছে নিঃস্ব, কর্মহীন, দরিদ্র। তাদের মধ্যে যদি কোরবানির মাংসটা বিলিয়ে দেওয়া যায় তাহলে কোরবানির যে সত্যিকারের মাহত্ব সেটাই প্রকাশ পাবে। এতে করে তারাও একটু খেলো। তারা তো আর সারা বছর খেতে পারবে না।

তিনি বলেন, করোনা তো মানুষের জনসমাগম এবং চলাচলে বাড়ে। সেই হিসেবে ঈদের পর করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারেই। সবার জন্য কঠোর কথা হলো লকডাউনে কিছু যায় আসে না। স্বাস্থ্যবিধি যেনো তারা মানে। এই স্বাস্থ্যবিধি যদি মেনে চলা হয় তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে না। আর যদি জনগণ ইচ্ছামতো চলে, গা ছাড়া ভাব, যা খুশি তাই করে তাহলে তো এটা কেউ ঠেকাতে পারবে না। এটা জনগণের ওপরে নির্ভর করে। এখানে প্রশাসনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। জনগণকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাকে সচেতন হতেই হবে। তারা যদি সচেতন না হয়, যা মনে চায় তাই করে তাহলে তো প্রশাসন ঠেকাতে পারবে না। এক্ষেত্রে জনগণের সম্পৃক্ততাটা খুব বেশি জরুরী। জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্য অবশ্যই মানতে হবে। মাস্ক পড়ার চর্চা, হাত ধোয়ার চর্চা করুক তাহলে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। প্রশাসনকেও জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রচার প্রচারণাও চালাতে হবে। প্রয়োজনে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা নিয়েও করতে হবে। ১০০ ভাগ লোককে যদি মাস্কের আওতায় আনা যায় তাহলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়া টিকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর থেকে বাঁচার একটাই রাস্তা স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং টিকা নেওয়া। সবাই যেনো টিকাটা নিয়ে নেন। সরকার টিকার প্রপ্যতার ভিত্তিতে বয়সসীমা কমিয়ে আনবে। যত টিকা পাওয়া যাবে ততো বয়সসীমা কমে আসবে। টিকা নেয়াটা জরুরী।